১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

এক বছরে সাতাশ দেশের ৫০ মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশ

ইপিবির ব্যবস্থাপনায় এসব মেলায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে ১২টি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Jul 2026, 09:06 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:42 PM

নতুন বিনিয়োগ ও রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সাতাশটি দেশের মোট ৫০টি আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সম্মেলন কক্ষে সংস্থার পরিচালনা পর্ষদ সভায় এ বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয় বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ইপিবির ব্যবস্থাপনায় এসব মেলায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে ১২টি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার তথ্য দিলেও খাতগুলোর নাম সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়নি।

তবে সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বক্তব্য উদ্বৃত করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “তিনি বলেন, লেদার, এগ্রো প্রসেসিং, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ যেসব খাতকে আমরা অগ্রাধিকারমূলক রপ্তানি খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছি, সেগুলোর প্রত্যেকটিরই ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে বড় রপ্তানি খাতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

তিনি বলেন, “নতুন উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা জরুরি।”

বর্তমানে বড় রপ্তানিকারক কোম্পানিগুলোও যে একসময় ছোট পরিসরে শুরু করেছিল, সেই বাস্তবতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি, বিদেশি বাজারে অংশগ্রহণ এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার কাজ করছে এবং আগামী ‘দুই–তিন মাসের মধ্যেই’ এর বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাবে।

“আগামী দিনে বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে আমরা আরও একটি ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাব, ইনশাআল্লাহ। বর্তমান সরকারও দেশের অর্থনীতির বিকাশ, নতুন বিনিয়োগ সৃষ্টি এবং ব্যবসার সম্প্রসারণে কাজ করছে। শুধু কথায় নয়, বিনিয়োগ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়াগুলোকে আরও সহজ ও দ্রুত করার জন্য সরকার কাজ করছে। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

“যারা নতুন ব্যবসা শুরু করছেন, তাদের অনেকেরই বিদেশে গিয়ে বাজার অনুসন্ধান বা ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের মতো আর্থিক সক্ষমতা থাকে না। এই সময় তাদের সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে ইপিবি সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।”

সভায় ৩১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)–২০২৭ আয়োজনের জন্য স্টিয়ারিং কমিটিও অনুমোদন করা হয়। মেলা শুরুর সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি।

এ ছাড়া সভায় বাংলাদেশ–চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিসিএফইসি) ইজারা দেওয়ার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ সভায় উপস্থিত ছিলেন।