রানার হ্যাটট্রিকের পরও জয়ের বিশ্বাস ছিল সিলেটের
সহজেই জয়ের পথে থাকা ম্যাচে শেষ সময়ে গুবলেট পাকালেও অনেক নাটকীয়তার পর শেষ বলে জিততে পেরেছে সিলেট।
২৭ বলে প্রয়োজন ২৭ রান। উইকেট বাকি সাতটি। এই ম্যাচটি শেষ বল পর্যন্ত গড়াবে, এমন কিছু তো অকল্পনীয়। সিলেট টাইটান্স ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ম্যাচে সেই অভাবনীয় কিছুই ধরা দিয়েছিল বাস্তব হয়ে। মুঠোয় থাকা ম্যাচ ফসকে দিয়েও শেষ পর্যন্ত কোনোরকমে আবার ধরতে পেরেছে সিলেট। ম্যাচের সেরা সৈয়দ খালেদ আহমেদ যদিও বলছেন, জয়ের বিশ্বাস তাদের সবসময়ই ছিল।
বিপিএলের দ্বাদশ আসরের দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে একতরফা জয়ের পথে ছিল সিলেট। কিন্তু শেষ দিকে ম্যাচ জমে উঠে নাটকীয় পালাবদলের পথ ধরে।
১৪৪ রান তাড়ায় এক পর্যায়ে সিলেট ছিল সহজ জয়ের পথে। ষষ্ঠদশ ওভারে যখন জাহির খানকে ছক্কা মারেন পারভেজ হোসেন ইমন, জয়ের জন্য সিলেটের তখন প্রয়োজন ২৭ বলে ২৭ রান। উইকেট বাকি তখনও ৭টি।
পরের বলেই পারভেজ বিদায় নেন ৪১ বলে ৬০ রান করে। পরের ওভারে আফিফ হোসেনও আউট হয়ে যান অল্পতেই। তখনও বিপদ বোঝা যায়নি ততটা। শেষ তিন ওভারে প্রয়োজন পড়ে ২৪ রানের, টি-টোয়েন্টিতে যা খুব কঠিন কিছু নয়।
অষ্টাদশ ওভারের প্রথম তিন বলে রান আসে মোটে চার। পরের তিন বলে টানা আউট হয়ে যান মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ ও সৈয়দ খালেদ আহমেদ। হ্যাটট্রিক করে বাঁধনহারা উল্লাসে মেতে ওঠেন মেহেদি রানা।
হাসান মাহমুদের করা ১৯তম ওভারে রান আসে মাত্র ৬। ম্যাচের চিত্র তাতে পাল্টে যায়। শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ১৩ রানের। সেই সমীকরণ মিলিয়ে ঘরের মাঠের দর্শকদের উল্লাসে ভাসায় সিলেট।
দারুণ বোলিংয়ে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা হন খালেদ। তবে ম্যাচের পর তো মূল আলোচনায় ছিল শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা। খালেদ বললেন, ইংলিশ অলরাউন্ডার ইথান ব্রুকস টিকে ছিলেন বলে বেঁচে ছিল তাদের আশা।
“আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে পারব (জিততে), যেহেতু আমাদের ইথান ব্রুকস তখনও ছিল এবং ওদের সাব্বির (হোসেন) ছাড়া কোনো অপশন ছিল না। আমাদের বিশ্বাস ছিল যে নিতে পারব (প্রয়োজনীয় রান)।”
নোয়াখালীর মূল বোলারদের বোলিং শেষ হয়ে গিয়েছিল। শেষ ওভারটি করেন অলরাউন্ডার সাব্বির হোসেন। প্রথম দুই বলে তিনি রান দেননি। তৃতীয় বলটি করেন ‘নো।’ পরের দুই বলে ছক্কা ও চার মেরে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান ব্রুকস।
পরের বলে রান আউট হয়ে যান ইংলিশ অলরাউন্ডার। শেষ বলে যখন প্রয়োজন দুই রান, সাব্বির করে বসেন ওয়াইড। শেষ বলে লেগ বাই থেকে রান নিয়ে জিতে যায় সিলেট।
খালেদ ম্যাচের পর বললেন, অনিয়মিত বোলারকে একটি ওভার করতে হবে বলেই জয়ের বিশ্বাস ছিল তাদের।
“প্রথম থেকেই মিরাজ ও আমাদের অ্যানালিস্ট একটা কথা বলে আসছিল যে, ওদের একটা ওভার ঘাটতি আছে। সেটা পেস করাতে হবে বা স্পিন। আমাদের চাওয়া ছিল যেন উইকেটে থাকি। তবে আমরা রানার ওভারটিতে একটু তাড়াহুড়ো করে ফেলছি। তিনটা উইকেট দ্রুত পড়ে গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত জিততে পেরেছি।”
