Published : 13 Jul 2026, 01:21 PM
দুই দলের খেলার ধরন ভিন্ন। ফ্রান্সের শক্তির জায়গা গতি, আর স্পেনের ছন্দ। সেমি-ফাইনালে ফরাসিদের মুখোমুখি হওয়ার আগে, প্রতিপক্ষের গতিময় ফুটবল নিয়ে সতর্ক লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তাই বলে নিজেদের কৌশলে বদল আনার পক্ষে নন তিনি। স্বাভাবিক খেলাটা খেলেই অতীতের মতো এবারও ফ্রান্সকে হারাতে আত্মবিশ্বাসী স্পেন কোচ।
এবারের বিশ্বকাপে গতি দিয়ে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিচ্ছে ফ্রান্স। দাপুটে ফুটবলে শতভাগ জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। শেষ বত্রিশ, শেষ ষোলো, শেষ আটে; নকআউটের কোনো ম্যাচে এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে খেলতে হয়নি তাদের।
গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট, ২০১৮ আসরের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে এবারও মনে করা হচ্ছে শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার। তবে ফেভারিটদের তালিকায় আছে স্পেনও। ২০১০ আসরের চ্যাম্পিয়দের আসরের শুরুটা কিছুটা অপ্রত্যাশিত হলেও, সময়ের সঙ্গে ছন্দ খুঁজে পেতে শুরু করেছে তারা।
নবাগত কেইপ ভার্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ গোলশূন্য ড্র করে স্পেন। পরে সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারিয়ে গ্রুপ সেরা হয় তারা। এখন পর্যন্ত কোনো নকআউট ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে খেলতে হয়নি তাদেরও।
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী ১৫ জুলাই বাংলাদেশ সময় ১টায় (এএম) ডালাসে কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসেদের মুখোমুখি হবে স্পেন। তিন বছরের মধ্যে ফরাসিদের বিপক্ষে স্প্যানিশদের এটি তৃতীয় লড়াই। সবশেষ দুটিতেই হেসেছিল দে লা ফুয়েন্তের দল। ২০২৪ সালে ইউরোর সেমি-ফাইনালে ও পরের বছর নেশন্স লিগের সেমি-ফাইনালে জয় পায় স্পেন।
ফ্রান্সের বিপক্ষে গত দুই ম্যাচের সাফল্য স্বাভাবিকভাবেই আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে স্পেনকে। তবে বর্তমান ফরাসি দলকে একটু ভিন্ন চোখেই দেখছেন স্পেনের ইউরো জয়ী কোচ দে লা ফুয়েন্তে।
“যেকোনো প্রতিযোগিতার এই পর্যায়ে, ফ্রান্স সবসময়ই শিরোপার প্রধান দাবিদারদের একটি। বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ওঠা অনেক কঠিন। সব প্রতিপক্ষই ভীষণ শক্তিশালী থাকে, দল হিসেবে আমরাও যথেষ্ট শক্তিশালী। ফাইনালের পথ এখন উন্মুক্ত।
“দুই বছর আগের কথা? তারা এখন পুরোপুরি ভিন্ন এক দল। অনেক খেলোয়াড় আগে থেকেই দলে থাকলেও, এটা একদমই ভিন্ন একটা সময়। খেলার ধরন এবং কৌশল- উভয় ক্ষেত্রেই অনেক পরিবর্তন দেখা যাবে। আমার মনে হয় দুটি দলই আগের চেয়ে উন্নতি করেছে।”
দে লা ফুয়েন্তের মতে, ভিন্ন দুই বৈশিষ্ট্যের দল মুখোমুখি হবে এবারের বিশ্বকাপের প্রথম সেমি-ফাইনালে। প্রতিপক্ষের শক্তি-সামর্থ্য, নিজেদের দুর্বলতা; সবই জানা স্পেন কোচের। ফ্রান্সের বিপক্ষে নিজেদের ধরনেই আস্থা রাখছেন তিনি।
“পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বলেছিলাম, প্রায় একই বৈশিষ্ট্যের দুটি দল মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচের ক্ষেত্রে, আমরা সম্পূর্ণ বিপরীত। তারা গতিময় ফুটবলে স্বচ্ছন্দ, তাই আমাদের নিজেদের খেলার ধরনটাই বজায় রাখতে হবে। জানি আমাদের দুর্বলতা আছে, মাঝেমধ্যে রক্ষণ একটু বেশিই অরক্ষিত হয়ে যায়। আমাদের অসাধারণ রক্ষণভাগ রয়েছে এবং আমরা একটি দলগত ভারসাম্য খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছি।
“ফ্রান্সের শক্তি সম্পর্কে আমরা জানি, তবে আমাদের নিজেদের পরিকল্পনায় অবিচল থাকতে হবে। আমরা কোনো নির্দিষ্ট ছকে আটকে থাকা দল নই। কিছু পরিবর্তনের দরকার হলে সেটি অবশ্যই করা হবে। নিজেদের ধরনে খেলেই ফ্রান্সের বিপক্ষে সবশেষ দুটি ম্যাচ জিতেছি।”