Published : 13 Apr 2026, 10:15 AM
কন্ডিশনের একটি চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই। নিউ জিল্যান্ডে এখন গ্রীষ্মকাল শেষ, বাংলাদেশের গ্রীষ্মের শুরু। সেখানকার চেয়ে এখানে গরম অনেক বেশিই থাকবে। তবে আবহাওয়ার চেয়ে টম ল্যাথামের ভাবনায় বেশি ক্রিকেটীয় চ্যালেঞ্জ। নিউ জিল্যান্ডের অধিনায়ক ধরেই রেখেছেন, বাংলাদেশ সফরে স্পিনই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। সেই চ্যালেঞ্জ সামলানোর বিশ্বাসও আছে বলে জানালেন তিনি।
তিনটি ওয়ানডে ও তিন টি-টোয়েন্টির সিরিজ খেলতে নিউ জিল্যান্ড দল এখন বাংলাদেশের পথে। দেশ ছাড়ার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অধিনায়ক ল্যাথাম শুনিয়েছেন সফরটি নিয়ে তার ভাবনা।
নেতৃত্বে যখন ল্যাথাম, এটিই বলে দিচ্ছে দলটির বাস্তবতা। অধিনায়ক নিজেও বললেন, “যে ধরনের দল দেখতে আমরা অভ্যস্ত, এই দলটি পরিষ্কারভাবেই একটু আলাদা…।”
আদতে ‘একটু’ নয়, এই দলটি পুরোপুরিই আলাদা। আইপিএল, পিএসএলে ব্যস্ততা এবং চোট-ছুটি-বিশ্রাম মিলিয়ে শীর্ষ ১৬-১৭ জন ক্রিকেটারকে বাংলাদেশ সফরের দলটি গড়েছে নিউ জিল্যান্ড। এটিকে তাই শুধু ‘বি’ দল নয়, ‘সি’ দল বললেও ভুল হয় না।
সেই বাস্তবতা মেনে নিয়েই ল্যাথাম মনে করিয়ে দিলেন, দলটি অনভিজ্ঞ হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আনকোরা নয় কেউই।
“আইপিএল, পিএসএলে অনেক ক্রিকেটার থাকায় কিছু তরুণ খেলোয়াড় সুযোগ পাচ্ছে। যদিও এমন নয় যে এদের সবাই তরুণ, তবে এমন কিছু ক্রিকেটার আছে, যাদের অভিজ্ঞতা আমাদের পরিচিতদের চেয়ে কিছুটা কম। কিন্তু পুরো স্কোয়াডের দিকে তাকালে দেখা যাবে, প্রত্যেকেই কোনো না কোনো সময়ে নিউ জিল্যান্ডের হয়ে খেলেছে, সেটা টি-টোয়েন্টি হোক বা ওয়ানডে।”
“প্রত্যেকেরই কিছু আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থাকাটা এই সফরের জন্য আশার কথা। আমার মনে হয়, এই ক্রিকেটারদের যত বেশি অভিজ্ঞতা আমরা দিতে পারব, তা স্বাভাবিকভাবেই আমাদের পুরো লাইন-আপে গভীরতা বাড়াবে।”
এই দলের ছয় ক্রিকেটার গত বছর নিউ জিল্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। তাই কন্ডিশনের অনেকটা টাটকা স্বাদও তাদেরকে সহায়তা করতে পারে।
নিজ দলের অভিজ্ঞতার চেয়ে ল্যাথাম বেশি ভাবছেন প্রতিপক্ষের সম্ভাব্য শক্তির জায়গা নিয়েই। বাংলাদেশে সবশেষ ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে উইকেট মোটেও স্পিন সহায়ক ছিল না, বরং দারুণ প্রাণবন্ত ও স্পোর্টিং ছিল ২২ গজ। তবে নিউ জিল্যান্ডের জন্য ভিন্ন ভাবনা থাকতেও পারে টিম ম্যানেজমেন্টের! অতীত অভিজ্ঞতার কারণে হয়তো কিউই অধিনায়ক স্পিনের চ্যালেঞ্জই ধরে রেখেছেন।
“খেলার যে বৈশিষ্ট্য বা উইকেটের সম্ভাব্য ধরন, সেটির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সামর্থ্য আমাদের আছে বলেই মনে করি। আগের খেলাগুলো পর্যালোচনা করে যতটা সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করা হয়। বাংলাদেশে যাওয়ার আগে অবশ্যই আমরা জানি যে, স্পিন সেখানে একটি বিশাল ভূমিকা পালন করে। এটা বুঝতে হবে যে, নিউ জিল্যান্ডের চেয়ে ওখানকার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।”
“তাই আমার মনে হয়, যখনই বাংলাদেশ বা কিছুটা অপরিচিত কোনো জায়গায় যাওয়া হয়, খেলার আগের প্রস্তুতি সেখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরপর সেখানে গিয়ে শুরুটা ভালোভাবে করতে পারলে একটি বিশাল পার্থক্য গড়ে দেয়। তাই হ্যাঁ, মানিয়ে নেওয়াটা সবসময় জরুরি। এটা নিয়ে আমরা সবসময় কথা বলি এবং আশা করি আমরা তা ভালোভাবে করতে পারব। নিউ জিল্যান্ডে ক্রিকেট খেলে আমরা বেশ ভালো একটা সময় কাটিয়েছি।”
সত্যিই স্পিন বড় হুমকি হয়ে উঠলে সেখানে বড় ভরসাও ল্যাথাম নিজেই। তিনি শুধু এই দলের অধিনায়ক ও সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানই নন, স্পিন ভালো খেলেন বলেও পরিচিতি আছে।
সেই দায়িত্বের ভার বইতে নিজের অভিজ্ঞতায় ভরসা রাখলেন ১৬৩ ওয়ানডে খেলা ব্যাটসম্যান।
“কন্ডিশনই কখনও কখনও খেলার ধরণ ঠিক করে দেয়। যেহেতু আমি অনেক দিন ধরে খেলছি, তাই ওই ধরনের পরিস্থিতিতে নিজের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করতে হয়। আশা করি, যারা আগে এই কন্ডিশনে খেলেছে, তারা কিছুটা অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে পারবে যে, পিচ কেমন আচরণ করে এবং যে বোলারের বিপক্ষে আগে খেলেছি।”
“রোমাঞ্চকর একটি সফর হবে এটি। আমার মনে হয়, অনেক সুযোগ থাকছে এখানে। ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে এই তিন সপ্তাহে অনেক উন্নতি হবে। কাজেই এটির অংশ হতে মুখিয়ে আছি।”
নিউ জিল্যান্ড ওয়ানডে দল: টম ল্যাথাম (অধিনায়ক), মুহাম্মাদ আব্বাস, আদিত্য আশোক, বেন লিস্টার, জশ ক্লার্কসন, ডেন ক্লেভার, ডিন ফক্সক্রফট, নিক কেলি, জেডেন লেনক্স, হেনরি নিকোলস, উইল ও’রোক, ন্যাথান স্মিথ, ব্লেয়ার টিকনার, উইল ইয়াং।
নিউ জিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি দল: টম ল্যাথাম (অধিনায়ক), কাটেনে ক্লার্ক, বেন লিস্টার, জশ ক্লার্কসন, ডেন ক্লেভার, ম্যাট ফিশার, ডিন ফক্সক্রফট, বেভন জ্যাকবস, নিক কেলি, জেডেন লেনক্স, টিম রবিনসন, বেন সিয়ার্স, ন্যাথান স্মিথ, ইশ সোধি, ব্লেয়ার টিকনার।