Published : 17 Sep 2026, 10:13 AM
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অভিন্ন সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য যৌথ কমিশন চালু করেছে পাকিস্তান ও চীন।
বুধবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে কমিশনের প্রথম বৈঠক হয়।
সভায় যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত ও সমুদ্রবিষয়ক বিভাগের উপমহাপরিচালক লি ইয়া এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চীন বিষয়ক মহাপরিচালক বিলাল মাহমুদ চৌধুরী।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর যৌথ কমিশন চালুকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের ভাষ্য, এর মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথ সীমান্ত জরিপ, বাণিজ্য প্রবাহ এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদারের সুযোগ তৈরি হবে।
ডন লিখেছে, ২০১৩ সালে সই হওয়া ‘বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ চুক্তির আওতায় এ কমিশন যাত্রা করেছে। তৎকালীন চীনা প্রধানমন্ত্রী লি খিছিয়াংয়ের ইসলামাবাদ সফরের সময় চুক্তিটি সই হয়।
ওই চুক্তির ৪৫ নম্বর অনুচ্ছেদে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি যৌথ কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছিল।
ডন লিখেছে, নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সীমান্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিদর্শন, যৌথ জরিপ, সীমানা পিলার সংক্রান্ত বিষয়, আন্তঃসীমান্ত স্থাপনা ব্যবস্থাপনা এবং সীমান্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনা মোকাবিলার মতো ব্যবহারিক বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাজ করতে পারবে।
যৌথ কমিশন চালুর ফলে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ খুনজেরাব ক্রসিংসহ সীমান্ত দিয়ে মানুষের চলাচল, বাণিজ্য ও যোগাযোগ নিয়েও নিয়মিত সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হবে। এসব কার্যক্রমের সঙ্গে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসি) বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থারও সম্পর্ক রয়েছে।
ডন লিখেছে, নতুন এ কমিশন ১৯৬৩ সালে গঠিত ‘জয়েন্ট বাউন্ডারি ডিমার্কেশন কমিশন’ থেকে আলাদা। ১৯৬৩ সালের ২ মার্চ সই হওয়া চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তির আওতায় ওই কমিশন গঠিত হয়েছিল।
আগের কমিশনের মোটাদাগে দায়িত্ব ছিল—সীমান্ত জরিপ করা, সীমান্ত পিলার স্থাপন, বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি এবং সীমান্তরেখার অবস্থান ঠিক করা। সীমানা চিহ্নিতকরণ সংক্রান্ত প্রটোকল ও মানচিত্র সইয়ের মধ্য দিয়ে ওই কমিশনের কাজ শেষ হয়।
১৯৬৩ সালে বেইজিংয়ে পাকিস্তানের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চেন ইয়ের মধ্যে চুক্তিটি সই হয়েছিল।
ওই চুক্তিতে এও বলা হয়েছিল, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তির পর সংশ্লিষ্ট সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ চীনের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে আবার আলোচনায় বসবে।
আর ২০১৩ সালের চুক্তির মাধ্যমে ইতোমধ্যে চিহ্নিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য চলমান ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এতে সীমানা পিলার ও আন্তঃসীমান্ত অবকাঠামোর মতো বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, কোনো সীমানা পিলার তার আগের অবস্থানে পুনঃস্থাপন করা সম্ভব না হলে যৌথ কমিশন সেটির জন্য অন্য ‘উপযুক্ত’ স্থান ঠিক করতে পারবে। তবে এতে সীমান্তরেখার অবস্থান পরিবর্তন করা যাবে না।
ডন লিখেছে, নতুন এ কমিশন গঠনের বিরোধিতা করেছে ভারত। ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তির বৈধতা নিয়ে ভারতের আপত্তি রয়েছে। ভারত ওই চুক্তির আওতাভুক্ত ভূখণ্ডকে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের অংশ হিসেবে দাবি করে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই এবং তথাকথিত যৌথ কমিশনকে ভারত প্রত্যাখ্যান করছে।
তবে পাকিস্তান ও চীন মনে করছে, নতুন কমিশন তাদের সীমান্ত সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা এবং ২০১৩ সালের চুক্তির পর উদ্ভূত বিভিন্ন বাস্তবিক বিষয় মোকাবিলায় একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করবে। একইসঙ্গে দুই দেশের বিদ্যমান ভূখণ্ডগত অবস্থান তাতে পরিবর্তন হচ্ছে না।