Published : 14 May 2026, 09:47 PM
বিগ ব্যাশে পারিশ্রমিক না বাড়লে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ক্রিকেটাররা দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এসএ টোয়েন্টিতে যাওয়ার কথা ভাবছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। তবে এমন দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স।
‘বিগ ব্যাশ লিগে পারিশ্রমিক না বাড়লে খেলোয়াড়রা দক্ষিণ আফ্রিকা টি-টোয়েন্টিতে খেলার কথা ভাবছেন’ শিরোনামে শুক্রবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘দা এজ।’
প্রতিবেদনটি অনলাইনে প্রকাশ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ কামিন্স লেখেন, “এসএ টোয়েন্টি এনওসি (অনাপত্তিপত্র) ও দা হান্ড্রেড-এর প্রস্তাব নিয়ে আপনারা আমার সম্পর্কে যা কিছু লিখেছেন, তার সবই মনগড়া।”
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেস্ট অধিনায়ক কামিন্সসহ অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ক্রিকেটাররা বিগ ব্যাশ লিগে খেলার জন্য জনপ্রতি প্রায় ১০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার পারিশ্রমিক না পেলে, ২০২৭-২৮ এর অস্ট্রেলিয়ান গ্রীষ্মকালীন মৌসুম থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়ে এসএ টোয়েন্টিতে খেলার কথা বিবেচনা করতে পারেন।
ওই মৌসুমে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ‘অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ’ আন্তর্জাতিক সিরিজ থাকায় বিগ ব্যাশই আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকবে, আর এটিই নাকি ক্রিকেটার ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে উত্তেজনার উৎস।
সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে পাওয়া ২০২৬-২৭ মৌসুমের প্রাথমিক চুক্তির প্রস্তাবে অন্তত পাঁচ জন সিনিয়র ক্রিকেটার সন্তুষ্ট নন এবং তারা এখনও চুক্তি স্বাক্ষর করতে রাজি হননি।
শুক্রবার ‘দা এজ’ ও গত শনিবার ‘কোড স্পোর্টস’ উভয় পত্রিকাই তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, অস্ট্রেলিয়ার সিনিয়র ক্রিকেটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে, কারণ বিগ ব্যাশে তাদের এক লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারেরও বেশি কম বেতন দেওয়া হয় বেশিরভাগ বিদেশি ক্রিকেটারের চেয়ে, যাদের বেশিরভাগেরই মান তাদের তুলনায় অনেক কম।
কোড স্পোর্টস আরও লিখেছে, ক্রিকেটাররা এই বিশ্বাসে বিষয়টি মেনে নিতে রাজি ছিলেন যে, শিগগিরই বিগ ব্যাশ বেসরকারীকরণ হবে এবং হয়তো বেতন কাঠামোতেও পরিবর্তন আসবে। কিন্তু সম্প্রতি সেই আশা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। কারণ দুটি অস্ট্রেলিয়ান রাজ্য সংস্থা, ক্রিকেট নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ড ক্রিকেট এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে।
দা এজ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনটির দুটি দিক সুনির্দিষ্টভাবে খণ্ডন করেছেন কামিন্স। যার প্রথমটি হলো, তিনি এসএ টোয়েন্টিতে খেলার জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কাছে অনাপত্তিপত্র চাইতে পারেন। দ্বিতীয়টি হলো, এই বছর ইংল্যান্ডের একশ বলের প্রতিযোগিতা দা হান্ড্রেড-এ খেলার জন্য তিনি প্রস্তাব পেয়েছিলেন।
সংবাদমাধ্যমটি দ্বিতীয়তে দাবি করেছে, কামিন্স ও তার সতীর্থ দুই ফাস্ট বোলার মিচেল স্টার্ক ও জশ হেইজেলউডকে দা হান্ড্রেড-এ খেলার জন্য সরাসরি চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় হিসেবে (নিলামের বাইরে) প্রত্যেককে প্রায় আট লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই টুর্নামেন্টের সময়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে খেলার জন্য তারা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
আইপিএলে ২০২৪ সাল থেকে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলছেন কামিন্স। এই দলটির মালিকদের দা হান্ড্রেডে (সানরাইজার্স লিডস) ও এসএ টোয়েন্টিতেও (সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ) দল আছে। অস্ট্রেলিয়ার বাইরে কামিন্সের অন্য বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তিটি হলো মেজর লিগ ক্রিকেটে সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের সঙ্গে।
ক্রিকেটারদের অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটকে কম গুরুত্ব দেওয়ার যেকোনো গুজব উড়িয়ে দিতে জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে কামিন্সের এগিয়ে আসাটা অনুমেয় ও বোধগম্যই। কিন্তু তিনি নিজেও আগে ক্রিকেটারদের সম্ভাব্য উদ্বেগ নিয়ে কথা বলেছেন।
গত মার্চে ‘বিজনেস অব স্পোর্ট’ পডকাস্ট-এ কামিন্স বলেছিলেন, “এই মৌসুমে দা হান্ড্রেড-এর সময় বাংলাদেশের বিপক্ষে আমাদের দুটি টেস্ট ম্যাচ আছে। আমাদের যে খেলোয়াড়রা এখানে খেলবে, তারা সবাই দা হান্ড্রেড এর নিলামে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কিন্তু বিষয়টি চিরকাল এমন থাকবে না।”
“বাংলাদেশের বিপক্ষে ওই দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে যাওয়ার জন্য আমাদের কিছু খেলোয়াড় ২০ দিনের কাজের বিনিময়ে পাঁচ লাখ পাউন্ডের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছে। তাই আমি মনে করি, এটা উদ্বেগের বিষয়। এই মুহূর্তে আমাদের খেলোয়াড়রা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলার জন্য এতটাই আগ্রহী যে, তারা এটা ছেড়ে দিতেও রাজি, কিন্তু আমি মনে করি না যে চিরকাল এমনটাই হবে।”