২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ভারতের ছায়া নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে হান্ড্রেডে খেলার আশায় সাহিবজাদা

ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোতে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সুযোগ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে তীব্রভাবেই।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Feb 2026, 09:33 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:01 PM

অসহায়ত্ব আর আশাবাদ, দুটিই শোনা গেল সাহিবজাদা ফারহানের কণ্ঠে। কেউ দলে না নিলে কিছু করার নেই, এই বাস্তবতা তিনি জানেন। তবে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানের আশা, দা হান্ড্রেডে খেলার সুযোগ পাবেন তিনি।

ইংল্যান্ডের এই লিগে ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোতে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সুযোগ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে রাখলেন চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান করা এই ব্যাটসম্যান।

ভিত্তিমূল্য ৫০ হাজার পাউন্ডে এবারের নিলামে নাম দিয়েছেন সাহিবজাদা। সব মিলিয়ে ৯৫০ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে নিলাম হবে আগামী ১১ ও ১২ মার্চ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের সুপার এইটের ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে সাহিবজাদা বললেন, ১০০ বলের এই ক্রিকেট আসরে খেলতে মুখিয়ে আছেন তিনি।

“কে আমাদেরকে দলে নেবে, কে নেবে না, এসব তো আমাদের হাতে নেই। যেখানেই আমরা সুযোগ পাই এবং যারাই আমাদেরকে নিতে আগ্রহী, নিতে পারে। আমরা এই লিগে খেলতে প্রস্তুত।”

“আশা করছি আমাকে নেওয়া হবে। সেরা লিগগুলোয় সবাই খেলতে চায়। বিশ্বের সেরা লিগগুলোর একটি দা হান্ড্রেড। আশা করি, ভালো কিছুই হবে।”

দা হান্ড্রেডে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার ব্যাপারটি প্রথম উঠে আসে কদিন আগে বিবিসির একটি প্রতিবেদনে। সেখানে তুলে ধরা হয়, ক্রিকেটারদের এজেন্টদেরকে জানিয়ে দিয়েছে, ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোতে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের নেওয়া হবে না। 

রাজনৈতিক বৈরিতার জের ধরে প্রথম আসরের পর আইপিএলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের আর নেওয়া হয় না। বিশ্বের অন্যান্য লিগগুলোতেও এখন আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মালিকপক্ষ বা ভারতীয় কর্ণধারদের দল অনেক। এসএ টোয়েন্টিতে যেমন পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের এখনও দেখা যায়নি কোনো আসরেই। এছাড়াও ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ, যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেট, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি-টোয়েন্টিতেও এখন বেশির ভাগ দল ভারতীয় মালিকানাধীন। আইএল টি-টোয়েন্টির গত আসরে কেবল ডেজার্ট ভাইপার্স দলেই পাকিস্তানি ক্রিকেটারদেরর দেখা গেছে টুর্নামেন্টের একমাত্র আমেরিকান মালিকানাধীন দল সেটি। 

আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞার কোনো সুযোগ এখানে নেই। এটিকে তাই বলা হচ্ছে ছায়া নিষেধাজ্ঞা। 

দা হান্ড্রেডের আট ফ্র্যাঞ্চাইজির চারটিই ভারতীয় মালিকানাধীন। বিবিসির প্রতিবেদনের পর দা হান্ড্রেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভিক্রাম ব্যানার্জি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, দল নির্বাচন হওয়া উচিত যোগ্যতার ভিত্তিতে এবং বৈষম্যের যেকোনো প্রমাণ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে ধাবিত করবে।

বিভিন্ন লিগে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দলে না নেওয়ার ঘটনায় সম্প্রতি দা টেলিগ্রাফে আলোচনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ছেন ইংলিশ অলরাউন্ডার মইন আলি।

“সময় এখন সমাধান বের করার, কারণ এটি ন্যায্য নয়। এটি স্পষ্টতই নির্দিষ্ট ধরণের মানুষের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ। ভয়াবহ ব্যাপার।”

“আমার কাছে এটা অদ্ভুত লাগে যে, কেউ আসলে এটি নিয়ে খুব বেশি কথা বলে না। বিশেষ করে শীর্ষে জায়গায় আছেন যারা, সত্যিকার অর্থে তাদের কেউ ব্যাপারটি তুলে ধরছে না। লোকে এটি নিয়ে কথা বলছে না, যাতে তারা সমস্যায় না পড়ে।”

মইন নিজেও এসব কথা বলায় নিজের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্যারিয়ারকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পর তিনি এখন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটই খেলছেন।

তবে ভারতীয় মালিকানাধীন দলের বাইরেও পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দা হান্ড্রেডে খেলায় আরেকটি বড় বাধা জাতীয় দলের সূচি। যে সময়ে হান্ড্রেড হয়, তখন পাকিস্তান জাতীয় দলের খেলাও থাকে। এবারও এই টুর্নামেন্ট চলার সময় পাকিস্তান দলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর আছে। 

এছাড়াও টুর্নামেন্টে নাম লিখিয়ে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ানোর কিছু ঘটনাও আগে ঘটেছে। শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহর মতো ক্রিকেটাররা এমনটি করেছেন আগে। যে কারণে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ভাবমূর্তির সঙ্কটও কিছুটা আছে। ভারতীয় মালিকানাধীন দল আসার আগেও তাই টুর্নামেন্টের প্রথম ৫ আসরে দেখা গেছে মোটে ৯ জন পাকিস্তানি ক্রিকেটার।