Published : 17 Apr 2026, 04:59 PM
এই ম্যাচটি খেলার কথা কখন জানতে পেরেছেন শরিফুল ইসলাম? ম্যাচ শেষে তা জানা যেতে পারে। তবে প্রস্তুত হওয়ার খুব বেশি সময় তিনি পাননি নিশ্চিতভাবেই। টসের ঠিক আগ মুহূর্তে বাংলাদেশের একাদশে পরিবর্তন আসে। সুযোগ পেয়ে যান শরিফুল। কী দারুণভাবেই না সেই সুযোগটি কাজে লাগালেন তিনি!
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে শনিবার বাংলাদেশের সেরা বোলার ছিলেন শরিফুল। ১০ ওভারে ২ মেডেন নিয়ে ২টি উইকেট নেন তিনি মাত্র ২৭ রান দিয়ে। তার ৪২ ডেলিভারি থেকে কোনো রান নিতে পারেনি কিউই ব্যাটসম্যানরা।
৪১ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে পুরো ১০ ওভার বোলিং করে তার সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিং পারফরম্যান্স এটিই। ওভারপ্রতি রান (২.৭০) এর চেয়ে কম দিয়েছেন কেবল একবার। ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে রান দিয়েছিলেন ২.৩৩ করে (৯ ওভার ২১ রানে ৪ উইকেট)।
অথচ এই ম্যাচে তার খেলারই কথা ছিল না। দলীয় তালিকায় ‘অতিরিক্ত’ হিসেবেই উল্লেখ করা ছিল তার নাম। কিন্তু গা গরমের সময় ডান হাঁটুতে সমস্যা অনুভব করেন মুস্তাফিজুর রহমান। দলকে জানান তিনি অস্বস্তির কথা। ততক্ষণে টসের সময় প্রায় হয়ে গেছে বলে। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ টসের জন্য চলেও আসছিলেন। কিন্তু কোচ ফিল সিমন্স ছুটে আসেন নতুন দলীয় তালিকা হাতে। সেখানে দেখা যায়, শরিফুলের নামের পাশে ‘অতিরিক্ত’ লেখাটায় ঘসেমেজে ‘টিক’ চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। মানে তিনি আছেন একাদশে। ছিটকে পড়েন মুস্তাফিজ।
মানসিক প্রস্তুতির সময় শরিফুলের খুব বেশি ছিল না। তবে এই সুযোগ লুফে নিতে নিশ্চয়ই প্রস্তুত ছিলেন। কত দিন ধরেই তো অপেক্ষায় ছিলেন এই সুযোগের জন্য। সবশেষ ওয়ানডে ম্যাচটি যে খেলেছিলেন তিনি ১৬ মাস আগে!
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওই ম্যাচটিতে বেশ খরুচে বোলিংয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন তিনি। আগের ম্যাচটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও তার বোলিং ছিল একইরকম। এরপর একাদশের বাইরে যেতে হয় তাকে। ফর্মহীনতা আর চোট মিলিয়ে এই সংস্করণে তাকে আর দেখা যায়নি এই দীর্ঘদিন। ক্যারিবিয়ায় ওই সফরের পর টেস্টেও আর সুযোগ পাননি মাঠে নামার।

টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য নিয়মিতই খেলেছেন। গত বছর সংক্ষিপ্ত সংস্করণে দেশের হয়ে খেলেছেন ১৭ ম্যাচ। পারফরম্যান্স ছিল ভালো-মন্দ মিলিয়ে। নিজের সেরা চেহারায় ফেরেন তিনি গত বিপিএলে। আসরজুড়ে দুর্দান্ত বোলিংয়ে রেকর্ড ২৬ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারও জেতেন।
এরপর বাংলাদেশ খেলতে পারেনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। সেরা ছন্দের শরিফুল নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পাননি বিশ্বমঞ্চে। এরপর অদম্য টি-টোয়েন্টি কাপে খুব ভালো করতে না পারলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের একদিনের ম্যাচের আসরে চার ম্যাচে উইকেট নেন ছয়টি। পাকিস্তান সুপার লিগে গিয়ে পেশাওয়ার জালমির হয়ে শুরুর দুই ম্যাচে বিবর্ণ থাকলেও পরের তিন ম্যাচে ছিলেন উজ্জ্বল।
তার পরও বাংলাদেশের ওয়ানডে একাদশে তিনি পেস আক্রমণে সেরা তিন বিকল্পের মধ্যে ছিলেন না। মুস্তাফিজের চোট তাকে ফেরার পথ তৈরি করে দিল। তিনিও যেন এটির অপেক্ষাতেই ছিলেন।
শেষ সময়ে মাঠে নামার কথা জানতে পারলেও তার মানিয়ে নিতে সময় লাগেনি একটুও। প্রথম বল থেকেই লানি-লেংথ ছিল প্রায় নিখুঁত। প্রথম দুই ওভারে রান দেন দুটি।
পরে প্রান্ত বদলে অন্য প্রান্ত থেকে আনা হয় তাকে। এবার নিক কেলিকে বিদায় করে দলকে এনে দেন তিনি প্রথম ব্রেক থ্রু। পরের ওভারটি নেন মেডেন। শুরুতে দুই দফায় ৫ ওভার বোলিং করে রান দেন মাত্র ৯।
পরের স্পেলে ফেরেন তিনি ইনিংসের ৩১ ওভারের পর। এবার বুদ্ধিদীপ্ত ডেলিভারিতে আউট করেন বিপজ্জনক মুহাম্মাদ আব্বাসকে।
পরে আবার শেষ দিকে ফিরে দুই স্পেলে দুই ওভারে উইকেট না পেলেও দারুণ আঁটসাঁট বোলিং করেন। গোটা ১০ ওভারে বাউন্ডারি হজম করেন মোটে দুটি।
নিউ জিল্যান্ডের রান আড়াইশর নিচে আটকে রাখতে বড় ভূমিকা রাখে তার দারুণ বোলিং। পরের ম্যাচে যদিও তার সুযোগ পাওয়াটা অনিশ্চিত, তবে দাবি ঠিকই জানিয়ে রাখলেন।