Published : 20 Apr 2026, 07:15 PM
আফগানিস্তানের জার্সিতে বহু লড়াইয়ে জয়ী শাপুর জাদরান এখন জীবন বাঁচাতে লড়ছেন। দেশটির সাবেক এই পেসারের শরীরে হানা দিয়েছে ‘হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস’ (এইচএলএইচ) নামের এক বিরল ও মরণব্যাধি। দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।
এইচএলএইচ রোগটি সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তবে বড়দেরও হতে পারে যদি তারা আগে থেকেই কোনো বড় সংক্রমণ কিংবা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এটি মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অকেজো করে দিতে শুরু করে। এটা অস্থিমজ্জা, যকৃৎ, প্লিহা এবং লসিকা গ্রন্থিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
গত অক্টোবরে প্রথম অসুস্থতা অনুভব করেন শাপুর। তার ছোট ভাই ঘামাই জাদরান জানান, আফগানিস্তানের চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
আফগানিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার রাশিদ খান ও আফগান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) চেয়ারম্যান মিরওয়াইস আশরাফের সহযোগিতায় শাপুরের জন্য দ্রুত ভারতীয় ভিসার ব্যবস্থা হয়। ঘামাই বলেন, গত ১৮ জানুয়ারি ভারতে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন শাপুর। কানাডা প্রবাসী ঘামাইয়ের পাশাপাশি শাপুরের স্ত্রী ও আফগানিস্তানের সাবেক অধিনায়ক আসগর আফগান সেখানে আছেন।
৩৯ ছুঁইছুঁই বয়সী শাপুরের শরীরে এই রোগ চতুর্থ স্তরে পৌঁছে গেছে। এখন হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তিনি। ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোকে শাপুরের বর্তমান অবস্থার ধারণা দেন ঘামাই।
“খুবই ভয়াবহ সংক্রমণ। টিবিসহ (টিউবারকুলোসিস) তার পুরো শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এমআরআই ও সিটি স্ক্যানে দেখা গেছে, এটি মস্তিষ্কেও ছড়িয়েছে।”
ঘামাই জানান, চিকিৎসায় শাপুরের শরীর কিছুটা সাড়া দিচ্ছিল। কিছুটা সুস্থ অনুভব করায় মাঝে হাসপাতাল ছেড়ে তাকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি হোটেলে ওঠেন তারা। কিন্তু সংক্রমণ আবারও ফিরে এলে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

“নিয়মিত চেক-আপের জন্য যেতে বলেছিলেন চিকিৎসক। পুনরায় সংক্রমণের আগে সে প্রায় ২০ দিনের মতো ভালো অনুভব করছিল। এরপর তাকে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করি।”
এই সময়ে ডেঙ্গু জ্বরেও আক্রান্ত হন শাপুর। পরে গত ২৬ মার্চের দিকে তার অস্থিমজ্জা পরীক্ষা করা হয়, সেখানে এইচএলএইচ চতুর্থ পর্যায়ে ধরা পড়ে।
ক্রিকেট বিশ্বের অনেকে কঠিন এই সময়ে শাপুরের পাশে দাঁড়িয়েছে। আসগর আফগান সাধ্যমতো সহায়তা করে যাচ্ছেন। জানুয়ারিতে ভারতে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে হাসপাতালে দিন-রাত পার করছেন তিনি। বর্তমানে দুবাইয়ে থাকলেও, বন্ধু ও সাবেক সতীর্থ শাপুরের জন্য তিনি নিয়মিত দুবাই থেকে দিল্লিতে যাতায়াত করছেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় শাপুরকে দেখতে গিয়েছিলেন রাশিদ খান। শুধু তাই নয়, দিল্লি ও মুম্বাইয়ের চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তিনি। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে খেলা আফগান স্পিনার এএম গাজানফার ও এসিবি চেয়ারম্যানও তাকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন। পাকিস্তান কিংবদন্তি শাহিদ আফ্রিদিও তার খোঁজ নিয়েছেন। সোমবার আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইও তাকে কল করার কথা রয়েছে।
ঘামাই জানান, এই মুহূর্তে কথা তেমন বলছেন না শাপুর, বেশিরভাগ সময়ই ঘুমিয়ে থাকছেন। তার ওজন প্রায় ১৪ কেজি কমে গেছে। তবে দিনে দিনে বড় ভাইয়ের অবস্থার উন্নতি হবে বলে আশায় আছেন আফগানিস্তান ‘এ’ দলের হয়ে খেলা ঘামাই।
আফগানিস্তানের জার্সিতে ২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৪৪ ওয়ানডে ও ৩৬ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন শাপুর। লম্বা চুলের দীর্ঘদেহী এই পেসার ৮০টি আন্তর্জাতিক উইকেট নিয়েছেন।