Published : 20 Jul 2026, 07:11 PM
যে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা কেন্দ্র বা দপ্তরে কর কর্মকর্তাদের বিনা বাধায় প্রবেশ এবং সরেজমিন পরিদর্শন করার যে ক্ষমতা আয়কর আইনে দেওয়া আছে, তা প্রয়োগ করতে গিয়ে উদ্যোক্তাদের ‘অহেতুক হয়রানি’ না করার আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।
সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা চেম্বার বলেছে, এই আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কর ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে কমপ্লায়েন্স পরিপালনকারী কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যেন অযথা হয়রানির শিকার না হয়, তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।
“পাশাপাশি, যে সব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এখনও পুরোপুরি কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে পারেনি, তাদেরকে তা বাস্তবায়নে সময় ও সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে ন্যায্য অধিকার প্রাপ্তির জন্য এনবিআরের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে ডিসিসিআই।”
কর কর্মকর্তারা কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে চাইলে বা নথি তলব করলে দুই পক্ষের মধ্যে যে ‘অযাচিত ঝামেলা’ তৈরি হয়, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে কর কর্মকর্তাদের ক্ষমতা সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানায় এনবিআর।
সেখানে বলা হয়, “জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনায় বিশেষ টিম দেশব্যাপী উৎসে কর কর্তন নজরদারি ও যাচাইকরণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৪৭ এর অধীনে কর কর্মকর্তাদের কর্মপরিধি সম্পর্কে সচেতন থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হল।”
এ আইন অনুসারে কর কর্মকর্তারা যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন তাও স্মরণ করিয়ে দেয় এনবিআর।
এর মধ্যে রয়েছে- যে কোনো বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, ব্যবসা কেন্দ্র বা দপ্তরে বিনা বাধায় প্রবেশ ও সরেজমিনে পরিদর্শন। প্রতিষ্ঠানের হিসাবের বই, ভাউচার, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, রশিদ এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্পর্কিত যে কোনো নথিপত্র পরীক্ষা ও তলব করা।
প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম, ক্লাউড সার্ভার, ডিজিটাল রেকর্ড বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসে সংরক্ষিত তথ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন ভাঙার মাধ্যমে প্রবেশ করা; উৎসে কর্তিত করের সত্যতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় হিসাবের খাতা, নথিপত্র, ইলেকট্রনিক রেকর্ড বা ডিভাইস সাময়িকভাবে জব্দ করা ও নিজস্ব হেফাজতে রাখার ক্ষমতাও তাদের রয়েছে।
যে কোনো নথিপত্র, ছবি বা অ্যাকাউন্টের কপি সংগ্রহ করা এবং তাতে শনাক্তকরণ চিহ্ন বা সিলমোহর ব্যবহার করা, রাজস্ব আহরণের কার্যক্রমে কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি বা অসহযোগিতার জন্য ১৪৭ (২) ধারায় জরিমানা করার ক্ষমতাও তাদের দেওয়া হয়েছে আইনে।
এসব বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকা চেম্বার বলছে, “সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ ও করজাল সম্প্রসারণে দেশের সামগ্রিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন ও ডিজিটাল কার্যক্রমের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যার মাধ্যমে আমাদের বেসরকারিখাতের সকলের অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি বহুলাংশে লাঘব হবে।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “ঢাকা চেম্বার বিশ্বাস করে, রাজস্ব আহরণ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ-এই দুটি লক্ষ্য একসাথে অর্জন করা সম্ভব, তবে এ ক্ষেত্রে এনবিআরের সাথে গঠনমূলক সংলাপ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সকল শ্রেণির ব্যবসায়ীদের কীভাবে কর ব্যবস্থাপনায় আরো শৃঙ্খলাবদ্ধ করা যায়, সে বিষয়ে সরকার-বেসরকারিখাতের একযোগে কাজের বিকল্প নেই।”
পুরনো খবর-
ব্যবসা কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের প্রবেশের ক্ষমতা স্মরণ করাল এনবিআর