Published : 02 Jul 2026, 08:04 PM
সদ্য শেষ হওয়া জুনে উল্লম্ফনের পরও আগের অর্থবছরের চেয়ে রপ্তানি আয় কমল ২০২৫-২৬ অর্থবছরে; আয় হয়েছে ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে দশমিক ৫৮ শতাংশ কম।
রপ্তানি আয়ের মোট পরিমাণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও কম প্রায় ১৩ শতাংশ।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় এসেছিল ৪ হাজার ৮২৮ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। আর সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলার।
এক অর্থবছর পরই রপ্তানি আরও কমে যেত পারত যদি না অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ২৫ দশমিক ৯১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি না হত। এ মাসে ৪২০ কোটি ২৭ লাখ ডলার আয় করেছেন রপ্তানিকারকরা। গত অর্থবছরের একই মাস জুনে আয়ের পরিমাণ ছিল ৩৩৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলার।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বৃহস্পতিবার রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
এর আগে টানা আট মাস কমার পর গত এপ্রিলে বেড়েছিল অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। তবে পরের মাস মে‘তেই এসে ফের হোঁচট খায় রপ্তানি আয়। ওই মাসে ৪৪০ কোটি ২৮ লাখ ডলার আয় হয়েছিল, যা ছিল আগের অর্থবছরের মে মাসের চেয়ে ৭ দশমিক শূন্য ৭শতাংশ কম।
এপ্রিলে পণ্য রপ্তানি থেকে ৪০০ কোটি ৯৯ লাখ ডলার আয় হয়েছিল; যা ছিল আগের বছরের একই মাসের চেয়ে প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি।
ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় কমায় গেল অর্থবছরে সামগ্রিক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে ৩ হাজার ৮৭০ কোটি ১১ লাখ ডলার আয় হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম।
এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি থেকে ৩ হাজার ৯৩৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় হয়েছিল।
অর্থবছর শেষে রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির তথ্য এলেও বছর শুরু হয়েছিল বড় উল্লম্ফনে। তবে সে ধারা আর বজায় থাকেনি।
এতে এক অর্থবছর পর আবার রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের চেয়ে কমে গেছে। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের চেয়ে কমেছিল ৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ। ওই অর্থবছরে আয় এসেছিল ৪০৮১ কোটি ডলার। এর আগের ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৪০৩৬ কোটি ডলার।
কেমন গেল ২০২৫-২৬ অর্থবছর–এ প্রশ্নের উত্তরে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সামগ্রিক বিবেচনায় বলবো–ভালোই গেল। আমরা ভেবেছিলাম প্রবৃদ্ধি অনেকটা কমবে; কিন্তু শেষ মাসে (জুন) বাড়ায় আগের বছরের প্রায় সমান আয় নিয়েই অর্থবছর শেষ হয়েছে।”
নতুন অর্থবছর কেমন যাবে, সেটাই এখন চিন্তার বিষয় বলে তুলে ধরেন তিনি।
পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ইভিন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান পারভেজ বলেন, “এক কথায় বলতে গেলে অবস্থা ভালো না। সেই যে ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারী থেকে শুরু হয়েছিল। এরপর থেকে একটার পর একটা ধাক্কা লেগেই আছে।
“কোভিডের পর রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ, দেশের ভেতরে রাজনৈতিক অস্থিরতা-সহিংসতা-ক্ষমতার পট পরিবর্তন। এখন চলছে ইরান যুদ্ধ। সব মিলিয়ে আমাদের অবস্থা আগামীতে কী হবে- বুঝতে পারছি না।
আরও পড়ুন-