Published : 20 Sep 2026, 10:13 AM
চাঁদের বুকে আছড়ে পড়েছে তিন থেকে ছয়তলা ভবনের সমান আকারের বড় এক গ্রহাণু। এর মাধ্যমে সৌরজগতের আধুনিক কালের সবচেয়ে বড় উল্কা গর্ত তৈরির তথ্য দিয়েছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
২০২৪ সালের ১১ এপ্রিল থেকে ২২ মের মধ্যে যে কোনো সময়ে এ শক্তিশালী আঘাতটি ঘটেছে।
নাসার ‘লুনার রেকনেসন্স অরবিটার’-এর পাঠানো তথ্যের কল্যাণে দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে সম্প্রতি বিষয়টি বিজ্ঞানীদের নজরে এসেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
নাসার তথ্য অনুসারে, এ নবআবিষ্কৃত গর্তটির নাম ‘ম্যাকগেটসিন’। গ্রহাণুবিজ্ঞানী টম ম্যাকগেটসিনের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে।
চাঁদের এ ঘটনা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব না হলেও অরবিটারের ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল ক্যামেরার ছবি বিশ্লেষণ করে এর অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন নাসার বিজ্ঞানীরা।
২০২৫ সালের অক্টোবরে নাসার এলআরও প্রকল্পের বিজ্ঞানী রবার্ট ওয়াগনার চন্দ্রপৃষ্ঠের এসব ছবি নিয়ে কাজ করার সময় ব্যতিক্রমী এক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন।
তিনি দেখেছেন, চাঁদের নির্দিষ্ট অংশে অদ্ভুত ধরনের নতুন গর্ত তৈরি হয়েছে।
এরপর তিনি ঘটনার আগের ও পরের ছবিগুলো পাশাপাশি রেখে তুলনা করে নিশ্চিত হন যে, এটা সম্পূর্ণ নতুন একটি গর্ত।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ম্যাকগেটসিন গর্তটির প্রস্থ প্রায় ৭২৮ ফুট ও গভীরতা ১৪১ ফুট।
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ম্যাকগেটসিন চাঁদের বুকে সবচেয়ে বড় গর্ত নয়। চাঁদের সবচেয়ে বড় গর্তের রেকর্ডটি রয়েছে ‘সাউথ পোল-এইটকেন বেসিন’-এর দখলে, যার ব্যাস প্রায় ১ হাজার ৫৫০ মাইল।
তবে চাঁদে অতি সম্প্রতি তৈরি হওয়া গর্তগুলোর মধ্যে এটাই সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গর্ত।
চাঁদে ছোটখাটো উল্কাপিন্ডের আঘাত নিয়মিত ঘটলেও ম্যাকগেটসিন গর্তের মতো এতো বড় মাত্রার আঘাত বিরল।
বিজ্ঞানীদের অনুমান, এ ধরনের প্রলয়ঙ্করী আঘাত প্রতি ১৩২ বছরে মাত্র একবার ঘটে থাকে।
নাসার ‘লুনার রেকনেসন্স অরবিটার’-এর ন্যারো-অ্যাঙ্গেল ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সদ্য আবিষ্কৃত এ গর্তের নতুন কিছু ছবি।
গেল অক্টোবরে বিজ্ঞানী রবার্ট ওয়াগনার এটা আবিষ্কার করার পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অরবিটারটি পুনরায় ওই সংঘাতস্থলের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় ছবিগুলো ধারণ করে।
ঘটনাটি বিরল হওয়ায় ভবিষ্যতে ম্যাকগেটসিন গর্তটি নিয়ে আরও গবেষণার পথ খুলে যাবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। গর্তটি নিয়ে একদল বিজ্ঞানী গবেষণা সম্পন্ন করেছেন।
গবেষণায় উঠে এসেছে, ম্যাকগেটসিন গর্তটির আশপাশের প্রায় ৪ মাইল এলাকা রাতের বেলার তুলনায় প্রায় নয় ডিগ্রি সেলসিয়াস ঠান্ডা থাকে।
গবেষকরা বলছেন, উল্কাপিন্ডের ওই শক্তিশালী আঘাতের কারণে চাঁদের উপরিভাগের ধুলাবালি বা আলগা স্তর ‘রেগোলিথ’ ক্ষতিগ্রস্ত ও আলোড়িত হয়েছে। ফলে ওই এলাকার ঘনত্ব ও তাপ ধরে রাখার সক্ষমতাও কমেছে।
নাসা বলেছে, চাঁদের শীতল অঞ্চলগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ভবিষ্যতে চাঁদের বুকে চলাচলকারী রোভারের চাকার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে নতুন বিভিন্ন গর্তের আশপাশের এলাকায় রোভার পরিচালনার ক্ষেত্রে এসব বিষয় বিজ্ঞানীদের বাড়তি সতর্কতা ও নতুন চিন্তার খোরাক জোগাবে।