Published : 02 Jun 2026, 07:45 PM
ইসলামী ব্যাংকে চেয়ারম্যান নিয়োগ ঘিরে যে আন্দোলন ও ‘অস্থিরতা’ চলছে, সে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এ খাতের ‘অস্থিরতা’ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে আমানতকারীদের আস্থা ফেরানোর অপেক্ষায় থাকতে হবে।
এরজন্য ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট কমাতে ‘রিক্যাপিটালাইজ’ বা নতুন করে মূলধন যোগাতে সরকার কাজ করছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর কার্যালয়ে সংগঠনের বাজেট বিষয়ক সেমিনারে অর্থমন্ত্রীকে এ নিয়ে সাংবাদিকরা বারবার প্রশ্ন করেন। তবে এটি বাজেট সংশ্লিষ্ট নয় বলে তিনি এড়িয়ে যান।
কোরবানির ঈদের তিন দিন আগে গেল ২৪ মে নানা ঘটনায় আলোচিত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আনা হয় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পদত্যাগ করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে।
ঈদের ছুটির পর ব্যাংক খোলার প্রথম দিন সোমবার ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমকে নিয়োগের বিরোধিতা করে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ এর ব্যানারে আন্দোলনে নামে একদল মানুষ।
আন্দোলনকারীদের বাধায় দিনভর আটকে থাকার পর রাতে সভা করতে পারে ব্যাংকটির নতুন পরিচালনা পর্ষদ।
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গেলেও ব্যাংক খাতের ‘অস্থিরতা’ কমবে কবে, এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা রিক্যাপিটালাইজ করতে কাজ করছি। রিক্যাপিটালাইজ করতে হবে। অস্থিরতা তখন কমবে, যখন ব্যাংকগুলো ক্যাপিটালাইজড হবে, যখন ডিপজিটররা টাকা ফেরত দিতে পারবে, ডিপজিটররা কনফিডেন্স পাবে, আবার ডিপজিট করবে, ব্যাংকগুলো লেন্ডিং করতে পারবে যে সময়-এভাবে সাইকেল হতে থাকবে যে সময়ে।”
সোমবার সকালে মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের কার্যালয়ের সামনে যারা বিক্ষোভ করেছে, তারা ব্যাংকের সদ্য পদত্যাগকারী চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান ও এমডি ওমর ফারুক খানের পুনর্বহাল দাবি করেন।
জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত ‘সচেতন গ্রাহক ফোরামের’ লোকজনকে টিয়ারশেল ও জলকামান ছুঁড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।
এদিকে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেই এক-দেড় মাসের মধ্যে বাজেট করতে যাওয়ায় এটি ‘কঠিন’ হচ্ছে বলে সেমিনারে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “কঠিন বলতে আমি যেটা বুঝাচ্ছি, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে এই এক-দেড় মাসের মধ্যে বাজেট করা অলমোস্ট অসম্ভব ব্যাপার একটা। যে বাজেটের প্রক্রিয়া সাধারণত ছয় মাস ধরে থাকে। কমপক্ষে ছয় মাস ধরে থাকে। এক-দেড় মাসের মধ্যে বাজেট করা খুবই কঠিন। তার উপরে যে অবস্থায় আমরা দায়িত্বটা পেয়েছি, বিগত দুটি সরকারের থেকে পাওয়া, এগুলোর সমাধান কঠিন। ভঙ্গুর অবস্থা, সবাই আপনারাও বলছেন।
“তার সাথে সাথে এটার স্থিতিশীলতা, তারপরে সমৃদ্ধির পথ, কঠিন অবস্থা। তারপরও জুন মাসে বাজেট তো দিতে হবে, বাজেট তো আর অপেক্ষা করবে না। সুতরাং আমাদের সেই কাজটা করতে হচ্ছে, খুব ধৈর্য সহকারে।”
‘বড় অঙ্কের’ বাজেট ঘোষণা নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে তার স্বপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী অর্থনীতি যে ‘খাদে’ পড়ে গেছে তার থেকে উত্তরণে এর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
বড় বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সক্ষমতার যে ঘাটতি ও সমালোচনা রয়েছে তার জবাবে তিনি বলেন, “চিন্তা করছি, ব্রেইন স্টর্মিং করছি। দিনের পর দিন ব্রেইন স্টর্মিং করছি। আমাদের নিজেদের মধ্যে নিজের সঙ্গে ডিবেট করেছি অনেক সময়। আমি ডিবেট করেছি, কিভাবে এখান থেকে বের হব। অতটুকুই বলতে পারি যে, আমাদের পক্ষে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে এই নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বেরিয়ে আসার।”
এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ প্রতিটি দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে প্রত্যেক প্রকল্পের বিপরীতে ‘ড্যাশবোর্ড’ থাকবে। এই ‘ড্যাশবোর্ডে’ প্রতিদিন প্রকল্পের অগ্রগতি কী হল, তা তুলে ধরা হবে এবং কোনো প্রকল্প সময়ের মধ্যে শেষ না হলে তার কারণ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে সেমিনারে ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল ও সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:
পদত্যাগ করা সেই ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলম ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান