Published : 27 Apr 2026, 07:57 AM
‘মুভ অন’ ব্যাপারটি এই সময়ে বেশি ব্যবহৃত হয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলের ক্ষেত্রে লিটন কুমার দাসের ব্যাপারটিও সেরকমই। দলের সঙ্গে তার সংযোগ ছিল নিবিড়, গত বিশ্বকাপ ঘিরে আশার পারদ ছিল চূড়ায়। কিন্তু সেই বিশ্বকাপে খেলতেই পারেনি বাংলাদেশ। লিটনের হতাশাও ছিল স্পষ্ট। তবে জীবন তো বহতা নদীর মতো। লিটন জানালেন, গত বিশ্বকাপে খেলতে না পারার হতাশা থেকে তারা ‘মুভ অন’ করেছেন।
সামনে তাকানো মানেই নতুন কোনো লক্ষ্যের পানে ছুটে চলা। সেখানেই বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ এখন নিউ জিল্যান্ড। তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথমটি চট্টগামে শুরু সোমবার দুপুর ২টায়।
এই দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সত্যিকারের কার্যকারিতা খুঁজে পাওয়া কঠিন। বাংলাদেশের প্রাপ্তি ও তৃপ্তি সেখানেই। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ব্যাপারটি মিশে আছে বিশ্বকাপ থেকে বিশ্বকাপে। দুই বছর পরপরই এই সংস্করণের বিশ্ব আসর। একটি আসর শেষেই তা নতুন আসরের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। সেটি প্রত্যোক্ষ হোক বা পরোক্ষ। বাংলাদেশও সেই পথেরই পথিক।
নানা ঘটনাপ্রবাহ, বিতর্ক আর তোলপাড়ে মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত গত বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেনি বাংলাদেশ। ক্রিকেটারদের অনেকেই তাতে মুষড়ে পড়েছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন অধিনায়ক লিটনও। ছন্নছাড়া দলটিকে দারুণভাবে গুছিয়ে নিয়ে বিশ্ব্ আসরের জন্য তৈরি করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই দল ফেব্রুয়ারি-মার্চে বিশ্বকাপের সময় ছিল অসহায় দর্শকের ভূমিকায়।
গত বিশ্বকাপের আশার অপমৃত্যুর পর বাংলাদেশ এখন শুরু করছে আগামী বিশ্বকাপের দল গোছানোর পালা। অধিনায়ক লিটনের আশা, কিউইকের হারিয়েই সেই পথচলা শুরু করা যাবে।
“আমার মনে হয় অবশ্যই মুভ অন করেছে (বিশ্বকাপ থেকে)। বিশ্বকাপের ওই সময়টাতে আমরা একটা টুর্নামেন্টও খেলেছি, যেখানে ক্রিকেটাররা চেষ্টা করেছে ভালো ক্রিকেট খেলার। সবচেয়ে বড় জিনিস, যেহেতু এটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ, প্রত্যেকটা ম্যাচই প্রত্যেক ক্রিকেটারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় তারা ওভাবেই চিন্তা করবে এবং বাংলাদেশের হয়ে খেলার জন্য যা যা করণীয়, যে জয়ী মানসিকতা দরকার, সেটা নিয়ে মাঠে নামবে।”
বিশ্বকাপে না খেলায় টি-টোয়েন্টি বড় একটা বিরতি পড়ে গেছে।। ৫ মাস পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলবেন লিটনরা। আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যৌথভাবে হবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডে। সেখানে কন্ডশন পুরোপুরি ভিন্ন, দলীয় পরিকল্পনাও তাই হতে হবে আলাদা।
লিটন অবশ্যই এখনই দলকে এত কিছু ভাবতে দিতে চান না, বরং দলকে মুক্তভাবে শ্বাস নেওয়ার ফুরসত করে দিতে চান তারা।
“অনেকদিন পর আমরা আবার টি-টোয়েন্টি সংস্করণে খেলছি। প্রথম দিকে আমরা কোনো বাড়তি চাপ দিতে চাচ্ছি না। দুই-একটা ম্যাচ খেললে যে যার জায়গা থেকে অটোমেটিক বুঝতে পারবে। কারণ এখানে সেটআপেরও বিষয় আছে। ভালো দিক হলো, এই বছরের ৯ টি-টোয়েন্টি, ৩টি সিরিজই ভালো দলের সঙ্গে এবং ব্যাক টু ব্যাক সিরিজ আছে। এটা একটা ইতিবাচক ব্যাপার যে, একবার খেললে পরের সিরিজটাও আমাদের জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ হয়ে যাবে।”
নিউ জিল্যান্ড এই সিরিজে দল গড়েছে বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের শীর্ষ ১৬-১৭ ক্রিকেটার ছাড়াই। তবে নাম, ঐতিহ্য ও পেশাদারিত্বের কারণেই কিউইদের প্রতি সমীহের কমতি নেই বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটনের।
‘প্রথমত, নিউ জিল্যান্ড বড় দল। যদি বিশ্ব ক্রিকেটে চিন্তা করেন, তাদের রেকর্ড সবসময় উঁচুতে থাকে। গত বিশ্বকাপেও সেমি-ফাইনাল (ফাইনালে) খেলেছে টি-টোয়েন্টিতে। হয়তো তারাও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার চেষ্টা করছে, কিছু নতুন ক্রিকেটার এনেছে। যখন একটা দেশ বড় নাম হয়, তাদের নিশ্চয়ই কোনো না কোনো সম্ভাবনা আছে। সংস্করণই এমন যে, দুটি ব্যাটসম্যান দুটি বোলার (ভালো) খেলে দিলেই আপনি জিতে যাবেন। আমাদের চেষ্টা থাকবে, যেভাবে আমরা এতদিন ধরে অন্যান্য দলের সঙ্গে খেলে আসছি, সেভাবেই থাকবে এবং আমাদের সেরা ক্রিকেটই খেলতে হবে।”
লিটনের এই মন্তব্যর সঙ্গে একমত টম ল্যাথামও। নিউ জিল্যান্ড অধিনায়কেরও বিশ্বাস, যে কোনো দু-একজনের খেলা জ্বলে উঠলেই ম্যাচের ভাগ্য গড়া হয়ে যেতে পারে।
“টি-টোয়েন্টিতে কখনও কখনও একজন ক্রিকেটারের দুর্দান্ত একটি দিনই যথেষ্ট এবং কয়েক ওভারের মধ্যেই খেলা হাত থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। এটা স্পষ্ট, যে সংস্করণ যত দীর্ঘ হয়, খেলার মোড় ঘোরাতে তত বেশি সময় লাগে। কিন্তু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটা দ্রুত ঘটতে পারে, হতে পারে এক ওভারে, হতে পারে দুই বলে, খেলার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে মূল বিষয় হলো নিজেদেরকে এমন পরিস্থিতিতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা, যেখানে আমরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারি এবং যখন সুযোগ আসবে, তখন খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো মুহূর্ত তৈরি করতে পারি।”
“টি-টোয়েন্টি মানেই হলো ম্যাচ উইনার এবং এমন ক্রিকেটার, যারা মাঠে নেমে নিজেদের মেলে ধরে এবং তা করার আত্মবিশ্বাস রাখে। আমরা ছেলেদের সেই সমর্থনটুকুই দেওয়ার চেষ্টা করি, সেই বিশ্বাসটুকু দিই যে, তারা মাঠে নেমে তাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারবে এবং যতটা সম্ভব নিজেদের মেলে ধরতে পারবে। আমরা জানি, যদি আমরা তা করতে পারি, তাহলে ম্যাচ জেতার মতো অবস্থানে নিজেদেরকে নিয়ে যেতে পারব।”