Published : 19 Jul 2026, 06:40 PM
যে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা কেন্দ্র বা দপ্তর যেখানেই হোক সেখানে যে বিনা বাধায় কর কর্মকর্তারা প্রবেশ ও সরেজমিন পরিদর্শন করতে পারবেন, সে কথা আবার স্মরণ করিয়ে দিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
কর অঞ্চলগুলোতে বিশেষ দল তৈরি করে দেশব্যাপী উৎসে কর কর্তন ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা তার নজরদারি কার্যক্রম জোরদারের অংশ হিসেবে সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন থাকার কথা বলেছে কর আদায়ের এ সংস্থা।
বিভিন্ন সময় কর কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রবেশ করতে চাইলে বা নথি তলব করলে দুই পক্ষের মধ্যে ‘অযাচিত ঝামেলা’ তৈরি হওয়ায় এ বিষয়ে রোববার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে এনবিআর।
সংস্থাটি বলছে, “জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনায় বিশেষ টিম দেশব্যাপী উৎসে কর কর্তন নজরদারি ও যাচাইকরণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৪৭ এর অধীনে কর কর্মকর্তাদের কর্মপরিধি সম্পর্কে সচেতন থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হল।”
এ আইন অনুসারে কর কর্মকর্তারা যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন তাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে এনবিআর।
এর মধ্যে রয়েছে- যে কোনো বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, ব্যবসা কেন্দ্র বা দপ্তরে বিনা বাধায় প্রবেশ ও সরেজমিনে পরিদর্শন। প্রতিষ্ঠানের হিসাবের বই, ভাউচার, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, রশিদ এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্পর্কিত যে কোনো নথিপত্র পরীক্ষা ও তলব করা।
প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম, ক্লাউড সার্ভার, ডিজিটাল রেকর্ড বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসে সংরক্ষিত তথ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন ভাঙার মাধ্যমে প্রবেশ করা। উৎসে কর্তিত করের সত্যতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় হিসাবের খাতা, নথিপত্র, ইলেকট্রনিক রেকর্ড বা ডিভাইস সাময়িকভাবে জব্দ করা ও নিজস্ব হেফাজতে রাখা।
যে কোনো নথিপত্র, ছবি বা অ্যাকাউন্টের কপি সংগ্রহ করা এবং তাতে শনাক্তকরণ চিহ্ন বা সিলমোহর ব্যবহার করা। রাজস্ব আহরণের কার্যক্রমে কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি বা অসহযোগিতার জন্য ১৪৭ (২) ধারায় জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে।
করদাতাদের সঠিক আইনি ধারা এবং আয়কর জমাকরণের সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক কোড উল্লেখ করে এ চালানের মাধ্যমে উৎসে কর্তিত কর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে এনবিআর।
তবে ধারা ১৪৭ এর প্রয়োগে যে কোনো অস্পষ্টতা, জটিলতা, হয়রানি কিংবা সংক্ষুব্ধতা প্রতিয়মান হলে সরাসরি এনবিআরের এ সংক্রান্ত কমিটির সদস্য সচিব বরাবর ই-মেইল ([email protected]) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।