Published : 03 Jun 2026, 08:35 PM
এক মাস বাড়ার পর আবার রপ্তানি আয় নেতিবাচক ধারায় ফিরে গেছে। সবশেষ মে মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে রপ্তানি আয় কমেছে ৭.০৭ শতাংশ।
সদ্য শেষ হওয়া মে মাসে পণ্য রপ্তানি করে ৪৪০ কোটি ২৮ লাখ (৪.৪০ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। আগের অর্থবছরের একই মাসে আয় এসেছিল ৪৭৩ কোটি ৭৮ লাখ ডলার।
টানা আট মাস কমার পর গত এপ্রিলে পণ্য রপ্তানিতে হঠাৎ বড় উল্লম্ফন হয়েছিল; আগের বছরেরে একই সময়ের চেয়ে ৩৩ শতাংশ বেড়ে আয় এসেছিল ৪০০ কোটি ৯৯ লাখ ডলার।
বুধবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করে তাতে দেখা যায়, শুধু একক মাস নয়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসের (জুলাই-মে) হিসাবেও রপ্তানি থেকে আয় কমেছে।
আগের অর্থবছরের চেয়ে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে মোট আয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৮০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৪ হাজার ৪৯৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট রপ্তানি আয় এসেছিল ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার।
সবশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক থেকে আয় কমায় মে মাসে রপ্তানি আয় কমেছে। এ মাসে পোশাক রপ্তানি থেকে ৩৫৯ কোটি ৪১ লাখ (৩.৫৯ বিলিয়ন) ডলার আয় হয়েছে, যা গত বছরের একই মাসের চেয়ে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ কম।
পোশাক রপ্তানিকারকরা বলছেন, কোরবানির ঈদের কারণে মে মাসে ৮ থেকে ১০ দিন কারখানা বন্ধ থাকায় উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম সেভাবে না হওয়ায় রপ্তানি কমেছে।
এক মাস পরই মে মাসে রপ্তানি আয় কমার বিষয়ে পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজও ঈদের সময়ে আট থেকে ১০ দিন পোশাকসহ বেশির ভাগ রপ্তানিমুখী কারখানা বন্ধ থাকার কথা বলেন। এ সময়ে পণ্য জাহাজীকরণও হয়নি। এর প্রভাব পড়েছে রপ্তানিতে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আমাদের রপ্তানির অবস্থা আসলেই খারাপ। টানা আট মাস কমার পর এপ্রিলে যেটা বেড়েছিল, সেটার কারণ ছিল ওই মাস আমাদের পোশাকের ভরা মৌসুম ছিল। বায়ারদের চাহিদা বেশি ছিল; রপ্তানিও বেশি হয়েছিল।”
অর্থবছরের শেষ মাস জুনেও রপ্তানি কমার আশঙ্কা প্রকাশ করে পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ইভিন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান পারভেজ বলেন, “একটার পর একটা ধাক্কা লেগেই আছে। কোভিডের পর রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ, দেশের ভেতরে রাজনৈতিক অস্থিরতা-সহিংসতা-ক্ষমতার পট পরিবর্তন। এখন চলছে ইরান যুদ্ধ। সব মিলিয়ে আমাদের অবস্থা কী হবে¬–বুঝতে পারছি না।”
পোশাক থেকে এসেছে ৮১.৬৩%
বরাবরের মত তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকেই মূল আয় এসেছে। মে মাসে এ খাত থেকে ৩৫৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার আয় হয়েছে, যা মোট রপ্তানি আয়ের (৪৪০ কোটি) ৮১ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
এর মধ্যেস নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় ১ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার; আগের বছরের মে মাসের চেয়ে যা ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ কম। আর ওভেন পোশাক থেকে আয় কমেছে ৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। আয় এসেছে ১ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার।
অর্থবছরের ১১ মাসের হিসাবেও মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ দশমিক ৬২ শতাংশ এসেছে পোশাক খাত থেকে (৩৫.৩১ বিলিয়ন)। আগের অর্থবছরের একই সময়ের আয়ের (৩৬.৫৬ বিলিয়ন) চেয়ে তা ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ কম।
অন্যান্য খাতের আয়
ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মে মাসে কৃষি পণ্য রপ্তানি থেকে ৬ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার ডলার আয় হয়েছে। কমেছে ২ দশমিক ১৯ শতাংশ।
এ সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে আয় কমেছে ১২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এ খাত থেকে ১০ কোটি ৯৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার দেশে এসেছে। গত বছরের মে মাসে এই অঙ্ক ছিল ১২ কোটি ৫২ লাখ ৯০ হাজার ডলার।
তবে পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে মে মাসে আয় বেড়েছে ৮ দশমিক ৪০ শতাংশ। হোম টেক্সটাইল রপ্তানি থেকে বেড়েছে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। ওষুধ রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ২০ দশমিক ২৫ শতাংশ।
আরও পড়ুন