১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

তানভিরের ৭ উইকেট, সৌম্যর ৫০০, আল আমিনের সেঞ্চুরি

প্রথথম ইনিংমে ১৮৬ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪ রান করে ম্যান অব দা ম্যাচ হয়েছেন সৌম্য সরকার।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Nov 2025, 06:35 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:11 PM

জাতীয় ক্রিকেট লিগের পঞ্চম রাউন্ডের শেষ দিনে তানভির ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ঢাকা বিভাগকে হারিয়েছে বরিশাল বিভাগ। আরেকটি ম্যাচ ড্র হয়েছে অনুমিতভাবেই। শেষ দিনে সেঞ্চুরি করেছেন আল আমিন। এই ম্যাচেই প্রথম ইনিংসে ১৮৬ রান করা সৌম্য সরকার দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪ রান করে এবারের লিগের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ছুঁয়েছেন ৫০০ রান। 

অপ্রতিরোধ্য তানভির

আগের দিন ঢাকা বিভাগের পাঁচ উইকেটের দুটি নিয়েছিলেন তানভির ইসলাম। শেষ দিনে বাকি পাঁচ উইকেটের সবকটি নিয়ে ধস নামান তিনি ঢাকার ব্যাটিংয়ে। অধিনায়কের দারুণ বোলিংয়ের পথ ধরে বরিশাল বিভাগ জিতে যায় ৬ উইকেটে।

কক্সবাজারে ৫ উইকেটে ১২৪ রান নিয়ে দিন শুরু করে ঢাকা। আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান আশিকুর রহমান শিবলি ও সুমন খান দিনের প্রথম পাঁচ ওভার নিরাপদে কাটাতে পারেন। এরপরই তানভিরের একের পর এক ছোবল।

২৫ রান করা সুমনকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন তিনি। পরে থামান ৩০ রান করা শিবলিকে। এরপর লোয়ার অর্ডারে শেষ তিন উইকেট নিতেও বেশ সময় লাগেনি তার। 

২৭ রানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ঢাকা গুটিয়ে যায় ১৬৯ রানে। 

প্রথম ২২ ওভারে ২টি উকেট নিতে পারা তানভির পরের ৯ ওভারেই শিকার করেন ৫ উইকেট। ৬৪ রানে ৭ উইকেট নিয়ে থামেন তিনি। এটিও অবশ্য তার সেরা বোলিং নয়। ইনিংসে ৮ উইকেটও আছে এই বাঁহাতি স্পিনারের।

প্রথম ইনিংসে ৬৮ রানে এগিয়ে থাকা বরিশাল জয়ের লক্ষ্য পায় ১০২ রানের। উদ্বোধনী জুটিতে ৪১ রান এনে দেন ইফতিখার হোসেন ইফতি ও আদিল বিন সিদ্দিক। 

৩০ রান করে আদিল আউট হওয়ার পরের বলেই বিদায় নেন অভিজ্ঞ ফজলে মাহমুদ রাব্বি। আরেক অভিজ্ঞ সালমান হোসেন ইমনও টেকেননি বেশিক্ষণ।

বরিশাল পরে উইকেট হারায় আরও দুটি। তবে ওপেনার ইফতি এক প্রান্ত আগলে রেখে ৫৭ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে ফেরেন।

ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ তানভির। এবারের লিগে ৫ ম্যাচে ২৭ উইকেট নিয়ে তিনি উইকেট শিকারের শীর্ষে।

৫ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট তিনে আছে বরিশাল, স্রেফ ৮ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে ঢাকা। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

ঢাকা বিভাগ ১ম ইনিংস: ২৭৩

বরিশাল বিভাগ ১ম ইনিংস: ৩৪১

ঢাকা বিভাগ ২য় ইনিংস: ৭০ ওভারে ১৬৯ (আগের দিন ১২৫/৫)( শিবলি ৩০, সুমন ২৫, শাকিল ১২*, নাজমুল অপু ৭, সাকিল ০, আশরাফুল ৩; রাসেল ২-০-১১-০, মোজাম্মেল ১৪-৬-৩২-০, তানভির ৩১-৭-৬৪-৭, নোবেল ১৬-৩-৩৩-৩, সোহাগ ৭-২-৯-০)।

বরিশাল বিভাগ ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ১০২) ৩৪.৩ ওভারে ১০৭/৪ (আদিল ৩০, ইফতি ৫৭*, ফজলে মাহমুদ ০, সালমান ১৫, আব্দুল্লাহ ০, তাসামুল ৪*; সুমন ৯-০-৩১-১, নাজমুল অপু ১৩-৫-২৫-২, সাকিল ১-০-৪-০, আশরাফুল ৭-২-২৩-১, তাইবুর ৪.৩-০-২৩-০)।

আল আমিনের সেঞ্চুরি

তৃতীয় দিন শেষে দুই দলেরই রান ছিল সমান ৩৮৭। শেষ দিনে আল আমিন ও আরিফ আহমেদের দারুণ জুটিতে খুলনা বিভাগকে টপকে এগিয়ে যায় ময়মনসিং বিভাগ।

অষ্টম উইকেটে এই জুটি শতরান পেরিয়ে গিয়েছিল আগের দিনই। শেষ পর্যন্ত জুটি থামে ১৪৯ রানে।

৬২ রানে দিন শুরু করা আল আমিন অপরাজিত থাকেন ১০২ রানে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার পঞ্চম সেঞ্চুরি এটি।

দশে নামা আরিফ আউট হন ৯ চার ও ২ ছক্কায় ৮১ রান করে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার আগের সর্বোচ্চ ছিল ৩৭ রান।

৭২ রানে এগিয়ে থেকে ইনিংস ঘোষণা করে ময়মনসিংহ।

খুলনা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম বলেই হারায় এনামুল হককে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৪ সেঞ্চুরিতে ৯ হাজারের বেশি রান করা ব্যাটসম্যান এবারের লিগে ৫ ম্যাচেও কোনো ফিফটি পেলেন না। ১০ ইনিংসে তার রান ১৫.২০ গড়ে ১৫২।

ঠিক উল্টো চিত্র সৌম্যর। প্রথম ইনিংসে ১৮৬ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি করেন ৮ চারে ৪৪ রান। চলতি লিগের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে পা রাখেন তিনি ৫০০ রানের সীমানায়।

৫০০ ছুঁয়েই অবশ্য তিনি আউট হয়ে যান। তার সঙ্গে ৭০ রানের জুটি গড়া কালাম সিদ্দিকি ফেরেন ৩১ রানে।

১৬ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে প্রবল চাপে পড়ে যায় খুলনা। পঞ্চম উইকেটের যখন পতন হয়, তারা তখন এগিয়ে মাত্র ১৪ রানে। তবে আফিফ হোসেন ও জিয়াউর রহমান লড়াই করে নিশ্চিত করেন ড্র। প্রায় ২৭ ওভা ব্যাট করে ৫৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন দুজন। 

৮৫ বলে ৩৮ রানে অপরাজিত থাকেন আফিফ। এমনিতে যিনি আগ্রাসী ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত, সেই জিয়াউর ৮৪ বল খেলে অপরাজিত থাকেন ১০ রানে। 

ড্র করে ৫ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে খুলনা আছে দুইয়ে। অভিষেক মৌসুমে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে ময়মনসিংহ আপাতত চারে। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

খুলনা বিভাগ ১ম ইনিংস: ৩৮৭

ময়মনসিং বিভাগ ১ম ইনিংস: ১৫০.২ ওভারে ৪৫৯/৮ (ডি.) (আগের দিন ৩৮৭/৭) (আল আমিন ১০২*, আরিফ ৮১, মারুফ ৭*; সফর ২৩-২-৬২-২, হালিম ২৯-৪-৮৪-১, সৌম্য ৭-০-৩২-০, জীবন ২৮-২-৯১-১, সামিউন ৩৭.২-৬-৭৭-২, আফিফ ১৪-০-৫১-০, মিঠুন ১-০-৩-০, জিয়াউর ৭-১-২৪-১, এনামুল ১-০-৪-০, কালাম ৩-০-৭-০)।

খুলনা বিভাগ ২য় ইনিংস: ৫৬ ওভারে ১৪০/৫ (এনামুল ০, সৌম্য ৪৪, কালাম ৩১, সামিউন ৬, ইমরানউজ্জামান ০, আফিফ ৩৮*, জিয়াউর ১০*; গালিব ১০-২-২১-১, শহিদুল ৩-১-৯-০, মারুফ ৬-০-২৩-১, শুভাগত ১৩-৪-৪৬-২, আরিফ ১৫-৮-১৯-১, আজিজুল ৯-৪-১৪-০)। 

তিন দিনে শেষ দুই ম্যাচ

এই রাউন্ডে তৃতীয় দিনেই শেষ হয় দুটি ম্যাচ। রাজশাহীতে রংপুর বিভাগ ৫ উইকেটে হারায় রাজশাহী বিভাগকে। দুই ইনিংসে ৮ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা হন রংপুরের পেসার মুকিদুল ইসলাম। শেষ ইনিংসে রান তাড়ায় চাপের মধ্যে অপরাজিত ফিফটি করেন অভিজ্ঞ নাসির হোসেন।

৫ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে রংপুর পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে।

আরেক ম্যাচে চট্টগ্রাম বিভাগকে ১৪৭ রানে হারায় সিলেট বিভাগ। বাংলাদেশের হয়ে ১৩ টেস্ট খেলা পেসার আবু জায়েদ চৌধুরি দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে হন ম্যাচের সেরা। 

চট্টগ্রামের পেসার ইফরান হোসেন দুই ইনিংসেই ৫টি করে উইকেট নিয়ে প্রথমবার ম্যাচে ১০ উইকেটের স্বাদ পান। অফ স্পিনার নাঈম হাসান দ্বিতীয় ইনিংসে শিকার করেন ৫ উইকেট। কিন্তু তা যথেষ্ট হয়নি দলের জন্য।

৫ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে আছে সিলেট, ১০ পয়েন্ট নিয়ে সাতে চট্টগ্রাম।