০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রাসিধের তোপের পর জয়সওয়ালের সেঞ্চুরিতে হোয়াইটওয়াশড আফগানরা

বিফলে গেছে আফগানিস্তানের অধিনায়ক হাশমাতউল্লাহ শাহিদির লড়াকু সেঞ্চুরি।

প্রাসিধের তোপের পর জয়সওয়ালের সেঞ্চুরিতে হোয়াইটওয়াশড আফগানরা
ইয়াশাসভি জয়সওয়াল (বাঁয়ে) ও রোহিত শার্মার উদ্বোধনী জুটিতে এসেছে ১৭০ রান। ছবি: ইন্ডিয়ান ক্রিকেট টিম ফেইসবুক

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Jun 2026, 11:03 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:27 PM

প্রতিপক্ষের টপ ও মিডল অর্ডার গুঁড়িয়ে দিলেন প্রাসিধ কৃষ্ণা। তার তোপ সামলে লড়াকু সেঞ্চুরিতে দলের রান কোনোমতে দুইশ পার করলেন হাশমাতউল্লাহ শাহিদি। তবে তাদেরকে লড়াই করার সুযোগই দিলেন না রোহিত শার্মা ও ইয়াশাসভি জয়সওয়াল। বড় জয়ে আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল ভারত।

চেন্নাইয়ে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ভারতের জয় ৯ উইকেটে। আফগানদের ২১৮ রান ১২৮ বলে বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটে জেতে ভারত। দ্বিতীয়টিতে আফগানদের ১৭০ রানে হারায় তারা।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন প্রাসিধ। চমৎকার বোলিংয়ে স্রেফ ২৩ রান দিয়ে ৫ শিকার ধরেন এই পেসার।

প্রাসিধের ছোবলে ৩৬ রানে ৪ উইকেট হারানো আফগানদের হাল ধরেন শাহিদি ও আজমাতউল্লাহ ওমারজাই। ১০৫ রানের জুটি গড়েন তারা।

ওয়ানডেতে প্রথম সেঞ্চুরিতে ১০২ রান করেন শাহিদি। তার ১৩১ রানের ইনিংস গড়া একটি ছক্কা ও ১৩ চারে। দুই ছক্কা ও পাঁচটি চারে ৫০ রান করে ফেরেন ওমারজাই।

রান তাড়ায় ভারতকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন জয়সওয়াল ও রোহিত। তাদের ১৭০ রানের উদ্বোধনী জুটিতে অনায়াস জয়ের ভিত পেয়ে যায় স্বাগতিকরা। তিনটি ছক্কা ও নয়টি চারে ৭৯ রান করেন রোহিত।

ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে ১১০ রান করে অপরাজিত থাকেন জয়সওয়াল। তিনটি ছক্কা ও ১৪টি চারে গড়া তার ৮৬ বলের ইনিংস।

ম্যাচে নিজের প্রথম বলে রাহমানউল্লাহ গুরবাজকে দিয়ে শিকার ধরা শুরু করেন প্রাসিধ। পরে টানা তিন ওভারে রেহমার শাহ, ইব্রাহিম জাদরান ও দারভিশ রাসুলিকে বিদায়ে করেন তিনি। চার ব্যাটসম্যানের তিনজনই ধরা পড়েন প্রথম স্লিপে রোহিতের হাতে।

দুঃস্বপ্নের শুরুর পর আফগানদের হাল ধরেন অধিনায়ক শাহিদি ও ওমারজাই। তাদের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে সফরকারীরা। ৫৫ বলে ফিফটি করার পরের ডেলিভারিতেই বিদায় নেন ওমারজাই। এরপর শাহিদিকে কিছুক্ষণ সঙ্গ দেন মোহাম্মাদ নাবি।

এরপর আরেক প্রান্তে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে আফগানরা। একপ্রান্ত ধরে রেখে লড়াই করে যান শাহিদি। নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফারিদ আহমাদ যখন রান আউট হন, শাহিদির রান তখন ৯১। তার সেঞ্চুরি নিয়ে জাগতে শুরু করে শঙ্কা।

জিয়াউর রাহমান নিজের উইকেট ধরে রাখেন। তাতে ৪৪তম ওভারে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কের ছোঁয়া পান শাহিদি। পরের ওভারে তাকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের ইনিংস গুটিয়ে দেন প্রাসিধ। 

প্রথম ওভারেই তিনটি চার মেরে লক্ষ্য তাড়া শুরু করেন জয়সওয়াল। ফারিদকে টানা দুটি চার মারেন রোহিত। তাদের ব্যাটে একের পর এক আসতে থাকে বাউন্ডারি। তাতে ১০ ওভার শেষে ভারতের রান দাঁড়ায় ৮৬।

৩৮ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন জয়সওয়াল। রোহিতের পঞ্চাশ আসে ৪৭ বলে। একটা সময় মনে হচ্ছিল, এই দুইজনই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বেন। কিন্তু নাবির বলে ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়ে বিদায় নেন রোহিত।

তবে কাজ শেষ করে ফেরেন জয়সওয়াল। ২৯তম ওভারে নাবিকে ছক্কায় সেঞ্চুরিতে পা রাখেন তিনি। এক বল পর টানা চার ও ছক্কায় দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন বাঁহাতি ওপেনার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আফগানিস্তান: ৪৪.৩ ওভারে ২১৮ (গুরবাজ ৫, ইব্রাহিম ১১, রেহমাত ৫, শাহিদি ১০২, দারভিশ ১, ওমারজাই ৫০, নাবি ২১, রাশিদ ৫, গাজানফার ১, ফারিদ ০, জিয়াউর ১*; গুরনুর ৮-০-৪৯-১, প্রাসিধ ৮.২-২-২৩-৫, প্রিন্স ৭-০-৩৮-১, নিতিশ ৬-০-৪২-০, হার্শ ৭-০-৩৮-১, ওয়াশিংটন ৮-২-২৩-০)

ভারত: ২৮.৪ ওভারে ২২৪/১ (জয়সওয়াল ১১০*, রোহিত ৭৯, শ্রেয়াস ২০*; ওমারজাই ২-০-২৬-০, জিয়াউর ৪-০-২১-০, ফারিদ ৫-০-৫৫-০, গাজানফার ৩-০-১৫-০, রাশিদ ৭-০-৫৩-০, নাবি ৭.৪-১-৪৭-১)

ফল: ভারত ৯ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: প্রাসিধ কৃষ্ণা

ম্যান অব দা সিরিজ: শুবমান গিল