তানভিরের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে কুমিল্লার রেকর্ডগড়া জয়

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে ৭২ রানে আটকে রেখে ৬৪ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নিয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

শাহাদাৎ আহমেদ সাহাদশাহাদাৎ আহমেদ সাহাদসিলেট থেকেবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 Feb 2024, 04:04 PM
Updated : 2 Feb 2024, 04:04 PM

উইকেটের সহায়তা কাজে লাগিয়ে ঘূর্ণি বলের জাদু দেখালেন তানভির ইসলাম। দারুণ লেংথ, টার্ন আর গতির তারতম্যের মিশেলে এই বাঁহাতি স্পিনার খাবি খাওয়ালেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের টপ অর্ডারকে। সেই ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে পারল না চট্টগ্রাম। ছোট রান তাড়ায় তাওহিদ হৃদয়ের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে অনায়াস জয় পেল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার তানভিরের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের ম্যাচে কুমিল্লার জয় ৭ উইকেটে। স্রেফ ৭৩ রানের লক্ষ্য ৬৪ বল বাকি থাকতেই ছুঁয়ে ফেলে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

টুর্নামেন্টের তৃতীয় আসর থেকে নিয়মিত অংশ নেওয়া কুমিল্লা এত দ্রুত জয় পায়নি আর কোনো ম্যাচে। বিপিএলে সব মিলিয়ে এর চেয়ে বেশি বল বাকি রেখে জয় আছে আর দুটি।

কুমিল্লাকে জয়ে ফেরানোর ম্যাচে ৪ ওভারে এক মেডেনসহ স্রেফ ১৩ রানে ৪ উইকেট নেন তানভির। তার হাতেই ওঠে ম্যাচ সেরার পুরস্কার। আরেক স্পিনার আলিস আল ইসলাম এক মেডেনসহ ১৪ রানে নেন ২ উইকেট।

চট্টগ্রাম গুটিয়ে যায় ৭২ রানে। এবারের আসরে এখনও পর্যন্ত যা সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর।

সহজ রান তাড়ায় কুমিল্লার জয় ত্বরান্বিত করেন হৃদয়। চার নম্বরে নেমে স্রেফ ১৩ বলে খেলেন ৩১ রানের ইনিংস।

পাঁচ ম্যাচে কুমিল্লার তৃতীয় জয় এটি। টানা তিন জয়ের পর হারল চট্টগ্রাম। ছয় ম্যাচে এটি তাদের দ্বিতীয় পরাজয়।

হৃদয়ের ক্যামিওর আগে রান তাড়ায় কুমিল্লার শুরুটা ভালো হয়নি। চলতি আসরে ব্যর্থতার পাল্লা আরেকটু ভারী করে স্রেফ ২ রান করে আউট হন লিটন কুমার দাস। চতুর্থ ওভারে বিলাল খানের বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে মারতে গিয়ে ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ দেন ৯ বল খেলা কুমিল্লা অধিনায়ক।

৫ ইনিংস মিলিয়ে তার মোট রান ৩৭।

চোটের কারণে ইমরুল কায়েস ছিলেন না এ দিনও। তার বদলে নেমে আগের ম্যাচে ফিফটি করা মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন এবার টিকতে পারেননি। তাকে ফেরান আল আমিন হোসেন। 

এরপর আর দলকে আর বেশি অপেক্ষায় রাখেননি হৃদয়। প্রথম বলেই বাউন্ডারিতে শুরু করে এক বল পর মারেন আরেকটি। বিলাল খানের ওভারে তার ব্যাট থেকে আসে আরও দুটি চার। 

অষ্টম ওভারে জিয়াউর রহমানের বলে পুল করে ওয়াইড লং অন দিয়ে ম্যাচের একমাত্র ছক্কাটিও মারেন হৃদয়। পরের বলে আসে চার।

কাজ অবশ্য শেষ করতে পারেননি তিনি। দ্রুত ম্যাচ শেষ করার ভাবনায়ই হয়তো চালিয়ে খেলতে থাকেন। সেই চেষ্টায় ধরা পড়ে যান ডিপ মিড উইকেট। সমাপ্তি ঘটে ৫ চার ও ১ ছক্কার ইনিংসের।

পরে রেমন রিফারকে নিয়ে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ২৪ বলে ১৬ রান করে অপরাজিত থাকেন পাকিস্তানি কিপার-ব্যাটসম্যান। 

ম্যাচের প্রথমভাগে কুয়াশাচ্ছন্ন কন্ডিশনে টস জিতে চট্টগ্রামকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় কুমিল্লা। সাফল্যও পায় তারা দ্রুতই। ম্যাচের প্রথম বলেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে খেলার চেষ্টা করা তানজিদ তামিম (০) এক বল পরই একই চেষ্টায় উইকেট উপহার দেন রিফারকে।

এরপর শুরু তানভিরের ভেল্কি। চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলে দারুণ টার্ন করা ডেলিভারিতে তিনি বোকা বানান আভিশকা ফার্নান্দোকে। ড্রাইভ খেলতে গিয়ে পা বেরিয়ে যায় লঙ্কান ওপেনারের। দ্রুততার সঙ্গে স্ট্যাম্প ভাঙেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। অল্পের জন্য বেঁচে যান আভিশকা।

 পরের বলে আরেকটি চমৎকার ডেলিভারিতে আর রক্ষা পাননি তিনি। এবার সামনের পায়ে রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলার চেষ্টায় ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে স্লিপে ধরা পড়েন আভিশকা। 

আমের জামালের করা পরের ওভারে ফাইন লেগে শাহাদাত হোসেনের লোপ্পা ক্যাচ ছেড়ে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। ৪ রানে বেঁচে গিয়ে অবশ্য বেশি দূর যেতে পারেননি তরুণ ব্যাটসম্যান।

তানভিরের করা পাওয়ার প্লের শেষ ওভারের প্রথম বলে আউট হন শাহাদাত। হালকা ঝুলিয়ে দেওয়া ডেলিভারি আলতোভাবে খেলার চেষ্টায় টার্নে পরাস্ত হন তিনি। কভারে সহজ ক্যাচ নেন মাহিদুল ইসলাম। 

তিন বল পর উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন সৈকত আলি। ওই ওভারে কোনো রান না দিয়ে ২ উইকেট নেন তানভির।

নিজের শেষ ওভারে টম ব্রুসকে গতির তারতম্যে বিভ্রান্ত করেন বাঁহাতি স্পিনার। ঝুলিয়ে দেওয়া ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হন ২৭ রান করা কিউই ব্যাটসম্যান।

তানভিরের ঘূর্ণিতে পঞ্চাশের আগে ৫ উইকেট হারানোর পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি চট্টগ্রাম। একাদশ ওভারে তিন বলের মধ্যে নাজিবউল্লাহ জাদরান ও জিয়াউর রহমানকে ফেরান আলিস আল ইসলাম। ওই ওভারে কোনো রান দেননি এই রহস্য স্পিনার। 

চট্টগ্রামের পাঁচ ব্যাটসম্যান আউট হন রানের খাতা খোলার আগে। বিপিএলের ইতিহাসে যা প্রথম।

 সংক্ষিপ্ত স্কোর:

 চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স: ১৬.৩ ওভারে ৭২ (তানজিদ ০, আভিশকা ৭, ব্রুস ২৭, শাহাদাত ৯, সৈকত ০, নাজিবউল্লাহ ১১, শুভাগত ৭, জিয়াউর ০, নিহাদউজ্জামান ৭*, আলআমিন ০, বিলাল ০; রিফার ১-০-৪-১, তানভির ৪-১-১৩-৪, আলিস ৪-১-১৪-২, জামাল ২.৩-০-১৮-১, খুশদিল ৩-০-১৭-০, মুস্তাফিজ ২-০-৬-১)

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: ৯.২ ওভারে ৭৩/৩ (রিজওয়ান ১৬*, লিটন ২, মাহিদুল ৫, হৃদয় ৩১, রিফার ৪*; আল আমিন ৩-০-১৯-১, নিহাদউজ্জামান ৩-০-১২-০, বিলাল ২-০-২৭-১, জিয়াউর ১-০-১২-১, সৈকত ০.২-০-২-০)

ফল: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৭ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: তানভির ইসলাম