Published : 19 Jan 2026, 09:00 AM
প্রবাদে আছে ‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার।’ তবে সেটি যে সবসময়ই সত্যি নয়, সাইফ হাসান তা অনুভব করছেন ভালোভাবেই। বিপিএলের শেষ ম্যাচে তিনি জ্বলে উঠেছেন, জিতেছে তার দল। কিন্তু তার নিজের ও দল সব হারিয়ে ফেলেছে আগেই। শেষ ম্যাচের প্রাপ্তিতে তাই কেবল শেষের স্বস্তিটুকু আছে, ‘সব ভালোর’ তৃপ্তি নেই। তিনি নিজেও তা জানেন। তাই সেই হতাশাও তার আছে।
বিপিএলের প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচটিতে রোববার ৪৪ বলে ৭৩ রানের ইনিংস খেলেছেন সাইফ। দারুণ কিছু শটে চার ও ছক্কা মেরেছেন পাঁচটি করে। ম্যান অব দা ম্যাচও হয়েছেন তিনি।
সমস্যা হলো, এই এক ম্যাচেই তিনি ছাড়িয়ে গেছেন আগের সব ম্যাচকে। এই আসরে আগে আট ম্যাচ মিলিয়ে তার রান ছিল স্রেফ ৬০। ব্যাটিং গড় ছিল ৭.৫০।
তার দলের অবস্থাও তথৈবচ। ১০ ম্যাচের স্রেফ তিনটি জিতে পয়েন্ট তালিকায় তলানি থেকে দুই নম্বরে শেষ করেছে ঢাকা ক্যাপিটালস।
দলের এমন ভরাডুবির পেছনে অনেকগুলি কারণের একটি নিঃসন্দেহে সাইফের বাজে পারফরম্যান্স। গত এশিয়া কাপে ও পরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে তার পরফরম্যান্স দেখে তাকে সরাসরি চুক্তিতে দলে নিয়েছিল ঢাকা।
সেই প্রত্যাশার ছিটেফোটাও পূরণ হয়নি। সাইফ অকপটেই মেনে নিলেন দায়।
“দল তো আশা করেছিল যে আমি দলের জন্য ভালো কিছু করব। যেহেতু সরাসরি চুক্তিতে খেলছিলাম, অবশ্যই অনেক প্রত্যাশা ছিল। প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি, ওটার জন্য অবশ্যই দুঃখপ্রকাশ করছি। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে আমার প্রতি সমর্থন ছিল সবসময়।”
টুর্নামেন্ট শেষে পেছন ফিরে তাকিয়ে সাইফ বললেন, রানের ফেরার চেষ্টায় অতি মরিয়া হয়ে বরং আরও উল্টো ফল হয়েছে তার।
“প্রথম কয়েক ম্যাচ তো রান পাইনি, আপনারা দেখেছেনই। ওটাতে আমার কিছু করার ছিল না। আমি চেষ্টা করেছি আমার প্রক্রিয়ায় থাকার, কিন্তু হচ্ছিল না (রান)। একটু বেশি চেষ্টা করে ফেলছিলাম, অনুশীলন একটু বেশি করছিলাম। একটা বিরতির পর ঢাকা এসেছি। শেষ দুই ম্যাচ মানসিকভাবে খুব ভালো একটা জায়গায় ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, ক্লিক করছে।”
শেষ ম্যাচটিতে আর হারানোর কিছু ছিল না। প্রত্যাশার চাপ বলেই তেমন কিছু ছিল না। খোলা মন নিয়ে মাঠে নেমেছেন। এটি তাকে সহজাত খেলা খেলতে সহায়তা করে থাকতে পারে মনে করছেন তিনিও।
“হ্যাঁ, এরকম হতে পারে (শেষ ম্যাচে চাপ না থাকায় মুক্তমনে খেলা)। শেষ দুই ম্যাচে এই জিনিসটা ছিল। ফ্রি খেলার চেষ্টা করছি, প্রত্যাশা ছিল না। আসলে প্রত্যাশাই চাপ নিয়ে আসে। কেবল ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।”