Published : 10 Aug 2025, 09:34 PM
পাবনার চাটমোহরে প্রাণ ডেইরি হাব সেন্টারে ভেজাল দুধ পাওয়ার ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত’ বলে দাবি করেছে কোম্পানিটি।
তারা বলছে, নিম্নমানের দুধ সরবরাহে ব্যর্থ হয়ে স্থানীয় একটি চক্র তাদের কয়েকজনকে হাত করে ভেজাল দুধ জব্দের ঘটনা ঘটিয়েছে।
সপ্তাহ তিনেক আগের এ ঘটনা সম্পর্কে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে রোববার বাড্ডায় প্রাণ-আরএফএল সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা।
তিনি বলেন, “চটমোহরে প্রাণ ডেইরির একটি গ্রামীণ দুধ সংগ্রহ কেন্দ্রে ভেজাল দুধ আসার ঘটনাটি পরিকল্পিত। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার স্থানীয় ভেজাল দুধ সরবরাহকারী সংঘবদ্ধ চক্র প্রাণ ডেইরিকে নিম্নমানের দুধ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়ে কৌশলে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।
“তারা দুধ সংগ্রহ কেন্দ্রের কয়েক কর্মীকে হাত করে ডিটারজেন্ট মেশানো দুধ প্রবেশ করিয়ে প্রশাসনকে জানায়, যেন প্রাণ ডেইরির সুনাম নষ্ট হয়। সাম্প্রতিক ঘটনায় প্রাণ ডেইরির নিজস্ব তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে।”
গত ২১ জুলাই চাটমোহরের ছাইকোলা ইউনিয়নে প্রাণ ডেইরির একটি সংগ্রহ হাবে ভেজাল দুধের সন্ধান পায় স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা— এনএসআই। এ ঘটনায় প্রাণের কয়েকজন স্থানীয় কর্মী ও খামারির তাৎক্ষণিক সাজাও হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, “প্রাণ সবসময় নিবন্ধিত সরবরাহকারীদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে থাকে। দুধ সংগ্রহ করার পর থেকে প্রক্রিয়াজাত হওয়ার আগ পর্যন্ত চারটি ধাপে দুধ পরীক্ষা করা হয়।
“প্রথম ধাপে গ্রামীণ দুধ সংগ্রহ কেন্দ্রে মিল্ক এনালাইজারের মাধ্যমে দুধের ফ্যাট, এসএনএফ ও ডেনসিটি পরীক্ষা করা হয়। এরপর মাদার হাবে নেওয়ার পর কেমিক্যাল, সোডা, তেল, ডিটারজেন্ট, ওয়েল, সল্ট, ফরমালিন, পিএইচসহ ১৪ ধরনের পরীক্ষা হয় সেখানে। এরপর নরসিংদীর কারখানায় দুধ নিয়ে আরেক দফা সব ধরনের পরীক্ষা করা হয়। দুধের গুণগত মান পরীক্ষা করে সরবরাহ করা হয় ভোক্তার কাছে।”
তিনি বলেন, “সম্প্রতি পাবনায় যে ঘটনা ঘটেছে, সেটি একেবারে প্রাথমিক স্টেজে গ্রামীণ দুগ্ধ সংগ্রহ কেন্দ্রে ঘটেছে। খারাপ ও ডিটারজেন্ট মেশানো কোনো দুধ থেকে থাকলে সেটি হাবের পরীক্ষায় উঠে আসে এবং সেগুলো নষ্ট করা হয়।”
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় হয়, গত এক বছরে মান পরীক্ষা করে ২৭ লাখ লিটার দুধ ফেরত দিয়েছে প্রাণ। ২৮৩ জন সরবরাহকারীকে ব্লক করা হয়েছে। ২৭ জন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
ইলিয়াছ মৃধা বলেন, “ডিটারজেন্ট মেশানো দুধ শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় আমরা অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছি। এ ঘটনার পরপরই আমরা ওই দুধ সংগ্রহকেন্দ্র সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করি এবং তাৎক্ষণিকভাবে কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করি।”
তিনি বলেন, “আমরা ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছি। এছাড়া প্রাথমিক অনুসন্ধানে স্থানীয় চারজন দুধ সরবরাহকারীর নাম উঠে এসেছে। আমরা কোম্পানির পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি।”
প্রাণ ডেইরির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমান বলেন, “গুণগত মানে সমস্যা থাকায় কিছু দুগ্ধ সরবরাহকারীর কোড বাতিল করা হয়। এটি প্রাণ ডেইরি হাবের নিয়মিত তদারকির একটি অংশ। স্থায়ীভাবে যেসব কোড বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তারা সংঘবদ্ধ হয়ে প্রাণ ডেইরির সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছে এবং কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে।”
তিনি বলেন, “ওই সংঘবন্ধ দল গত ০৭ মার্চ প্রাণ ডেইরির এক কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে এবং তাদের দুধ গ্রহণ না করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় থানায় মামলা হয়। কৌশলে তারা সাময়িক বরখাস্ত হওয়া তিন কর্মীকে হাত করে ওই দুধ সংগ্রহ কেন্দ্রে ডিটারজেন্ট মেশানো দুধ প্রবেশ করিয়েছে।”
পুরনো খবর
পাবনায় প্রাণের হাব থেকে ২৫০০ লিটার দুধ জব্দ, ৩ কর্মকর্তার জেল