Published : 19 Sep 2026, 07:28 PM
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় স্ত্রী ও দেড় বছরের মেয়েকে হত্যার পর এক সৌদি প্রবাসী ‘আত্মহত্যা’ করেছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
শনিবার দুপুরে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহীরচর জান্নাকান্দি এলাকার একটি বাড়ির কক্ষ থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয় বলে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী জানিয়েছেন।
নিহতরা হলেন- প্রবাসী একরাম হোসেন (৪২), তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৫) এবং তাদের মেয়ে আলিজা নূর। প্রিয়াঙ্কা সিংগাইর উপজেলার দক্ষিণ এলাকার মোহাম্মদ মহসিন খানের মেয়ে। তিনি একরামের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাতে একরাম স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান। পরদিন বেলা বাড়লেও ঘরের দরজা না খোলায় পরিবারের সন্দেহ হয়। পরে একরামের মা দরজার ফাঁক দিয়ে ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনজনের মৃতদেহ দেখতে পান তারা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মামুনুর রশিদ বলেন, একরাম সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটাতেন। প্রিয়াঙ্কা তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সৌদি আরব থেকে দেশে এসেছিলেন।
তিনি বলেন, “একরাম দেশে ফেরার পর দুই মাস ধরে তাকে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। তবে তাদের পরিবার আর্থিকভাবে সচ্ছল এবং কোনো অর্থনৈতিক সংকট ছিল না।”
প্রিয়াঙ্কার বাবা মোহাম্মদ মহসিন খানের অভিযোগ, তার মেয়ের সঙ্গে জামাতা একরামের কোনো সমস্যা ছিল না। তার দাবি, একরামের বোনসহ পরিবারের কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
বোন ও ভাগনিকে হত্যার অভিযোগ করেছেন প্রিয়াঙ্কার ভাই ইয়াসিনও। তিনি বলেন, ঘটনাটি আরও আগে ঘটলেও দুপুরের দিকে তারা খবর পান। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী বলেন, পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে একরাম প্রথমে তার স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস নিয়ে একরাম আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় আলাদা দুটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। একটি হত্যা মামলা এবং অপরটি আত্মহত্যার ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি-না, তা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।