১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে চুক্তির পথে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক

আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হবে।

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে চুক্তির পথে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক

ডেনমার্ক ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 19 Sep 2026, 11:29 AM

Updated : 19 Sep 2026, 11:54 AM

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দেওয়ার পর যে কূটনৈতিক টানাপড়েন দেখা দিয়েছিল, তার অবসান ঘটাতে অঞ্চলটির নিরাপত্তা নিয়ে চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, এ চুক্তি গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ পাবে।

আর ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, চুক্তিটি ‘আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করবে’।

বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দাবির সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে মন্তব্য না করলেও চুক্তিটিকে দুই দেশের যৌথ নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

কৌশলগত অবস্থান ও বিপুল খনিজ সম্পদের কারণে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে মাসের পর মাস ধরে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড ‘দখল’ করার হুমকির পরই এই সমঝোতা এলো।

ট্রাম্প ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কোনো খরচ নেই’ এবং এর মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের ‘নিরাপত্তা রক্ষা ও সুরক্ষিত রাখতে যা প্রয়োজন তা করার’ সুবিধা পাবে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি জানিয়েছেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ও লিখিত অনুমোদন ছাড়া গ্রিনল্যান্ডে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ সামরিক উপস্থিতি রাখতে পারবে না; সংবেদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে পারবে না।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হবে।

তিনি বলেন, “এই সমঝোতা আমাদের যৌথ নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পাশাপাশি ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়।”

চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হতে ডেনমার্কের পার্লামেন্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি।

গ্রিনল্যান্ড সরকারের চেয়ারম্যান ইয়েনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন এক বিবৃতিতে সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “গ্রিনল্যান্ড, ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা জোরদার করার মতো একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারা আনন্দের বিষয়। এতে গ্রিনল্যান্ডের স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় আমাদের ভূমিকা স্বীকৃত হয়েছে।”

বিবিসি লিখেছে, রাশিয়া ও চীনের হুমকি মোকাবিলা এবং খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই দ্বীপাঞ্চল কিনতে বা নিজেদের দখলে নিতে দীর্ঘ দিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। তিনি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেওয়ায় ডেনমার্ক ও নেটো মিত্রদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একে ‘ঐতিহাসিক চুক্তি’ ও আমেরিকার জন্য ‘বড় জয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে আমাদের যে নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে, এই চুক্তি তার স্থায়ী সমাধান করেছে।”

চুক্তির শর্ত

বিবিসি লিখেছে, চুক্তির আনুষ্ঠানিক কোনো অনুলিপি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা চুক্তির মূল বিষয়গুলো জানিয়েছেন।

তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে না।

এছাড়া গ্রিনল্যান্ড বা ডেনমার্কের পূর্ব অনুমতি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সামরিক অবকাঠামো তৈরি করতে পারবে। পাশাপাশি অঞ্চলটিতে মার্কিন বাহিনীর স্থায়ী প্রবেশাধিকার, সামরিক ঘাঁটি স্থাপন ও আকাশসীমা ব্যবহারের অধিকার থাকবে।

চুক্তিতে নেটোবহির্ভূত যেকোনো দেশের সেনা ঘাঁটি নির্মাণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনকে নিশানা করে সংবেদনশীল খাতে যেকোনো বিদেশি বিনিয়োগ ঠেকানোর বিধান রাখা হয়েছে।

বিবিসি লিখেছে, তবে চুক্তিটি ১৯৫১ সালে দুই দেশের মধ্যে হওয়া বিদ্যমান চুক্তির চেয়ে কতটা আলাদা তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

১৯৫১ সালের চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠাতে পারে; দ্বীপটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ‘পিতুফিক’ সামরিক ঘাঁটিতে একশরও বেশি মার্কিন সেনা স্থায়ীভাবে মোতায়েন রয়েছে।

ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়া ও চীনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষায় তার উদ্যোগ ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণে গ্রিনল্যান্ড অপরিহার্য। তিনি আরও বলেছেন, এই উদ্যোগে ইউরোপীয় মিত্ররাও সহযোগিতা করতে পারে।

গ্রিনল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ বিরল মৃত্তিকা খনিজের মজুত রয়েছে, যার বড় অংশ এখনও উত্তোলন করা হয়নি। মোবাইল ফোন ও বৈদ্যুতিক গাড়িসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি তৈরিতে এসব খনিজ গুরুত্বপূর্ণ।