Published : 08 Jun 2026, 08:32 PM
বিগত অর্থবছরগুলোতে বাণিজ্য ঘাটতির চিত্র জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার পেছনে বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ) ‘ভুলনীতি’, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধজনিত মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।
সোমবার সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের এমপি জসিম উদ্দিন আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “…বিশেষ করে জ্বালানি, খাদ্য ও শিল্পের কাঁচামালের উচ্চ আমদানি ব্যয় এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধীরগতির কারণে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে যায়।”
২০২০-২১ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৬ দশমিক ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারে।
২০২২-২৩ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২৭ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার হয়।
চট্টগ্রাম-১৩ আসনের এমপি সরওয়ার জামাল নিজামের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আমদানি-রপ্তানি পরিসংখ্যান অনুযায়ী সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ৭৮৫৯ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
পাকিস্তানের সঙ্গে ৬৮১ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার, ভুটানের সঙ্গে ২৯ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন ডলার এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে ১০ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলার বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।
অন্যদিকে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে বলে তথ্য দেন তিনি।
জসিম উদ্দিন আহমেদের আরেক প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত চা, শাকসবজি, ফলমূল, পানপাতা, তৈলবীজ, চিনি, কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্য, ভোজ্যতেল, বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয় এবং সাদা ও হিমায়িত মাছ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কানাডা, ভারত, নেদারল্যান্ডস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।
জামালপুর-৩ আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে।
নড়াইল-১ আসনের এমপি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে।
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, ওষুধ, আইসিটি ও সফটওয়্যার সেবা, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হিমায়িত খাদ্য ও প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
চামড়ার রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলারে আটকে
এমপি জসিম উদ্দিন আহমেদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি গত তিন বছর ধরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের ঘরেই আটকে আছে।
“১ দশমিক ১০ থেকে ১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।”
তিনি বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল, তবে বাস্তবায়নে ঘাটতি ছিল। স্থানান্তরের উদ্দেশ্যটা ঠিক ছিল। কিন্তু বাস্তবায়নটা ঠিক হয়নি। ভালোভাবে হয়নি।
“স্থানান্তর প্রক্রিয়ার সময় অনেক সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান ঝরে পড়েছে। ফলে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সক্ষমতা কমেছে। এটার প্রতিফলন প্রতি বছর কোরবানির সময় দেখতে পাই।”
আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) প্রকল্পের নকশাগত সক্ষমতা দৈনিক ২৫ হাজার ঘনমিটার হলেও বাস্তবে ১৪ থেকে ১৬ হাজার ঘনমিটার সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। এটির যে দুর্বলতা ও ত্রুটি, সেটি সংশোধন করে ২৫ হাজার কিউবিক মিটারে উন্নীত করা হবে।”
নির্দিষ্ট উৎপাদনক্ষমতার বেশি ট্যানারিগুলোকে নিজস্ব ইটিপি স্থাপনে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “এই কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারলে চামড়া শিল্প একটি বিকল্প রপ্তানি খাত হিসেবে আবির্ভূত হবে। এ খাতের রপ্তানি সম্ভাবনা ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।”