Published : 10 Feb 2026, 04:32 PM
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির (এআরটি) ফলে বাংলাদেশের ‘৮৬ শতাংশ রপ্তানি পণ্যের’ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার ‘সুযোগ’ দেখছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
তার যুক্তি, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৮৬ শতাংশ হল তৈরি পোশাক। এখন পোশাক তৈরিতে যদি যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করা হয়, তাহলে সেই পোশাক যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি করতে কোনো সম্পূরক শুল্ক দিতে হবে না।
“সহজভাবে বললে আমাদের ৮৫ বা ৮৬ শতাংশ রপ্তানির উপরে শুল্কশূন্য এবং ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ রপ্তানির উপরে ১৯ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক হবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
প্রয়োজনে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এই চুক্তির মধ্যে আমাদের এই শর্ত যুক্ত আছে যে, যদি প্রয়োজন হয়, আমরা একটা অ্যাপ্রোপ্রিয়েট নোটিস দিয়ে এই চুক্তি থেকে বের হয়ে আসতে পারব।
“পরবর্তী সরকার যদি মনে করে যে, কোনো কারণে তাদের জন্য এটা উপযুক্ত নয়, সেটার ব্যাপারেও আমরা সচেতন ছিলাম। আমরা এটাকে (এক্সিট ক্লজ) চুক্তিতে সন্নিবেশ করেছি। এই মোটা দাগে আমাদের অর্জন।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর চড়া হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের ওপর বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা আসে।
পরে দর কষাকষি করে এ হার ২০ শতাংশ নামে, যা ১ অগাস্ট কার্যকর হয়। আর আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যে ছিল ১৫ শতাংশ শুল্ক; সব মিলিয়ে শুল্ক দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশ।
বাড়তি এ শুল্ক আরোপের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকার টানা নয় মাসের বেশি সময় ধরে তা কমাতে আলোচনা চালিয়ে আসছিল। সোমবার দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
নতুন চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে এখন সম্পূরক শুল্ক দিতে হবে ১৯ শতাংশ। তাতে করে মোট শুল্কহার আগের ৩৫ শতাংশ থেকে কমে হবে ৩৪ শতাংশ।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ তুলা আমদানিকারক দেশ। কারণ, বাংলাদেশ যে পরিমাণ গার্মেন্টস রপ্তানি করে, তার কোনো তুলা বাংলাদেশে হয় না। মাত্র ২ শতাংশ তুলা বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়। ৯৮ শতাংশ তুলা আমাদের ন্যাচারালি আমদানি করতেই হয়।এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা আমাদের জন্য খুব ভালো। এটা আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সাহায্য করবে।”
বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে কৃষি ও জ্বালানি পণ্য ও ‘ট্র্যাডিশনাল মেটাল স্ক্র্যাপ’সহ বেশ কিছু পণ্য আমদানি করার কথাও বলেন উপদেষ্টা।
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমরা যে চুক্তিটা স্বাক্ষর করেছি, তার সাথে তারা ‘পটেনশিয়াল ট্যারিফ অ্যাডজাস্টমেন্ট ফর পার্টনার কান্ট্রিস’ নামে একটা ট্যারিফ সুবিধা দিয়েছে। চুক্তিটা কার্যকর হওয়ার দিন থেকে সেটা কার্যকর হবে। সেটা হল ২ হাজার ৫০০ আইটেমের উপরে তারা ডিউটি ফ্রি বেনিফিট দিয়েছে।
“তার মধ্যে আমরা যা উৎপাদন করি, মোটামুটি ফার্মাসিউটিক্যালস হল এক নম্বর। ফার্মাসিউটিক্যালসের সবগুলো এইচএস কোড, সবগুলো র-ম্যাটেরিয়ালের ওপরে ডিউটি ফ্রি বেনিফিট দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, “এছাড়া প্লাস্টিক পণ্য, উড়োজাহাজের যন্ত্রপাতি, প্লাইউড বোর্ডসহ অনেকগুলো পণ্য রয়েছে। যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তিতে গেছে, তাদের জন্য এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে।”