Published : 27 Aug 2025, 02:00 AM
ছাত্র গণ অভ্যুত্থানের এক বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে রাজনীতির নতুন চেহারা ফুটে উঠেছে ডাকসু নির্বাচনে; আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর মাধ্যমে যা পেল ভিন্ন মাত্রা।
এবার ছাত্রী ভোটারের সংখ্যা আগের তুলনায় যেমন বেড়েছে, তেমনি নেতৃত্বের দৌড়েও সামনে এগিয়েছেন তারা। আর ভোটার তালিকায় ছাত্রদের সংখ্যা কমলেও প্রার্থীর সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে অনেক।
সবশেস ২০১৯ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের সঙ্গে এবারের ভোটার ও প্রার্থীর পরিসংখ্যান মিলিয়ে পাওয়া গেছে এমন চিত্র।

ডাকসুতে ২৮টি পদের নির্বাচনে ৪৭১ প্রার্থীর মধ্যে ৬২ পদে প্রার্থী হয়েছেন ছাত্রীরা। ভিপি, জিএস এবং এজিএস পদের সঙ্গে বেশিরভাগ সম্পাদকীয় পদের জন্য মাঠে নেমেছেন তারা। হল সংসদগুলোতে ভোট হচ্ছে ভিসি-জিএসসহ ১৩ পদে।
২০১৯ সালে ডাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ২২৯। ভিপি, জিএস ও এজিএসসহ পাঁচটি পদ মিলিয়ে মোট নারী প্রার্থী ছিলেন ২৮ জন।
২০১৯ সালের নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার ২৫৫। তার মধ্যে ৫টি ছাত্রী হলের ভোটার ১৬ হাজার ৩১২ জন।
এবারের নির্বাচনে ১৮টি হলের মোট ভোটারের সংখ্যা ৩৯ হাজার ৮৭৪। তার মধ্যে ছাত্রীদের পাঁচ হলে ভোটার আছেন ১৮ হাজার ৯৫৯ জন।
২০১৯ সালে প্রায় ৫৮৬ জন ছাত্রীর বিপরীতে একজন ছাত্রী প্রার্থী ছিলেন, এবার ৩০৬ জনের বিপরীতে প্রার্থী একজন।
২০১৯ সালে ১৩৪ ছাত্রের বিপরীতে একজন ছাত্র প্রার্থী ছিলেন। এবার সেটা দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে একজন।
এবার ছাত্র ভোটার ২২.৩৭ শতাংশ কমলেও প্রার্থী বেড়েছে প্রায় ১০৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
আর ছাত্রী ভোটার ১৬ দশমিক ২২ শতাংশ বাড়ার পাশাপাশি প্রার্থী বেড়েছে ১২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
|
বিষয় |
২০১৯ |
২০২৫ |
পরিবর্তন |
|
ছাত্র ভোটার সংখ্যা |
২৬৯৪৩ |
২০৯১৫ |
২২.৩৭% কমেছে |
|
ছাত্রী ভোটার সংখ্যা |
১৬৩১২ |
১৮৯৫৯ |
১৬.২২% বেড়েছে |
|
মোট ভোটার |
৪৩২৫৫ |
৩৯৮৭৪ |
৭.৮২% কমেছে |
|
ছাত্র প্রার্থীর সংখ্যা |
২০১ |
৪০৯ |
১০৩.৪৮% বেড়েছে |
|
ছাত্রী প্রার্থীর সংখ্যা |
২৮ |
৬২ |
১২১.৪৩% বেড়েছে |
|
মোট প্রার্থীর সংখ্যা |
২২৯ |
৪৭১ |
১০৫.৬৮% বেড়েছে |
ডাকসু নির্বাচনে এবার সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে নির্বাচন করছেন সর্বাধিক ৪৫ জন। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৯ জন ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২৫ জন প্রার্থী হয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে ১৭ জন; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ১২; কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ১১ জন; আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে ১৪ জন; সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ১৯; গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ৯ জন; ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১৩; ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে ১২; সমাজসেবা সম্পাদক পদে ১৭ জন; ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক পদে ১৫; স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ১৫; মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন প্রার্থী হয়েছেন। এ ছাড়া ১৩ সদস্য পদের বিপরীতে লড়বেন ২১৭ জন।
গেল ১৯ অগাস্ট মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন পর্যন্ত ডাকসু নির্বাচনে মোট ৫০৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাদের মধ্যে ৩৮ জন বাছাইয়ে বাদ পড়েন।

ডাকসু ভোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘেঁটে দেখা গেছে, নারীদের মধ্যে ভিপি পদে পাঁচজন, জিএস পদে একজন, এজিএস পদে চারজন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন পদে দুইজন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে একজন, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে নয়জন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে তিনজন, ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক পদে দুইজন, সমাজসেবা সম্পাদক পদে একজন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে একজন, গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে তিনজন, সাহিত্য ও সংস্কৃতিক পদে দুইজন, মানবাধিকার ও আইন সম্পাদক পদে তিনজন এবং সদস্য পদে ২৫ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আন্তর্জাতিক ও ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে কোনো নারী প্রার্থী নেই।
ভিপি পদের প্রার্থীদের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেত্রী উমামা ফাতেমা ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল এবং শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ভিপি পদে স্বতন্ত্র হিসাবে লড়ছেন তাহমিনা আক্তার, মারজিয়া হোসেন জামিলা এবং মোসা. জান্নাতি বুলবুল।
জিএস পদে একমাত্র নারী প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত ‘ডাকসু ফর চেইঞ্জ’ প্যানেল থেকে লড়ছেন।
এজিএস পদে তিন বাম ছাত্র সংগঠনের সমর্থিত ‘অপরাজেয় ৭১, অদম্য ২৪’ প্যানেল থেকে অদিতি ইসলাম, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ থেকে আশরেফা খাতুন, নাগরিক পার্টি থেকে বহিষ্কৃত মাহিন সরকারের প্যানেল থেকে ফাতেহা শারমীন এনি প্রার্থী হয়েছেন। আর সানজানা আফিফা অদিতি লড়ছেন স্বতন্ত্র হিসাবে।
এবারের নির্বাচনে নয়টি প্যানেল ঘোষণা হয়েছে। এর সঙ্গে অনেক প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নির্বাচনে।

ছাত্রদলের প্যানেলে ভিপি পদের প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান, জিএস পদে তানভীর বারী হামিম এবং এজিএস পদে তানভীর আল হাদী মায়েদ।
বাম ধারার সাত সংগঠনের প্যানেল ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ এর ইমির সঙ্গে জিএস প্রার্থী ছাত্র ইউনিয়নের মেঘমল্লার বসু এবং এজিএস প্রার্থী বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর জাবির আহমেদ জুবেল।
‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যে’ উমামার সঙ্গে জিএস পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি আল সাদী ভুঁইয়া আর এজিএস পদে জাহেদ আহমদ লড়ছেন।
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) সমর্থিত ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংসদ’ প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী হয়েছেন আব্দুল কাদের। তার সঙ্গে জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার।
ছাত্রশিবিরের ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী করা হয়েছে আবু সাদিক কায়েমকে। তার সঙ্গে এসএম ফরহাদ জিএস এবং মুহা. মহিউদ্দীন খান এজিএস প্রার্থী।
নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের উপর আমাদের আস্থা আছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার যথাসম্ভব প্রস্তুতি নিয়েছে এবং শিক্ষার্থীরাও প্রস্তুত।
“তাদের মধ্যে আমরা বিপুল উৎসাহ দেখেছি। প্রার্থীদের মধ্যেও উৎসাহ দেখেছি। ভোটে অংশগ্রহণ করার জন্য ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ দেখেছি। এই উৎসাহ, সৌহার্দ্য এবং সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ থাকলে এখানে একটা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
শতবর্ষী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এখন পর্যন্ত ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে ৩৭ বার। এর মধ্যে ২৯ বারই হয়েছে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের ৫০ বছরে। স্বাধীন দেশে ৫৩ বছরে মাত্র ৮ বার ভোট দেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুসারে প্রতি বছর ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু গত সাড়ে তিন দশকে নির্বাচন হয়েছে কেবল একবার।
সবশেষ ডাকসু নির্বাচন হয়েছিল ২০১৯ সালে। সেই সংসদের মেয়াদপূর্তির পর পেরিয়ে গেছে আরো ছয় বছর। নির্বাচন না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে থাকছে না শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের দেড় দশকের আধিপত্যের অবসান ঘটে। এর ফলে অবাধে ছাত্ররাজনীতির সুযোগ তৈরি হওয়ায় ডাকসু নির্বাচনের দাবি আবার জোরালো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ডাকসু নির্বানের প্রতিশ্রুতি দেয়।
গেল ২৯ জুলাই নির্বাচন তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে ডাকসু নির্বাচনের যাত্রা শুরু হয়। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণ হবে।
এবার আট ভোট কেন্দ্রে ভোট দেবেন শিক্ষার্থীরা। তবে ৩৯ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য আট ভোট কেন্দ্র পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছে বিভিন্ন প্যানেল।
এ বিষয়ে অধ্যাপক কাজী মারুফ বলেন, “আমরা প্রার্থীদের দাবিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছি। আমরা ভোটের দিনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করেছি। প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্র আমরা সরেজমিনে দেখে এসেছি। সেখানে রুমের আয়োজন, বুথের আয়োজন আমরা দেখে এসেছি।
“আমাদের হিসাব অনুযায়ী আট কেন্দ্রেই সুষ্ঠুভাবে ভোট পরিচালনা হওয়ার কথা। কিন্তু এটা শেষ কথা না। যদি কেন্দ্র আরো প্রয়োজন হয়, তাহলে ভাবা যেতে পারে। কিন্তু আপাতত আমাদের যে পরিকল্পনা আছে, সেখান থেকে সরে যাওয়ার খুব শক্ত কোন কারণ দেখছি না।”

প্রচারণায় সরগরম ক্যাম্পাস
ডাকসু নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে মঙ্গলবার। এতে প্রার্থীরা দল বল নিয়ে নেমে পড়েছেন প্রচারণায়। কেউ বা কলা অনুষদের সামনে কেউ বা চারুকলায়, নিজ নিজ প্রচারে সবাই মাঠে।
সরজমিনে দেখা গেছে, এদিন ডাকসুর নির্বাচন কমিশন সাথে মিটিং শেষ করার পর মোটামুটি সব প্যানেল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণার জন্য নেমে পড়ে।
বৈঠকে প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলা এবং সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা দিকনির্দেশনা দেন।
পাশাপাশি ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ভোটের দিন অনাবাসিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ বাড়াতে আলাদা বাসের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ভিপি ও জিএস প্রার্থীদের সাথে আলাপ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
ডাকসু নির্বাচনের আগেরদিন ৮ সেপ্টেম্বর এবং ভোটের দিন ৯ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তায় প্রথম স্তরে থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি সদস্য ও প্রক্টরিয়াল টিম। দ্বিতীয় স্তরে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকবে। আর তৃতীয় স্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি প্রবেশমুখে সেনাবাহিনী ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে অবস্থান করবে।

সেই বৈঠক শেষে প্রচারণায় নামে প্যানেলগুলো। শুরুতেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রথম প্রচারণা শুরু করে ৭ বাম ছাত্র সংগঠনের প্যানেল ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’।
এরপর তারা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে কিছুক্ষণ প্রচার কাজ চালায়। সেখান থেকে কলা অনুষদ, টিএসসি ঘুরে সর্বশেষ চারুকলা অনুষদে প্রচারণা কাজ চালিয়ে এদিনের মতো কার্যক্রম শেষ করে প্রতিরোধ পর্ষদ।
এসময় প্রতিরোধ পর্ষদের ভিপি পদপ্রার্থী শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি, জিএস মেঘমল্লার বসু ও এজিএস জাবির আহমেদ জুবেলসহ অন্যরা প্রচার চালিয়েছেন।
পাশাপাশি, দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে প্রচারণা শুরু করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’।
এসময় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি ও জিএস পদপ্রার্থী আবু সাদিক কায়েম ও এস এম ফরহাদ কলা ভবন, মধুর ক্যান্টিন ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে প্রচার চালান। পরে বিকালে চারুকলা অনুষদে সংবাদ সম্মেলন করে এদিনের মতো তাদের প্রচার কার্যক্রম শেষ করে।
ওই সংবাদ সম্মেলনে প্রচারের প্রথম দিনে চারুকলা অনুষদে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগে তুলেছে ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’। ছাত্রশিবিরের এই প্যানেলটি ঘটনার জন্য ‘একটি কুচক্রী মহলকে’ দায়ী করেছে।
এদিন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলে থেকে আল সাদী ভূঁইয়া দুপুরে জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে ফুল দিয়ে তাদের প্রচার কাজ শুরু করেন।

এরপর স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী আল সাদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল থেকে শুরু করে রোকেয়া হল, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, কলাভবন, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটসহ বেশ কয়েকটি স্থানে প্রচার চালান।
সাদী বলেন, রাতে মেয়েদের হলে তাদের মেয়ে প্রার্থীরা ও ছেলেদের হলগুলোতে ছেলে প্রার্থীরা গণসংযোগ করতে যাবেন।
এছাড়া, এদিন বিকালে একাত্তরের শহীদদের স্মৃতি ফলক ‘স্মৃতি চিরন্তনে’ ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়ে ডাকসু নির্বাচনের প্রচার শুরু করেছে ছাত্রদল।
ছাত্রদল মনোনীত ভিপি পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান, জিএস তানভীর বারী হামীম ও এজিএস তানভীর আল হাদী মায়েদ সহ তাদের প্যানেলের অন্যান্য পদপ্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সেখান থেকে তারা ভিসি চত্বর, মল চত্বর এলাকায় প্রচার চালায়।
তাদের পরপরই প্রচারে নামে ছাত্র অধিকার সমর্থিত প্যানেল ‘ডাকসু ফর চেইঞ্জ’। তারাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর, মল চত্বর এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে এদিনের মতো তাদের প্রচার কাজ শেষ করে।
এসময় ‘ডাকসু ফর চেইঞ্জ’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী বিন ইয়ামিন মোল্লা ও তার প্যানেলের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:
ডাকসু নির্বাচন: কী করা যাবে, কী করা যাবে না
ডাকসু নির্বাচন: ২৮ পদে লড়বেন ৪৭১ জন
ডাকসু নির্বাচন: প্রথম দিনের প্রচারে প্রার্থীরা
'গণরুম-গেস্টরুম': ছাত্রদলের আশ্বাসে শিক্ষার্থীদের আস্থা কতটা?
ডাকসু নির্বাচন: প্রথম দিনের প্রচারে প্রার্থীরা
ডাকসু নির্বাচন: ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগ
ভোটকে 'স্ক্যামে পরিণত' করলে শেষতক নাও থাকতে পারি: মেঘমল্লার
ডাকসু নির্বাচন: 'স্মৃতি চিরন্তনে' শ্রদ্ধায় ছাত্রদলের প্রচার শুরু
ডাকসু নির্বাচন: ছাত্রশিবিরের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি ‘অপরাজেয়-৭১’ প্যানেলের
ডাকসু নির্বাচনে ৩ স্তরের নিরাপত্তা, সেনাবাহিনীও থাকছে
ডাকসু ভোটে ভাঙছে আচরণবিধি, অভিযোগও আসছে
কিছু ছাত্রীর আপত্তি: ওয়েবসাইট থেকে সাময়িক সরল ডাকসুর ভোটার তালিকা