Published : 05 Mar 2026, 08:51 PM
কেউ কেউ পড়েছেন চোটে, কারও কারও পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন নির্বাচকরা। বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে তাই পরিবর্তনের ছড়াছড়ি। সেই বদলের স্রোতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলে ফিরেছেন লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা। দল থেকে ছিটকে পড়েছেন জাকের আলি, নুরুল হাসান সোহান ও শামীম হোসেন।
এছড়াও চোটের এই সিরিজে খেলতে পারছেন না দুই পেসার হাসান মাহমুদ ও তানজিম হাসান। টেনিস এলবোর চোট থেকে সেরে ওঠার লড়াইয়ে আছেন হাসান। তানজিম ভুগছেন পিঠের সমস্যায়।
বাংলাদেশ সবশেষ ওয়ানডে খেলেছে গত অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। সেই সিরিজের ১৬ জনের স্কোয়াড থেকে এবারের দলে নেই ৫ জন, ফিরেছেন ৪ জন।
পরিবর্তনগুলোর মধ্যে লিটনের ফেরা বেশ কৌতূহল জাগানিয়া। সবশেষ ১৪ ওয়ানডেতে তার ফিফটি নেই। সবশেষ ৮ ইনিংসে ছুঁতে পারেননি দুঅঙ্ক। সবশেষ ২ ইনিংসে ফিরেছেন শূন্যতে। এমন ফর্মের কারণেই জায়গা হারিয়েছিলেন দলে। সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএলে) একদিনের ম্যাচের আসরে তিন ইনিংস খেলে একটিতে ফিফটি করলেও বাকি দুই ইনিংসে করেছেন ১০ ও ০।
দল ঘোষার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন অবশ্য বলেছেন, কোচদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন লিটন এবং শিগগিরই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের সেরাটা দেখা যাবে বলে আশা তাদের। বাদ পড়ার আগে তিন ও চার নম্বরেই বেশি খেলছিলেন লিটন। এই সিরিজেও তাকে নেওয়া হয়েছে মিডল অর্ডারের ভাবনায়।
বিসিএলের প্রথম ম্যাচে আফিফ সেঞ্চুরি করেছিলেন দুবার জীবন পেয়ে। পরের দুই ম্যাচে ততটা ভালো করতে পারেননি। এই সংস্করণে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের মূল আসল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের গত আসরে ৩৫.২২ গড়ে ৩১৭ রান করে তিনি রান সংগ্রহের তালিকায় ছিলেন ৩৮ নম্বরে। তবে নির্বাচকদের মনে হয়েছে, খেন বেশ ছন্দে আছেন ২৬ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
বাংলাদেশের হয়ে এখনও পর্যন্ত ৩৪ ওয়ানডে খেলেছেন আফিফ। সবশেষটি খেলেছেন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে।
ওই সিরিজেই ওয়ানডেতে সবশেষ মাঠে নেমেছিলেন শরিফুল। বিসিএলে ৪ ম্যাচ খেলে ৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি ওভারপ্রতি প্রায় ৬ রান দিয়ে। বাংলাদেশের হয়ে ৪০ ওয়ানডে খেলে তার উইকেট ৫৮টি।
নাহিদ ওয়ানডে খেলেছেন পাঁচটি। সবশেষ খেলেছেন গত অক্টোবরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শারজাহতে। এবারের বিসিএলে দারুণ বোলিং করেছেন তিনি। ৩ ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়েছেন, বেশ গতিময় বোলিং করেছেন।
হাসান ও তানজিমের চোটই মূলত শরিফুল ও নাহিদের ফেরার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
সবশেষ সিরিজে কোনো ম্যাচ না খেলেই বাদ পড়লেন জাকের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওই সিরিজের ঠিক আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে দুটি ম্যাচ খেলে তিনি ভালো করতে পারেননি। কদিন আগে বিসিএলে একটি ম্যাচ খেলে করেছেন ৫ রান।
বাজে পারফরম্যান্সের খেসারত দয়ে জায়গা হারাতে হলো সোহানকেও। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে সিরিজে তার রান ছিল ৯, ২৩ ও অপরাজিত ১৬। আফগানদের বিপক্ষে তিন ইনিংসে করেছিলেন ২৪ রান। এবার বিসিএলে ২ ইনিংস ব্যাট করে তার রান ২৪ ও ০।
শামীমও বাদ পড়লেন সবশেষ সিরিজে না খেলেই। এর আগে আফগানদের বিপক্ষে সিরিজে একটিই ম্যাচ খেলে রান আউট হয়েছিলেন প্রথম বলে। শ্রীলঙ্কা সফরে দুটি ওয়ানডে খেলে তেমন কিছু করতে পারেননি। এখনও পর্যন্ত ৭ ওয়ানডে খেলে তার রান ৯.৫৭ গড়ে ৬৭। বিসিএলে ২ ইনিংস খেলে করেছেন ০ ও ১২।
পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজের ম্যাচ তিনটি হবে আগামী ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে। সবকটি ম্যাচ শুরু হবে দুপুর সোয়া ২টায়।
সিরিজের আগে বাংলাদেশ দল একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বিসিএল অল স্টার দলের বিপক্ষে। মিরপুরে শনিবার এই ম্যাচও শুরু হবে দুপুর সোয়া ২টায়।
সিরিজের জন্য পাকিস্তান দল ঘোষণা করা হয়েছে বুধবার। শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে সেই দলেও আছে অনেক পরিবর্তন।
বাংলাদেশ ওয়ানডে স্কোয়াড: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, রিশাদ হোসেন, তানভির ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানা।
দলে ফেরা: লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানা।
বাদ: নুরুল হাসান সোহান, জাকের আলি, শামীম হোসেন।
চোট: হাসান মাহমুদ, তানজিম হাসান।