Published : 08 Jun 2026, 05:16 PM
টি-টোয়েন্টিতে রিশাদ হোসেনকে ছাড়া বাংলাদেশ দল এখন কল্পনাও করা কঠিন। ওয়ানডেতে এখনও ততটা অপরিহার্য হয়ে উঠতে পারেননি। তবে সেই পথে থাকার প্রমাণ দিয়েছেন নানা সময়ে। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ যদিও ঘাটতির কিছু জায়গা দেখছেন। তার মতে, ওয়ানডেতে আরও ‘প্রোঅ্যাক্টিভ’ হতে হবে এই লেগ স্পিনারকে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অভিষেকের পর ওয়ানডেতে নিয়মিত সুযোগ খুব একটা পাননি রিশাদ। সেই ধারা বদলের ইঙ্গিত দেন তিনি গত অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে। এক ম্যাচে ৬ উইকেটসহ সিরিজে ১২ উইকেট শিকার করে ম্যান অব দা সিরিজ হন তিনি।
পরে পাকিস্তানের বিপক্ষে গত মার্চে প্রথম ম্যাচে দুই ওভার বোলিং করে উইকেট না পেলেও পরের দুই ম্যাচে উইকেট নেন চারটি। সবশেষ সিরিজে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচে তিন উইকেট নেওয়ার পর একাদশে জায়গা পাননি তিনি শেষ ম্যাচে।
সেই ম্যাচটিতে তার জায়গায় খেলতে নেমে ১০ ওভারে ৭০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন বাঁহাতি স্পিনার তানভির রহমান।
লেগ স্পিনাররা কখনও কখনও কিছুটা খরুচে হন বটে, তবে বরাবরই তারা উইকেট শিকারি বোলার। যদিও বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিতে একটু নিরাপদ পথ বেছে নেওয়ার রীতি আছে বরাবরই। লেগ স্পিনের রোমাঞ্চের চেয়ে ফিঙ্গার স্পিনারের নিরাপদ পথই তাদের বেশি টানে। যেখানে উইকেট ধরা দেয় কম, তবে রান আটকানোর নিশ্চয়তা একটু বেশি।
রিশাদকে পেয়ে বাংলাদেশ একটু আগ্রাসী হয়ে উঠছিল বলেই আভাস মিলেছিল গত কিছুদিনে। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের আগে মিরাজের কথার সুর একটু ভিন্ন। টি-টোয়েন্টি রিশাদের সঙ্গে ওয়ানডের রিশাদের পার্থক্য তুলে ধরার চেষ্টা করলেন অধিনায়ক।
“রিশাদ ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলছে, বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলছে। ওকে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে আর ও নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছে। আমার মনে হয় যে, ও যদি নিজেকে আরও আরও বেশি প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, তাহলে আরও ভালো পারফর্ম করতে হবে।”
“একটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে, ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি খেলা আর ওয়ানডে খেলা কিন্তু ভিন্ন। ওকে আরও প্রোঅ্যাক্টিভ হতে হবে, যেহেতু ওয়ানডেতে বেশি ম্যাচ ও খেলেনি। সুযোগ যখন আসবে, তখন ও নিজে বুঝতে পারবে।”
রিশাদের ওপর আস্থা আছে বলে অবশ্য জোর দিয়েই বললেনন মিরাজ। তবে আগের কথার সুর ধরেই আবার বললেন, ওয়ানডেতে রিশাদের আরও উন্নতির বাকি আছে।
“রিশাদ আমাদের অবশ্যই আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ এক বোলার এবং আমরা ওর ওপর অবশ্যই ভরসা রাখি। কিন্তু একটা জিনিস দেখতে হবে, টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে কিন্তু ভিন্ন সংস্করন। ওয়ানডেতে অনেক সময় রান চেক দিতে হয়, অনেক সময় উইকেট নিতে হয়। আমার কাছে মনে হয়, ওকে আরও কিছু উন্নতি করতে হবে।”
“ও যদি আরও ভালো করে ও উন্নতি করে, এটা আমাদের জন্য অনেক সহায়ত হবে এবং ভবিষ্যতে ও আমাদের জন্য একটা ভালো একটা বোলার হিসেবে তৈরি হবে। ওর সুযোগ থাকবে এবং ওর নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে।”