Published : 06 Jun 2026, 01:09 PM
বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির সংকটের মধ্যেই অ্যাঙ্গোলার লিসিমা মালভূমিতে নতুন প্রজাতির ফড়িং, ঘাসফড়িং ও অন্ধকারে আলো ছড়ানো এক অদ্ভুত মাকড়সাসহ বেশ কিছু নতুন বন্যপ্রাণীর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
বুধবার এক বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংগঠনের বরাত দিয়ে রয়টার্স লিখেছে, ফেব্রুয়ারিতে অ্যাঙ্গোলার লিসিমা মালভূমিতে এক অভিযানে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা উজ্জ্বল রঙের ৮টি নতুন প্রজাতির ফড়িং, ৩টি অজানা প্রজাতির ঘাসফড়িং এবং প্রায় ৬০টির মতো নতুন প্রজাতির প্রজাপতি ও মথ খুঁজে পেয়েছেন।
‘ওয়াইল্ডারনেস প্রজেক্ট’ নামের সংগঠনটি ওই মালভূমির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বিভিন্ন জলাশয় পরিদর্শনে গিয়েছিল, যা আফ্রিকার প্রধান চারটি নদী কঙ্গো, ওকাভাঙ্গো, জাম্বেজি ও কুয়ানজার মূল পানির উৎস।
নতুন আবিষ্কৃত এসব প্রজাতির মধ্যে রয়েছে শক্ত খোলসের এক ধরনের শিকারি ঝিঁঝিঁ পোকা, আগে কখনও দেখা যায়নি এমন তামাটে রঙের শুঁয়োপোকা ও তার পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতি এবং এক ধরনের মুকুটধারী কাঁকড়া-মাকড়সা, যা আল্ট্রাভায়োলেট বা ইউভি আলোতে চকচক করে ওঠে।
এ ছাড়া বিশেষজ্ঞরা গাঢ় কমলা-লাল রঙের ‘লেডিবার্ড অর্ব-ওয়েব’ মাকড়সারও নতুন এক প্রজাতি খুঁজে পেয়েছেন। মাকড়সাটি শিকারি প্রাণীদের হাত থেকে বাঁচতে লেডিবার্ড পোকার রূপ ধারণ করে। নিজের এ উজ্জ্বল রঙের মাধ্যমে মাকড়সাটি শিকারিদের এ সংকেত দেয় যে, প্রাণীটি খেতে তেতো বা বিষাক্ত।
অভিযান দলের প্রধান রব টেইলর বলেছেন, “বর্মধারী ঝিঁঝিঁ পোকাগুলো দারুণ... তবে দেখতে বেশ হিংস্র। আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে এরা আক্রমণকারীর গায়ে এক ধরনের তরল পদার্থ ছিটিয়ে দিতে পারে।”
বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ লাখ উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতি আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। এমন এক বৈশ্বিক পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দুনিয়াজোড়ার বিজ্ঞানীরা এখন হন্যে হয়ে নতুন নতুন প্রজাতির সন্ধান ও তা নথিবদ্ধ করার চেষ্টা করছেন।

বিজ্ঞানীদের অনুমান, পৃথিবীতে মোট ৮৭ লাখ প্রজাতি রয়েছে, যার মধ্যে বিজ্ঞান কেবল ১৫ লাখ প্রজাতিকে শনাক্ত করতে পেরেছে।
মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক প্রজাতিই দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।
হিসাব অনুসারে, ১৫০০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত আটশটিরও বেশি প্রাণী প্রজাতি পৃথিবী থেকে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
টেইলর বলেছেন, লিসিমা মালভূমির বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি আজ নানা কারণে হুমকির মুখে। যার মধ্যে রয়েছে ‘গাছ কাটা, বন উজাড় করা ও প্রচলিত পদ্ধতির হীরার খনি’।
পাশাপাশি ‘পোড়ো চাষ’ বা জুম চাষের মতো কৃষি পদ্ধতিও এর জন্য দায়ী, যেখানে চাষাবাদের জন্য প্রথমে প্রাকৃতিক বন পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং পরবর্তীতে বৃষ্টির পানিতে মাটির সব পুষ্টি উপাদান ধুয়ে মুছে যায়।