Published : 18 Dec 2025, 02:13 PM
প্রথম দিনের স্নিকোমিটারের বিতর্কের রেশ ছিলই। এর মধ্যেই দ্বিতীয় দিনে দুই দফায় আরও ঝড় উঠল রিয়েল-টাইম স্নিকোমিটার (আরটিএস) নিয়ে। প্রথমটিতে বিস্মিত দেখা গেল অস্ট্রেলিয়ানদের, স্টাম্প মাইকে ফুটে উঠল তাদের ক্ষোভের ভাষা। দ্বিতীয়টি আবার তাদেরকে ভাসাল খুশিতে আর হতাশ করল ইংলিশদের। ম্যাচের চিত্রটিও অনেকটা একইরকম। লাগাম এখন অস্ট্রেলিয়ার কাছে, সিরিজ বাঁচাতে ইংল্যান্ডের অপেক্ষায় কঠিন চ্যালেঞ্জ।
অ্যাশেজের অ্যাডিলেইড টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ইংল্যান্ডের রান ৮ উইকেটে ২১৩। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে এখনও পিছিয়ে তারা ১৫৮ রানে।
কোনো ইংলিশ ব্যাটসম্যান ফিফটি করতে পারেননি। ৪৫ রানে ফেরেন হ্যারি ব্রুক। ব্যবধান কমানোর আশা হয়ে ৪৫ রানে অপরাজিত আছেন বেন স্টোকস।
ফেরার টেস্টে তিন উইকেট নেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স।
দুই উইকেট নিয়ে গ্লেন ম্যাকগ্রার ৫৬৩ উইকেট ছাড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় সফলতম বোলার এখন ন্যাথান লায়ন। তার সামনে কেবল শেন ওয়ার্ন (৭০৮ উইকেট)।
আগের দিন সেঞ্চুরি করা অ্যালেক্স কেয়ারি এ দিন রেকর্ড বইয়ে নাম তোলেন ৫টি ক্যাচ নিয়ে। একই টেস্টে সেঞ্চুরি করা ও ইনিংসে পাঁচটি ডিসমিসাল করা দ্বিতীয় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার তিনি।
এক পর্যায়ে ফলো অনে পড়ার মুখে ছিল ইংল্যান্ড। তবে নবম উইকেটে ৪৫ রানের জুটিতেই সেই শঙ্কা এড়িয়ে দলকে দুইশ পার করান স্টোকস ও জফ্রা আর্চার।
এই আর্চার দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার শেষ দুটি উইকেট নিয়ে পূর্ণ করেন ৫ উইকেট। ৬ বছর পর টেস্টে এই স্বাদ পেলেন চোটের কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকা ফাস্ট বোলার।
৮ উইকেটে ২৩৩ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। ৩৩ রানে অপরাজিত থাকা মিচেল স্টার্ক দিনের প্রথম ওভারেই বাউন্ডারি মারেন দুটি, পরের ওভারে তিনটি।
আট বাউন্ডারিতে ফিফটি করে ফেলেন তিনি ৭৩ বলে। তার টানা দ্বিতীয় ফিফটি এটি।
সিরিজের সর্বোচ্চ ১৮ উইকেটের পাশাপাশি অবিশ্বাস্যভাবে এখনও পর্যন্ত পঞ্চম সর্বোচ্চ রানও স্টার্কের (৪৭.৬৬ গড়ে ১৪৩)।
ফিফটির পর স্টার্ককে বোল্ড করে দেন আর্চার। শেষ ব্যাটসম্যান স্কট বোল্যান্ড গিয়েও তিনটি বাউন্ডারি মেরে দেন দ্রুত। লায়নকে ফিরিয়ে পঞ্চম শিকার ধরেন আর্চার।
এ দিন ৮.২ ওভারে ৪৫ রান যোগ করে ৩৭১ রানে শেষ হয় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।
ইংল্যান্ড ব্যাটিংয়ে নেমে যথারীতি শুরু করেছিল চেনা ঢংয়ে। প্রথম ৭ ওভারে ৩৭ রান তোলেন জ্যাক ক্রলি ও বেন ডাকেট।
অষ্টম ওভারে ক্রলিকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন প্যাট কামিন্স।
অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক দশম ওভারেই আক্রমণে আনেন স্পিন। আগের টেস্টে বাইরে থাকা লায়ন প্রথম ওভারেই দুই উইকেট নিয়ে ছাড়িয়ে যান ম্যাকগ্রার উইকেট সংখ্যা।
অলিভার পোপ আলতো শটে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে উইকেট উপহার দেন লায়নকে। এরপর অসাধারণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে দেন তিনি ডাকেটকে।

জো রুট ও হ্যারি ব্রুকের জুটি গড়ে তোলার চেষ্টাও দীর্ঘায়িত হয়নি। স্টাম্প ঘেঁষা ডেলিভারিতে রুটকে ১৯ রানে ফেরান কামিন্স।
এই নিয়ে ১২ বার কামিন্সের বলে আউট হলেন ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সফলতম ব্যাটসম্যান। আর কোনো বোলার তাকে এতবার আউট করতে পারেননি।
ইনিংসের একমাত্র অর্ধশত রানের জুটি এরপরই পায় ইংল্যান্ড। ব্রুক ও স্টোকস যোগ করেন ৫৬ রান।
জুটি ভাঙতে ক্যামেরন গ্রিনকে আক্রমণে আনেন কামিন্স। এই অলরাউন্ডার প্রথম ওভারেই ফেরান ভালো খেলতে থাকা ব্রুককে।
স্নিকোমিটার বিতর্কের দুই ঘটনাই জেমি স্মিথকে ঘিরে। কামিন্সের শর্ট বলে পুল করে ছক্কা মারেন তিনি। তবে পরের বলেই দারুণ এক বাউন্সারে জবাব দেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। শুরুতে মনে হচ্ছিল, বল স্মিথের গ্লাভসে ছোবল দিয়ে স্লিপে গিয়েছে। সেখানে উসমান খাওয়াজার হাতে জমার আগে বল মাটি স্পর্শ করেছে কি না, দেখার জন্য তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে পাঠান মাঠের আম্পায়াররা।
রিপ্লেতে স্নিকোমিটারে দেখা যায়, বল আদতে স্মিথের গ্লাভসেই লাগেনি, ছোবল দিয়েছে হেলমেটে! অস্ট্রেলিয়ানরা যদিও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। আগের দিনের কেয়ারির ঘটনার মতোই ফ্রেমের গণ্ডগোল হয়েছে কি না, সেই সংশয় দেখা দেখা যায়। স্টাম্প মাইকে শোনা যায় স্টার্ক বলছেন, ‘স্নিকো নিডস টু বি স্যাকড।’ মার্নাস লাবুশেন মজা করেন বলেন, “ওকে (স্মিথ) ডাক্তারের কাছে পাঠানো উচিত। এটি হেলমেটে লাগলে তার মাথা উড়ে যাওয়ার কথা।”
কামিন্সের পরের ওভারেই উল্টো চিত্র। এবার উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন স্মিথ। মাঠের আম্পায়ার আবার তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে পাঠান সিদ্ধান্ত। এবার রিপ্লে দেখে মনে হচ্ছিল, ব্যাট-বলের ব্যবধান আছে বেশ। তবে ওই সময়টাতে স্নিকোতে পরিষ্কার স্পাইকও ফুটে ওঠে।
তৃতীয় আম্পায়ার আউট দেন। স্মিথ যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। ক্ষোভে কিছু বলতে বলতে মাঠ ছাড়েন তিনি। ক্রিজে তার সঙ্গী বেন স্টোকসও হতাশায় নুইয়ে ফেলেন মাথা।
এরপর স্কট বোল্যান্ড আক্রমণে ফিরে উইল জ্যাকস ও ব্রাইডন কার্সকে ফিরিয়ে দেন দ্রুত। শেষ বিকেলে স্টোকস আর আর্চার দিনের শেষটা স্বস্তিতে করেন ইংল্যান্ডের জন্য। তবে তাদের অপেক্ষায় এখনও কঠিন পরীক্ষা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৯১.২ওভারে ৩৭১ (আগের দিন ৩২৬/৮) (স্টার্ক ৫৪, লায়ন ৯, বোল্যান্ড ১৪*; আর্চার ২০.২-৫-৫৩-৫, কার্স ১৬-০-৮৯-২, টং ১৬-১-৬৪-১, স্টোকস ১৯-৩-৫৩-০, জ্যাকস ২০-৩-১০৫-২)।
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৬৮ ওভারে ২১৩/৮ (ক্রলি ৯, ডাকেট ২৯, পোপ ৩, রুট ১৯, ব্রুক ৪৫, স্টোকস ৪৫*, স্মিথ ২২, জ্যাকস ৬, কার্স ০, আর্চার ৩০*; স্টার্ক ১২-১-৫৪-০, কামিন্স ১৪-৩-৫৪-৩, বোল্যান্ড ১২-৬-৩১-২, লায়ন ২২-৪-৫১-২, গ্রিন ৮-৩-২২-১)।