Published : 31 Oct 2025, 01:37 AM
মোবাইল হ্যান্ডসেটের নিবন্ধনের যে বাধ্যবাধকতা আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করার কথা বলেছে সরকার, তাতে ব্যবসা হারানোর শঙ্কায় পড়েছে ‘গ্রে মার্কেট’।
বিটিআরসির ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের ৬০ শতাংশের বেশি হ্যান্ডসেট ‘গ্রে মার্কেট’ থেকে আসা। অর্থাৎ, ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে দেশে আনা হয় এসব হ্যান্ডসেট।
আবার গ্রে মার্কেট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের ৯০ শতাংশ হ্যান্ডসেটের বাজার তাদের দখলে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত লাখো ব্যবসায়ীকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি দেশের বাজারে মোবাইল ফোনের দামও বাড়িয়ে দেবে।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এর ফলে দেশীয় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারীরা উৎসাহিত হবে এবং দাম কমবে।
১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে দেশে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার’ বা এনইআইআর কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ প্রক্রিয়ায় সিমকার্ডের মত প্রতিটি হ্যান্ডসেটও নিবন্ধনের আওতায় আসবে।
২০১৬ সালে সিমকার্ড নিবন্ধন পক্রিয়া শুরুর পর তৎকালীন সরকার হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের উদ্যোগ নিয়েছিল একাধিকবার। তবে তা কার্যকর হয়নি।
এবার দেশীয় হ্যান্ডসেট প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর অর্থায়নে বিটিআরসি আবারও উদ্যোগ নিয়েছে, যা ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হচ্ছে বলে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৬ ডিসেম্বর এনইআইআর কার্যকরের আগ পর্যন্ত দেশের নেটওয়ার্কে থাকা সব মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধনের আওতায় আসবে।
তবে ১৬ ডিসেম্বরের পর নতুন করে কোনো মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কে যুক্ত হলে সেটার নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক।
এক্ষেত্রে বৈধ ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধনের আওতায় চলে আসবে। গ্রাহককে আলাদা করে দৌড়ঝাঁপ করতে হবে না। এরপর নতুন করে আর কোনো অবৈধ হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন দেবে না সরকার।

তবে বাস্তবতা হল, বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল ব্যবহারকারীদের হাতে যে হ্যান্ডসেটগুলো রয়েছে, তার বেশিরভাগই ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আনা। বিটিআরসির হিসাবে এর হার মোট হ্যান্ডসেটের ৬০ শতাংশ হলেও ব্যবসায়ীরা বলছেন ৯০ শতাংশের বেশি। বর্তমানে বাজারে বা দোকানে যেসব হ্যান্ডসেট রয়েছে, তার বেশিরভাগই অবৈধ বা ‘আন অফিসিয়াল’।
বর্তমানে একই মডেলের একটি ‘অফিসিয়াল হ্যান্ডসেট’ অর্থাৎ ট্যাক্স-ভ্যাট দিয়ে বৈধ পথে আনা হ্যান্ডসেটের দাম ক্ষেত্র বিশেষে ‘আন অফিসিয়াল’ হ্যান্ডসেটের চেয়ে দেড় থেকে দ্বিগুণ বেশি হয়ে যায়। সে কারণে গ্রাহকরা দিনে দিনে ঝুঁকেছেন এই ‘আন অফিসিয়াল’ হ্যান্ডসেটের দিকে, বড় হয়েছে এর বাজার।
দেড় দশক আগে ‘স্মার্ট ফোন’ বাজারে ঢোকার সময় থেকেই রাজধানীর বড় বড় মার্কেটে বিশাল শো রুম খুলে এসব আন অফিসিয়াল হ্যান্ডসেট বিক্রি হচ্ছে। অনলাইনেও তৈরি হয়েছে বিশাল বাজার, সবই হয়েছে সরকারের নাকের ডগায়।
এতদিন সরকারের পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণের তেমন কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। এখন হঠাৎ সরকারের এই সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা হারানোর শঙ্কায় হন্যে হয়ে প্রভাবশালীদের দুয়ারে দুয়ারে ছোটাছুটি করছেন।
তবে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ‘চোরে’র সাথে আলোচনা করে কখনো আইন হয় না, এই কারণে ওই ব্যবসায়ীদের আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে।
ব্যবসা করতে হলে এখন তাদের সরকারকে ট্যাক্স-ভ্যাট দিয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় মোবাইল আমদানি করে বাজারে বিক্রি করতে হবে। সরকার তাদের মাধ্যমেই দেশে তৈরি হ্যান্ডসেটগুলো বিক্রির চ্যানেল তৈরি করতে চায়।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আর্থিক জালিয়াতি, ফোন চুরি রোধ করাসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনের জন্য এটা ‘জরুরি’। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এর ফলে ‘মনোপলি’ হবে, হ্যান্ডসেটের দাম বাড়বে।
ঢাকার বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, হাতিরপুলের মোতালেব প্লাজাসহ কয়েকটি মার্কেট এই ধরনের ‘টানা হ্যান্ডসেটের’ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এসব মার্কেটের ব্যবসায়ীরাই গ্রাহকদের হ্যান্ডসেটের ট্রেন্ডিংকে প্রভাবিত করছেন।
দেশের ‘আন অফিসিয়াল’ মোবাইল বিক্রেতাদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির সভাপতি মো. আসলাম বলেন, “হ্যান্ডসেটের মার্কেটে আমাদের মার্কেট শেয়ার হচ্ছে ৯০ শতাংশ। আর আমরা যেই প্রডাক্টটা বিক্রি করে আসছি সেটাকে এখন ওনারা বলছেন অবৈধ। অথচ আমরাও ট্যাক্স-ভ্যাট দিয়ে ব্যবসাটা করতে চেয়েছি।
“১০ থেকে ১৫ লাখ ব্যবসায়ী রয়েছে এখন এই ব্যবসায়। পুরো দেশেই তো আমাদের প্রোডাক্ট যায়। এখন সরকার আমাদের কথা না শুনেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল।”
তিনি বলেন, “আমরা আজ (বৃহস্পতিবার) বিটিআরসিতে গেছিলাম। আমরা বলেছি ১০ থেকে ১৫ লাখ পরিবার এখানে জড়িত। আমরা কোথায় যাব? আমার এই ব্যবসাটা বন্ধ হয়ে গেলে তো এদের না খেয়ে মরতে হবে। তারা বলেছেন এগুলো অবৈধ হ্যান্ডসেট, এটার ব্যবসা করা যাবে না।
“আমরা বলেছি আমাদের পণ্যগুলো আমদানি ট্যাক্স কমিয়ে একটা সুযোগ দেন, আমরাও ট্যাক্স-ভ্যাট দিয়েই মাল আনতে চাই।”

দেশের মোবাইল খাত নিয়ে অন্তত দুই দশক ধরে কাজ করছেন অনলাইন পোর্টাল ‘ভিউজ বাংলাদেশে’র সম্পাদক রাশেদ মেহেদি। তার ভাষ্য, হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের বিষয়ে বারবারেই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছে বিটিআরসি।
“পাশাপাশি অবৈধ হ্যান্ডসেট নিয়ন্ত্রণের কোনো চেষ্টাও দেখা যায়নি তাদের পক্ষ থেকে। সে কারণে এখন সারা দেশের হ্যান্ডসেট মার্কেট এই ‘অবৈধদের’ দখলে গেছে।”
এই হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে যে সেটগুলো আমদানি করে দেশে নিয়ে এসেছেন, সেগুলোর জন্য সুযোগ রেখে এনইআইআর কার্যকর করার কথা বলছেন রাশেদ মেহেদি।
তিনি বলেন, “প্রথম কথা হল, বিটিআরসি আরও ছয় বছর আগে ৩০ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে এনইআইআর চালু করতে চেয়েছিল। দেখা গেল চালু করেই তারা সেটা নিষ্ক্রিয় রাখল। বিগত সরকারের আমলে বছর তিনেক আগে তারা আবারও এনইআইআর চালু করার ঘোষণা দিয়ে ৫-৬ দিন পরেই আবার নিষ্ক্রিয় হয়ে গেল। গতকাল আমরা আবারও বিটিআরসিকে ঘোষণা দিতে দেখলাম।”
রাশেদ মেহেদি বলেন, “বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ মার্কেট তৈরি হয়েছে। একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আছে–যারা এটা বিক্রি করে তারা কিন্তু ট্রেড লাইসেন্সধারী ব্যবায়ী। আপনি কিন্তু তাদের ব্যবসার অনুমতি দিয়েছেন।
“তারা কিন্তু এতদিন প্রকাশ্যেই ব্যবসা করেছে, গোপনে নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তহীনতার কারণেই এ মার্কেটটা এত বড় হয়েছে। রাষ্ট্রীয় নীতিহীনতার কারণে এখন যদি তারা ক্ষতির মুখে পড়ে, তাহলে সেই দায় কে নেবে।”
তাদের কোনোভাবে সুযোগ দিতে হবে মন্তব্য করে রাশেদ বলেন, “যে হ্যান্ডসেটগুলো অলরেডি তারা নিয়ে আসছে, সেগুলোকে বৈধতা পাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিৎ। এভাবে দীর্ঘ বছর ধরে চলে আসা একটা প্রক্রিয়া হঠাৎ করে বন্ধ করা যায় না।”
দাম কমবে না বাড়বে?
মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির সভাপতি মো. আসলামের ভাষ্য, এই এনইআইআর প্রক্রিয়া চালুর পর দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেটের দাম ‘অনেক বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা’ রয়েছে। সরকার হ্যান্ডসেটের পেনিট্রেশন বাড়িয়ে ইন্টারনেট প্রান্তিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার যে কথা বলছে, এর ফলে সেটা ‘বাধাগ্রস্থ’ হবে।
তবে বিটিআরসির চেয়ারম্যান এমদাদুল বারী বলছেন, দেশীয় উৎপাদনকারীদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারলে হ্যান্ডসেটের দাম কমবে বলে তারা আশাবাদী।
“আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে হ্যান্ডসেট সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করা। ২০১৭ সালে বিটিআরসির গাইডলাইনের ওপর বেইজ করে ২০১৮ থেকে দেশের মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারকরা উৎপাদন শুরু করে। এই মুহূর্তে দেশে প্রায় ১৮টির মত মোবাইল উৎপানকারী কোম্পানি রয়েছে। বর্তমানে দেশে মোবাইল ফোন চাহিদার সিংহভাগ দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে।
“তবুও আমরা হ্যান্ডসেটের দাম কমাতে পারছি না তার অনেকগুলো কারণের একটা কারণ হচ্ছে অনেক চোরাই সেট দেশে ঢুকছে, নতুন সেট আসে আবার পুরনো রিফার্বিশড সেটও আসে, যেগুলো আমরা সবসময় ধরতে পারি না। এই এনইআইআর হলে আমরা এদের ধরতে পারব। এটা হলে দেশীয় মোবাইল উৎপাদকদের জন্য টেকসই একটা সমাধান হবে। তারাও একটা প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে মোবাইল ফোন বাজারে দিতে পারবেন। এটা হচ্ছে আমাদের আশা।”

বর্তমান বাজারে গ্রে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা দেদার কর ফাঁকি দেওয়ায় বাজারে একটা অসমতা তৈরি হয়েছে মন্তব্য করেছেন এনইআইআর প্রকল্প দেখভালকারী বিটিআরসির মহাপরিচালক আমিনুল হক।
তিনি বলেন, “আমাদের নেটওয়ার্কে প্রতিদিন প্রচুর নিম্নমানের রিফার্বিশড হ্যান্ডসেট চলে আসছে, আমরা সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। আবার যারা এখানে বিপুল বিনিয়োগ করে মোবাইল ফোন উৎপাদন করছেন, আমরা তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারছি না।
“মোবাইল উৎপাদনের ক্ষেত্রে কর হচ্ছে ৩৫ শতাংশ, আর আমদানির ক্ষেত্রে কর ৫৪ শতাংশ। যারা গ্রে মার্কেটে হ্যান্ডসেট নিয়ে আসছেন, তারা কোনো করই দিচ্ছেন না। কাজেই বৈধ ব্যবসায়ীদের পক্ষে গ্রে মার্কেটের সঙ্গে কোনোভাবেই প্রতিযোগিতায় কুলিয়ে উঠতে পারার কথা নয়।”
বিটিআরসির চোখে ‘গ্রে মার্কেট’
বুধবার বিটিআরসিতে সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, গ্রে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন যে এই প্রক্রিয়ায় কখনো তাদের মতামত নেওয়া হয়নি বা সঙ্গে রাখা হয়নি। গ্রে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে রেখে এটা করা যেত কি না।
এমন প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসির চেয়ারম্যান এমদাদুল বারী বলেন, “আমি কখনো শুনি নাই যে চোরের সাথে ডিসকাস করে আইন করা হয়।”
তিনি বলেন, “আমরা তো ইমপোর্ট বন্ধ করছি না। আমরা তো ইমপোর্টের ওপর কোনো বিধিনিষেধ দিচ্ছি না। এনইআইআর করা হচ্ছে যারা অবৈধভাবে সেট আনেন তাদেরকে আটকানোর জন্য। আপনারা যদি তাদেরকে অ্যাডভোকেট করতে চান তাহলে আমার বলার কিছু নেই।”

আগে হয়নি, এবার হবে তো?
২০২১ ও ২০২৪ সালে দুই বার উদ্যোগ নিয়েও এনইআইআর বাস্তবায়িত হয়নি। এবার কী চ্যালেঞ্জ দেখছেন জানতে চাইলে বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, “ফিজিক্যাল ওয়ার্ল্ডের নিরাপত্তা আর টেলিকম বা সাইবার ওয়ার্ল্ডের নিরাপত্তার মধ্যে পার্থক্য আছে।
“ফিজিক্যাল ওয়ার্ল্ডে একটা লোক কামান-বন্দুক নিয়ে এলে নিরাপত্তার ঝুঁকিটা দেখা যায়। অথবা এখানে একটা আর্চওয়ে বসালেও সঙ্গে অস্ত্র আছে কী না সেটা শনাক্ত করা যায়। কিন্তু সাইবার স্পেসে এই নিরাপত্তাটা নিশ্চিত করা খুব দুরূহ।”
তিনি বলেন, “সাইবার স্পেসে সামান্য কার্যকর নিরাপত্তা করতে গেলেও সাধারণ মানুষের জীবনে অনেক চাপ পড়ে, দুর্ভোগ নেমে আসে। এটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা ১৬ ডিসেম্বর থেকে অনেক কিছুই বন্ধ করে দিতে পারি। কিন্তু এর ফলে মানুষের জীবনযাত্রায় যে ভয়ানক ভোগান্তিটা আসবে এটা হ্যান্ডেল করা আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
“সে কারণে আমরা শুরু করছি খুবই ল্যুজ বা খুবই মাইল্ডভাবে। আস্তে আস্তে যেভাবে রশিটাকে টাইট করা হয় আমরা সেভাবে করব। আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মানুষের দুর্ভোগ কমানো।”
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বরাত দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, অবৈধভাবে ফোন আমদানির ফলে প্রতি বছর প্রায় পাঁচশ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়। এনইআইআর কার্যকর হলে এই ক্ষতি কমে আসবে।
“এই অবৈধ ফোনগুলো আসে কর ফাঁকি দিয়ে। এগুলো আনবক্সড করে কার্টনে আনা হয়, যাতে স্বল্পতম জায়গায় আনা যায়। আমরা এই ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতি না করে একটা রূপান্তর ঘটাতে চাই। এবং সেজন্য আমরা তাদেরকে সময় দিচ্ছি। যাতে এই সময়ের মধ্যে তারা আমদানির এই চক্রটাকে বন্ধ করতে পারে। কারণ আমরা এটা চালু করলে আর ‘গ্রে হ্যান্ডসেট’ অ্যালাউ করব না। তখন আমরা ব্ল্যাক অথবা হোয়াইটে চলে যাব।”
দেশের মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদনকারীদের সংগঠন এমওআইবি নিজ খরচে এই এনইআইআর তৈরি করে দিচ্ছে জানিয়ে তাদের ধন্যবাদ দেন ফয়েজ তৈয়্যব।

এমওআইবির সভাপতি ও এডিসন (সিম্ফোনি ফোন) গ্রুপের এমডি জাকারিয়া শহীদ এর আগে এনইআইআর চালুর ব্যর্থতার জন্য গ্রে মার্কেটকেই দায়ী করন।
তিনি বলেন, “এই এনইআইআর করার ফলে কিছু ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, যারা অবৈধভাবে মোবাইল ফোন দেশে নিয়ে আসছেন। তারা হয়ত এটার বিরুদ্ধে সক্রিয় হবেন। তাদের সক্রিয়তার কারণে আগেরবার এনইআইআর চালু হয়েও সরকার বা মন্ত্রণালয় অজ্ঞাত কারণে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এবার যেন এরকম না হয়। ‘অজ্ঞাত কারণ’ যাতে এবার না ঘটে।”
ব্যাক্তির গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন
আবার এই এনইআইআর কার্যকর হলে ব্যাক্তিগতে গোপনীয়তা প্রশ্নের মুখে পড়বে কী না সে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা যে কোনো হ্যান্ডসেট বন্ধ করার ক্ষমতা পাচ্ছে জানিয়ে সাংবাদিক রাশেদ মেহেদি বলছেন, “এটা নাগরিক প্রাইভেসির জন্য হুমকি।”
তিনি বলেন, “আমার ডিভাইস বন্ধ করতে হলে সেটাতে একসেস নিতে হবে। যে হ্যান্ডসেট অলরেডি চালু আছে, সেগুলো বন্ধ করার তো কোনো সুযোগ নেই।”
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ফয়েজ তৈয়্যব বলেন, “সারা পৃথিবীতে এনইআইআর এর কাভারেজ রয়েছে। একটামাত্র আইএমইআই নম্বর দিয়ে লাখ লাখ ফোন উৎপাদনের যে জালিয়াতি, এটা পৃথিবীর অধিকাংশ দেশই সমাধান করে ফেলেছে। আমরাই বরং এই প্রযুক্তিটা আনতে অনেক দেরি করে ফেলেছি।
“আর হ্যান্ডসেট লক করাটা আসলে নজরদারির বিষয় নয়। অবৈধ হ্যান্ডসেট অপরাধের একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।”