Published : 26 Sep 2025, 10:23 AM
ক্রিকেটীয় আবহে রাজনীতির ঝাঁজ ছড়িয়ে দেওয়া চলবে না। শুনানির পর রাজনৈতিক মন্তব্য করতে মানা করে দেওয়া হলো সুরিয়াকুমার ইয়াদাভকে। ভারতীয় অধিনায়ক কোনো শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছেন কি না, নিশ্চিত নয় এখনও।
দুবাইয়ে বৃহস্পতিবার ম্যাচ রেফারি রিচি রিচার্ডসনের শুনানিতে হাজিরা দিতে হয় সুরিয়াকুমারকে। আইসিসির ম্যাচ রেফারি এরপর ভারতীয় দলপতিকে জানিয়ে দেন, ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় বা ফুটিয়ে তোলা যায় কিংবা রূপ দেওয়া যায়, এমন কোনো কিছু বলা যাবে না।
সুরিয়াকুমারের শুনানি হওয়ায় এটা নিশ্চিত হওয়া গেল, ভারতীয় অধিনায়কের বিরুদ্ধে আইসিসিকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। অভিযোগের খবরটি আগে সংবাদমাধ্যমের প্রকাশ হলেও তা নিশ্চিত করা যায়নি কোনো পক্ষ থেকেই। আনুষ্ঠানিক শুনানি হয়েছে মানে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও ছিল।
খবরে এসেছিল, গ্রুপ পর্বে ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণীতে সুরিয়াকুমারের মন্তব্য নিয়ে আপত্তি ছিল পিসিবির। ভারতীয় অধিনায়ক তাদের জয় উৎসর্গ করেছিলেন দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে ও একাত্মতা ঘোষণা করেছিলেন তিনি পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় আক্রান্ত সবাই ও তাদের পরিবারের সঙ্গে।
তবে এখন জানা যাচ্ছে, ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে সুরিয়াকুমার একটি মন্তব্য ঘিরেই পিসিবির মূল আপত্তি। সংবাদ সম্মেলনেো সশস্ত্র বাহিনীকে উৎসর্গ করা ও পেহেলগাম হামলায় আক্রান্তদের নিয়ে নানা কথা বলেছেন ভারতীয় অধিনায়ক। এক পর্যায়ে তিনি ‘অপারেশন সিদুঁর’ কথাটিও উল্লেখ করেন, যেটা সরাসরি রাজনৈতিক হয়ে গেছে। ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএন জানাচ্ছে, পিসিবির বড় আপত্তি ছিল সেটিতেই।
গ্রুপ পর্বের ওই ম্যাচটিতে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত না মেলানোর ঘটনায় ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের বিরুদ্ধেও অভিযোগ জানিয়ে এক পর্যায়ে আসর থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়েছিল পাকিস্তান। পরে পাইক্রফট ক্ষমা চান বলে জানায় পাকিস্তানের বোর্ড। সেই ক্ষমা চাওয়ার অডিও ছাড়া ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করায় আবার পিসিবির বিরুদ্ধে প্রটোকল ভঙ্গের অভিযোগ তোলে আইসিসি।
দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বির সুপার ফোর পর্বের ম্যাচে সাহিবজাদা ফারহানের ব্যাটকে বন্দুক বানিয়ে উদযাপন ও হারিস রউফের হাত দিয়ে বিমান বানিয়ে তা ভূপাতিত হওয়ার উদযাপন নিয়ে আইসিসিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে ভারতীয় বোর্ড। সেটির শুনানি হতে পারে শুক্রবার।
গত মঙ্গবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সাহিবজাদা অবশ্য সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, তার উদযাপনের পেছনে তেমন কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।
“উদযাপনটি ছিল স্রেফ ওই এক মুহূর্তের ব্যাপার। ফিফটি করার পর এমনিতে খুব একটা উদযাপন করি না। কিন্তু সেদিন হুট করেই মাথায় এলো যে, উদযাপন করা যাক। সেজন্যই করেছি। জানি না, লোকে এটাকে কীভাবে নেবে। সেসবকে আমি পাত্তাও দেই না।”