Published : 22 Dec 2025, 03:53 PM
শুরুতে পরিকল্পনা ছিল জাকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের। নিরাপত্তা শঙ্কায় পরে সেই ভাবনা বাদ দেওয়া হয়। এরপর আবার চূড়ান্ত করা হয়, বিপিএলে এবার ছোট পরিসরে থাকবে উদ্বোধনী আয়োজন। বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান বললেন, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে বারবার পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে তাদেরকে।
আগামী শুক্রবার থেকে সিলেটে শুরু হচ্ছে বিপিএলের দ্বাদশ আসর। টুর্নামেন্ট শুরুর সম্ভাব্য সময়েও বদল আনা হয়েছে দফায় দফায়। আরও অনেক সিদ্ধান্তই বদলে গেছে গত কিছুদিনে বারবার।
বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসজেএ) আয়োজনে রংপুর রাইডার্স-বিএসজেএ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ইফতেখার বললেন, দেশের পরিস্থিতির কারণেই বেগ পেতে হচ্ছে বিসিবিকে।
“সবাই জানি যে, পরিস্থিতি একটু চ্যালেঞ্জিং। ঘণ্টায় ঘণ্টায় পরিকল্পনা বদলাতে হচ্ছে আমাদের। ২৪ তারিখে যেহেতু আমরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করতে পারিনি, এখন ২৬ তারিখে ম্যাচের দিন ছোট করে করব। কারণ বাংলাদেশ দল তো (বিশ্বকাপ খেলতে) চলে যাচ্ছে জানুয়ারির শেষে। সুতরাং সূচিতে হাত দেওয়ার কোনো সুযোগই নাই। ২৬ তারিখেই আমরা ছোট করে অনুষ্ঠান করব। ওই দিন জানেন যে শুক্রবার, সুতরাং ২টা ১৫ তে শুরু করতে হচ্ছে, সেইজন্য খেলাটা তিনটার সময় করে দেওয়া হয়েছে।”
টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচের আগে ও দুই ম্যাচের মাঝের সময়টায় সেই উদ্বোধনী আয়োজন হবে। ছোট পরিসরের আয়োজনে কী কী থাকবে, তা জানালেন গর্ভনিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব।
“এই ধরেন, এমনি তো ওপেনিংয়ে যেটা হয়, আমাদের প্রেসিডেন্ট সাহেব এবং স্পোর্টস সেক্রেটারি উনারা ওপেন করবেন, সবার সাথে হ্যান্ডশেক করবেন এবং আমরা এক মিনিট নীরবতা পালন করব, সম্প্রতি যে ইয়েটা হয়েছে…. সেইজন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করব। আর দুই ম্যাচের মাঝে আঞ্চলিক সব গান নিয়ে একটা অনুষ্ঠান হবে মাঠেই। মাঠেই মঞ্চ করে হবে।”
“প্রথম আয়োজনটি ১৫ মিনিটের মতো হবে। কারণ আমাদের সময় নেই। অন্তত আধ ঘণ্টা দিতে হয় দলগুলিকে গা গরম করতে। আড়াইটার মধ্যে আমাদের শেষ করতে হবে। জুমার নামাজের পরে ২টা ১৫-তে শুরু করে ১৫ মিনিটের মধ্যে এটা শেষ করা হবে। পরে দুই খেলার মাঝখানে যে সময়টা আছে, সেখানে ৪৫ মিনিটের ওই ছোট অনুষ্ঠানটা করব।”
দুই নতুন দল সিলেট টাইটান্স ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ম্যাচ দিয়ে শুক্রবার শুরু হচ্ছে এবারের বিপিএল। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে লড়বে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম রয়্যালস।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি যখন চ্যালেঞ্জিং, তখন নিরাপত্তা শঙ্কার ব্যাপারটিও এসে যায়। ইফতেখার জানালেন, দলগুলির জন্য শীর্ষ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাই থাকছে।
"দেখুন, আমাদের যে সিকিউরিটি,অন্যান্য দেশের চেয়ে আমাদের এখানে নিরাপত্তা কিন্তু টপমোস্ট লেভেলে দেয়। সেই টপমোস্ট লেভেলেই আপনার দেওয়া হচ্ছে। মানে এটার থেকে উপরে আর দেওয়ার কিছু নেই। দলের সঙ্গে এসকর্ট আছে, পুলিশ আছে, গার্ড আছে, র্যাব আছে, সবাই থাকবে। যেভাবে আন্তর্জাতিক দলগুলিকে আমরা ম্যানেজ করি, এখানেও একই পর্যায়ের হচ্ছে।"
বিদেশি ক্রিকেটার বা সাপোর্ট স্টাফদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি কোনো নির্দেশনা নেই বলেও জানালেন বিসিবির এই পরিচালক।
"জিনিসটা হচ্ছে যে, সবার তো নিজেদেরও দায়িত্ব আছে। তাদের নিজেদের দায়িত্বে তারা যতটুকু সতর্ক থাকবেন। কিন্তু আমরা আমাদের পুরো সাপোর্ট দেব। এমনকি ধারাভাষ্যকার, টিভি প্রোডাকশন, উনাদের সবাইকে এক্সটেন্ড করা হচ্ছে।"