Published : 28 Feb 2026, 05:04 PM
নরসিংদীসহ সারাদেশে যেসব ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে তার ‘দৃষ্টান্তমূলক’ বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)।
শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
গতকাল রাতে চাকসুর তরফে বিক্ষোভ মিছিল করার কথা বলা হলেও ‘অনিবার্য কারণে’ তা হঠাৎ করেই স্থগিত করা হয়।
কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাৎক্ষণিক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিফ রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, নরসিংদীতে ধর্ষণের পর আমেনা হত্যাকাণ্ডে ‘জামায়াতের এক নেতার সম্পৃক্ততার’ অভিযোগ থাকায় চাকসু বিক্ষোভ মিছিল স্থগিত করেছে। তিনি চাকসুকে দলান্ধ বলেও সমালোচনা করেন।
‘নারী অঙ্গন’ নামের একটি সংগঠনের নেত্রী সুমাইয়া শিকদার ‘ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে’ চাকসুকে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্তব্য করেন।
জানতে চাইলে চাকসু নেতারা বলেন, যথাযথ সমন্বয় ছাড়াই সময় নির্ধারণ করা এবং ইফতার-তারাবি, টিউশনি ও একইদিন অন্য বড় আয়োজনের কারণে সম্ভাব্য উপস্থিতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।
পরে চাকসুর ফেইসবুক পেইজে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করে জানানো হয়, বিক্ষোভ মিছিলের পরিবর্তে শনিবার সাড়ে ১২টায় মানববন্ধন করা হবে।
মানববন্ধনে চাকসুর নেতারা বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেন।
ধর্ষণের সুষ্ঠু বিচার না হওয়ার অভিযোগ তুলে তারা বলেন, প্রশাসন মামলা নেয় না, জনপ্রতিনিধিরা টালবাহানা করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেসব ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, প্রতিটি ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীরা যুক্ত ছিল অভিযোগ করে তারা বলেন, নতুন সরকারের আমলেও প্রতিদিন এসব ঘটনা ঘটছে এবং এর সঙ্গে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘জড়িত’।
চাকসু নেতাদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে ঘটনা ধামাচাপা দিতে সমঝোতা করা হচ্ছে, ভিন্ন দিকে মোড় নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। টাকা দিয়ে সমঝোতা না হলে ‘হত্যাও করা হচ্ছে’।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন চাকসুর সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব, যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঁঞা, ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নাহিমা আক্তার দ্বীপা, চাকসুর সহ-ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা, সহ-দপ্তর সম্পাদক জান্নাতুল আদন নুসরাত।
কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাহিত্য সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারিজুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান, গবেষণা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক তানভীর আঞ্জুম শোভন, সহ-যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ওবায়দুল সালমান, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ।