Published : 14 Nov 2025, 10:20 AM
আগামী ইংলিশ গ্রীষ্ম শুরুর সময় জেমস অ্যান্ডারসনর বয়স থাকব ৪৪ ছুঁইছুঁই। মৌসুমের মাঝামাঝিই বয়স পেরিয়ে যাবে ৪৪। কিন্তু তিনি ছুটতেই থাকবেন। চিরসবুজ পেসার আরও এক মৌসুম চুক্তি বাড়িয়েছেন ল্যাঙ্কার ক্রিকেট ক্লাবে।
যে ক্লাবের হয়ে স্বীকৃতি ক্রিকেটে তার পথচলা শুরু, যে ক্লাবকে তিনি মনে করেন নিজের ঘর, সেই ল্যাঙ্কাশায়ারে তার ২৬তম মৌসুম হবে এটি। আধুনিক ক্রিকেটে এমন দীর্ঘ ক্যারিয়ার খুব বেশি জনের নেই। একজন পেসারের জন্য এত দীর্ঘ ক্যারিয়ার ইতিহাসেই বিরল।
এই মৌসুমের মতো আগামী মৌসুমেও ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ও টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট, দুই সংস্করণেই খেলবেন তিনি।
গত বছরের জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লর্ডস টেস্ট দিয়ে অ্যান্ডারসন ইতি টানেন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের। ১৮৮ টেস্টে ৭০৪ উইকেট নিয়ে থামেন টেস্ট ইতিহাসের সফলতম পেসার। বর্তমান বাস্তবতায় বলা যায়, এই রেকর্ড ভাঙবে না কখনোই। সেই ২০১৫ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে ক্রিকেটে আর দেখা যায়নি তাকে। তবে ২৬৯ উইকেট নিয়ে এখনও তিনিই ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সফলতম ওয়ানডে বোলার।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়লেও ঘরোয়া ক্রিকেট রাঙিয়েই চলেছেন তিনি। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ৬ ম্যাচে তার শিকার ছিল ১৭টি। সেই ২০০১ সালে শুরুর পর ক্যারিয়ারে প্রথমবার ল্যাঙ্কাশায়ারকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতাও হয়।
এই বয়সে এসে আরেকটি নতুন এক শুরুও হয় তার। প্রায় এক যুগ পর ফেরেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে। সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন এখানেই। ১১ ম্যাচে ২০ উইকেট নিয়ে বড় ভূমিকা রাখেন ল্যাঙ্কাশায়ারকে সেমি-ফাইনালে তুলতে। ৪৩ বছর বয়সে দা হান্ড্রেড অভিষেকও হয় তার।
সব মিলিয়ে স্বীকৃত ক্রিকেটে ৬২৩ ম্যাচে তার উইকেট এখন ১ হাজার ৫৬৪টি।
নতুন চুক্তির পর অ্যান্ডারসনের গত মৌসুমের পারফরম্যান্সের কথাই উল্লেখ করলেন ল্যাঙ্কাশায়ারের ডিরেক্টর অব ক্রিকেট পারফরম্যান্স মার্ক চিল্টন।
“আমরা খুবই রোমাঞ্চিত যে, জিমি আরও এক মৌসুম ল্যাঙ্কাশায়ারে খেলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। ২০২৫ সালে তার পারফরম্যান্সই বলে দিচ্ছে, ঠিক কেন সে এখনও খেলাটির সেরা বোলারদের একজন। মাঠে তার স্কিল ও লড়িয়ে মনোভাবের তুলনা নেই এখনও।”
অ্যান্ডারসন নিজেও অনুভব করছেন প্রবল তাড়না। ফুরিয়ে যাওয়ার কোনো আভাস নিজের ভেতরে তিনি দেখছেন না।
“এই বছর খেলে আমি অনেক উপভোগ করেছি এবং এখনও মনে হচ্ছে, অনেক কিছু দেওয়ার আছে আমার। নিজেকে মেলে ধরতে এবং লাল ও সাদা বলে দলের সাফল্যে অবদান রাখতে আমি যে কোনো সময়ের মতোই ক্ষুধার্ত।”