Published : 15 May 2026, 12:52 AM
ভরা মৌসুম শুরু হতে আরও কিছুটা বাকি; এর আগেই ঢাকার বাজারে এসেছে সাতক্ষীরার আম, যা কিনতে ভোক্তার পকেট কাটা যাচ্ছে।
পুরান ঢাকার বাদামতলী এবং যাত্রাবাড়ী আড়তে আম ওঠা শুরু করলেও এখনো সেভাবে ভিড় শুরু হয়নি। বাজারে এখন মিলছে আগাম জাত-গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ ও গুটি আম। জাতভেদে পাইকারি পর্যায়ে ২৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এই ফল কিনতে ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ১৩০ টাকা।
আর কাঁচা-মিঠা আম পাইকারিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও ভোক্তা পর্যায়ে বেচা হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তাদের গড়পড়তা আম কিনতে হয়, যেখান থেকে পরে মণ প্রতি গড়ে ৫ কেজি বাদ যায়। ভ্রাম্যমাণ দোকান হলে এর সঙ্গে ফুটপাতের চাঁদাবাজি, আর দোকান হলে তার ভাড়া ও স্টাফ খরচ যোগ হয়।
সবমিলিয়ে এমন দরে আম না বেচলে পোষায় না বলে ভাষ্য তাদের।
গত ৫ মে থেকে সাতক্ষীরায় আম সংগ্রহ শুরু হয়। এ ফলের বড় উৎস রাজশাহী, রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও নাটোরের আম এখনো নামেনি।
আম সংগ্রহের সূচি অনুযায়ী, ১২ তারিখের পর আসবে বোম্বাই, গোলাপখাস ও বৈশাখী জাতের আম। ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে ১৫ মে হিমসাগর, ২৭ মে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি আম সংগ্রহের সময় ঠিক করা হয়েছে। সবশেষে জুলাই মাসে বাজারে আসতে শুরু করবে আশ্বিনা ও গৌরমতি। এই দুই জাত অগাস্টেও মেলে।
আগে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কেবল রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আমের চাষ হতো। আম নামত জ্যৈষ্ঠ মাসে অর্থাৎ জুনে। তবে এখন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও তিন পার্বত্য জেলাতেও বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ হচ্ছে।
একই প্রজাতির হলেও আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণের পার্থক্যের কারণে বিভিন্ন জেলায় আমের পরিপক্বতা আসার ক্ষেত্রে ৭ থেকে ১০ দিনের ব্যবধান হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাংলাদেশে ২১ ডিগ্রি হতে ২৬ ডিগ্রি অক্ষাংশে থাকা জেলাগুলোতে আমের চাষ হয়। প্রতি ডিগ্রি অক্ষাংশ বৃদ্ধির জন্য আমের সংগ্রহ গড়ে ২ থেকে ৩ দিন পিছিয়ে যায় বা দেরিতে পাকে।
“এজন্য একই মৌসুমে ভিন্ন জেলায় আমের চাষাবাদের সময় আলাদা হয়। সেভাবেই আম পরিপক্ব হয়।”

পাইকারি-খুচরায় এত ব্যবধান!
বাজারে এখন পর্যন্ত সাতক্ষীরার আম উঠেছে জানিয়ে যাত্রাবাড়ীর আড়তদার আনোয়ার ট্রেডার্সের মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা বাগান থেকে কিনে নিয়ে আসি। মাঝখানে কোনো ট্রেডার নাই। বাগান থেকে সরাসরি চলে আসে আড়তে।”
সারি সারি সাজানো ক্রেট দেখিয়ে তিনি বলেন, “এগুলো দুই দিনে জমা হয়েছে। বৃষ্টি না হলে শেষ হয়ে যেত। মৌসুমের সময়ে এখানে দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না।”
সেখানকার নূর ট্রেডার্সের বিক্রয় কর্মী শাহীনূর আলী বলেন, “এখন শুধু সাতক্ষীরা থেকে আম আসছে। অন্য কোনো জেলার আম আসেনি। সাপ্লাই ভালো আছে, তবে বেচাকেনা কম।”
পাইকারিতে প্রতি কেজি গোপালভোগ ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং গোবিন্দভোগ ৪৫ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ টাকা বিক্রি করার তথ্য তুলে ধরে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গোবিন্দভোগ সবচেয়ে বড় সাইজেরটা ৬৫ টাকা থেকে ৭০ টাকা কেজি দাম।”
গত সোমবার নূর ট্রেডার্স থেকে তুলনামূলক ছোট আকারের গোপালভোগ কেনেন খুচরা বিক্রেতা রহিম উদ্দিন। তিনি ২৫ টাকা দরে নেন ৮২ কেজি আম।
বিভিন্ন সড়ক ও মহল্লার গলিতে বিক্রির উদ্দেশে ভ্যানে আম সাজানো শেষে রহিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “গোবিন্দভোগ নিলাম। আবহাওয়া খারাপ, নইলে আরো বেশি নিতে পারতাম।”
প্রতি কেজি আম ৬০-৭০ টাকা দরে বিক্রি করার পরিকল্পনা তার।
হাসান ফ্রুট ট্রেডার্স থেকে ছোট ও বড় আকারের দুই ক্রেট গোবিন্দভোগ কিনলেন যাত্রাবাড়ীর মহল্লার দোকানি রশিদ মোল্লা। দর কষাকষি করে ৪৮ কেজি আম নিলেন এক হাজার ৯৬০ টাকা দরে।
প্রতি কেজি প্রায় ৪১ টাকা পড়েছে জানিয়ে রশিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “কয়ালি (আড়তের জন্য মাশুল ও শ্রমিক মজুরি) আলাদা দিতে হইছে। এখন ভ্যানে করে নিমু, বাহির হওয়ার সময়ে দুই জায়গায় টোল (সিটি করপোরেশনে নামে চাঁদা আদায়) দিতে হবে ১০ টাকা করে। কখনো কখনো একজনই ২০ টাকা নেয়, মাল বেশি দেখলে।”
এসব খরচের সঙ্গে পরিবহন ব্যয় যোগ করে আমের বিক্রয় মূল্য ঠিক করেন বলেন জানান তিনি।
ভোক্তা পর্যায়ে মহাখালী বাজারে গোবিন্দভোগ ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করার তথ্য দিয়ে বাচ্চু মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “১৪০ টাকা কেজিও বিক্রি করি। দরদাম করে ১৩০ টাকাতে বিক্রি করে দেই।”
আর কাঁচা-মিঠা আম ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করার তথ্য দেন তিনি।
ফলের আরেক পাইকারি বাজার বাদামতলীর বিসমিল্লাহ ফ্রুটসের বিক্রয় কর্মী আইয়ুব মিয়া বলেন, বোম্বাই, গোলাপখাস, হিমসাগর, ল্যাংড়া, গোপাল ভোগ, আম্রপালিসহ বিভিন্ন জাতের দেশি আমও আসবে সামনের দিনে; তখন সরবরাহ বেড়ে দাম কমে যাবে।
মতিঝিলের ব্যাংকপাড়ায় মৌসুমি ফল বিক্রি হয় একাধিক স্থানে। মেট্টো স্টেশনের দক্ষিণ পাশের ফল বিক্রেতা জামিল আহমেদ বলেন, “সব সাইজের আম আছে। বড়গুলো বেশি চলে। ১২০-১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করি।”
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারিতে আকারভেদে গোপালভোগ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে, যা খুচরায় ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গোবিন্দভোগ পাইকারিতে ৪৫ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হলেও তা খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে। আর গুটি আম ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে খুচরায় বিক্রি হলেও এর পাইকারি দর ৩০ থেকে ৪০ টাকা।
মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মুখে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভ্যানে করে আম বেচছিলেন মাহবুবুল হক।
পাইকারির তুলনায় খুচরার দাম দ্বিগুণ হওয়ার ব্যাখ্যায় তিনি বলছিলেন, “আড়তে ট্যাব খাওয়া আম দেয়। ক্যারেটের ভেতরে যা আছে তা সব নিতে হয়। কিছু চেহারা খারাপ দেখায়, নষ্ট আমও থাকে।”
আমের বড় বোটাসহ ওজন করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা গড়পড়তা কিনি। তারপর বাছাই করি, সেখানে এক ক্যারেটে ২-৩ কেজি বাদ যায়। তার পরও বিক্রি করার সময়ে সবাই তো বেছে বেছে নয়।
এভাবে মণ প্রতি ৫ কেজির মতো বাদ যায় দাবি করে খুচরা বিক্রেতা মাহবুবুল বলেন, সেগুলো খুবই কম দামে বেচা হয় বা ভবঘুরেদের দিয়ে দেওয়া হয়।
বাছাই করার পর গড়ে আমের কেনার খরচ বেশি পড়ে। এরসাথে ফুটপাতে থাকার ‘খরচ’ দিতে হয় বলে ভাষ্য মাহবুবুল হকের।
দাম দ্বিগুণ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পুরানা পল্টনের ফল ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, “দোকান ভাড়া, স্টাফ খরচ তো আছে।
“তাদের তো মাস শেষে বেতন দিতে হয়। সেই খরচ উঠাব তো বিক্রি করে।”

রাসায়নিক দেওয়া নাই তো!
টিকাটুলিতে পরিবারের জন্য ৩ কেজি আম কেনার পরে বেসরকারি চাকরিজীবী আশরাফুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নতুন আম উঠছে; কেমিক্যাল আছে কি না—সেই সন্দেহ তো থাকে।
“তাই পরিচিত দোকান থেকে নিই। তারা তো বললো, ‘কেমিক্যাল মেশানো হয়নি’।”
মতিঝিলের মেট্টো স্টেশনের দক্ষিণ পাশ থেকে ফল কিনছিলেন ব্যাংকার রাজিয়া সুলতানা।
মৌসুমের পুরো সময়েই বাসায় আম রাখেন জানিয়ে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এবার প্রথম আম নিলাম। দেখতে সুন্দর লাগছে-তাই ২ কেজি নিলাম। বাচ্চারা পছন্দ করে, তাই নিতে হলো। আরো আম আসলে তখন বেশি করে কেনা যাবে।”
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে এখন আগাম জাতের পরিপক্ব আম এলেও অনেক ক্রেতা সন্দেহের চোখে দেখছেন—রাসায়নিক দেওয়া নাই তো! এখন সরাসরি বাগান থেকে আড়তে আম আসায় রাসায়নিক মেশানোর প্রবণতা কমেছে। তা ছাড়া ক্রেতারাও সচেতন হয়েছে।
রাসায়নিক মেশানো নিয়ে শোরগোলের মধ্যে ‘ফ্রেশ’ আমের জন্য কয়েক বছর ধরে অনলাইন বাজার চাঙা হয়ে উঠেছে। তরুণদের অনেকেই পুরো বাগান কিনে বা বাগান মালিকের সঙ্গে চুক্তি করে আম নিয়ে আসেন ঢাকায়। চাহিদা বেশি থাকলে বাগানে বসেই কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে গ্রাহকের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
ফার্মগেটের তরুণ ব্যবসায়ী স্বপন আহমেদ গেল ৪ বছর ধরে এভাবেই পরিচিতদের কাছে আম বিক্রি করে আসছেন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাসায়নিক ব্যবহার করার পর তা ধরতে হলে মেশিন লাগবে। সেই মেশিন তো বাজারে নেই। এমনকি অনেকে গাছে থাকতেই বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক স্প্রে করে। পোকামাকড় মারতে ও আমের স্বাদ বাড়াতে ভিটামিন হিসেবে স্প্রে করা হয়; এটি করা লাগবে।
“কিন্তু স্প্রে করার দুই সপ্তাহ পরে আম পারলে কোনো সমস্যা থাকে না বলেই কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জেনেছি। আমি সেভাবেই আম সংগ্রহ করি।”
‘রাসায়নিকমুক্ত’ আম বেচতে তার মতো অনেকেই মৌসুমজুড়ে বাগানে বা বাগান বাড়ি এলাকায় অস্থায়ীভাবে আবাস গড়েন। বড় বিনিয়োগকারীরা বাগান কেনার পরে নিজস্ব জনবল দিয়ে তত্ত্বাবধান করে সারা দেশে আম বিক্রি করেন বলে জানিয়েছেন অনলাইন উদ্যোক্তা স্বপন।

ক্রেটে ঠাসা আড়ত
আমের সৌন্দর্য ঠিক রাখতে আর পোকামাকড় থেকে রক্ষা করতে আমভর্তি ক্রেট নেট দিয়ে ঢেকে রাখছেন বিক্রেতারা।
যাত্রাবাড়ীর হাফিজ ট্রেডার্সের বিক্রয় কর্মী জামাল উদ্দিন বলেন, “কাগজ দিয়ে ঢাকা থাকে সব ক্যারেটের উপরের অংশ। তার পরও মাছি, পোকা ও ধুলা ঢুকে যায়।
“কখনো কখনো ইঁদুর আর তেলাপোকার মত পোকা আম ফুটো করে ফেলে। এসব থেকে রক্ষা করতে নেট মশারি দিয়ে ঢেকে রাখা লাগে।”
আড়তে আম বিক্রি হয় ক্রেট হিসাবে; আকার ও ওজন ভেদে এক ক্রেটে ২০ থেকে ২৪ কেজি পর্যন্ত আম রাখা যায়। পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের সুবিধা থাকা ও পুনঃব্যবহার করা যায় বলে এখন প্লাস্টিকের ক্রেটেই আম পরিবহন হয় বাগান থেকে।
অন্য আমের দাগ, কষ ও ময়লা আবর্জনা থেকে রক্ষা করতে আম মুড়িয়ে দেওয়া হয় পুরনো পত্রিকার কাগজে। একারণে আমের মৌসুমে পুরনো পত্রিকার কেজি প্রতি দাম সাধারণ সময়ের তুলনায় ৫-১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। বর্তমানে পুরনো পত্রিকা ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আড়ত থেকে পাইকারি দরে আম কিনতে হলে কমপক্ষে এক ক্রেট কিনতে হয়। খুচরা বিক্রেতারা সেখানে গিয়ে আকার ও ওজন মিলিয়ে ক্রেট নির্বাচন করে থাকেন।
আড়তে আমের দর মেটানোর পর ক্রেট ও কয়ালি (আড়তের জন্য মাশুল ও শ্রমিক মজুরি) বাবদ আলাদা অর্থ পরিশোধ করতে হয় খুচরা বিক্রেতাকে। তাতে প্রতি ক্রেটে ১০ টাকা খরচা পড়ে যায়।

‘বিক্রিবাট্টা জমবে মে মাসের শেষে’
পুরান ঢাকার বাদামতলীর আড়তদার আল-মদিনা এন্টারপ্রাইজের জিয়াউর হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন তো মরসুম শুরু, বিক্রি কম। সামনে আরো আম (অন্য জাতের) আসবে, তখন বিক্রি বাড়বে।”
এ বাজারের তুহিন ব্রাদার্সের বিক্রয়কর্মী মোহাম্মদ ইমরান হোসেনও একই সুরে বললেন, “এখন আসবে আগাম জাতের আম। দুই দিনের বৃষ্টিতে বিক্রি কমে গেছে, বৃষ্টিতে আম রাখাও কষ্টের। নষ্ট হয়ে যায়।
“আড়াতের চালান শেষ না হলে নতুন আম আনব না। বিক্রি বাড়লে আরো আম আনব।”
আম পাকাতে ও সুন্দর দেখাতে রাসায়নিক ব্যবহার করেই বিক্রি করা হচ্ছে বলে ক্রেতাদের অনেকেই অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আরিফ ব্রাদাসের্র পরিচালক আরিফুর রহমান বলেন, “সবাই কেমিক্যাল দেয় না। কিছু লোকতো দেয়।
“কেমিক্যাল না দিলে তো আম তাড়াতাড়ি পচবে। কেমিক্যাল ছাড়া আম এক সপ্তাহের বেশি ভালো থাকে না।”
গাছে থাকা অবস্থায় রাসায়নিক ব্যবহার করার পর আম পেরে আনার ঘটনাও ঘটছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “কেমিক্যাল না দেওয়া আমের দাম বেশি। পাবলিক তো সেইডা বুঝে না। ভালা খাইলে দাম একটু বেশি হয়।
“আমরা কেমিক্যাল ছাড়া আম আনি। গোডাউনে আনি, গোডাউন খালি হইলে নতুন আম উঠাই। তাই বিক্রি কম করলেও পচনের টেনশন নাই।”

আমের অর্থনীতি কতো বড়?
দেশের আমের অর্থনীতির আকার সম্পর্কে সুস্পষ্ট তথ্য সরকারি কোনো সংস্থার কাছে নেই বলে জানাচ্ছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ব্যবসায়ীদের কাছে জেলাভিত্তিক ধারণা রয়েছে। তবে সরকারি পর্যায়ে কয়েকটি জেলার উৎপাদনের তথ্য রয়েছে।
জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন পর্যন্ত আমের অর্থনীতি কত তা নিয়ে কোনো তথ্য নেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো সংস্থা এটি করতে পারে।
“আমাদের সেই ম্যান্ডেট ও সক্ষমতা নেই। শুধু আম উৎপাদন না, এর সঙ্গে কীটনাশক, পরিবহন, মজুর ও প্যাকেজিং খাত জড়িত। সব মিলিয়ে হিসাব করতে হবে। এটা এক্সপার্টরা করতে পারবেন।”
তিনি বলেন, “আম উৎপাদনের হিসাবটি আমরা রাখি। গত ২০২৫ সালে সারা দেশে ২৬ লাখ ৩৩ হাজার টন আম উৎপাদিত হয়। এবারের আবহাওয়া এখনো ভালো, সেটা বজায় থাকলে গত বছরের চেয়ে উৎপাদন কম হবে না।”
আগের বছর আমের উৎপাদন ভালো হওয়ায় ২৮টি দেশে ২ হাজার ১৯৪ টন রপ্তানি হয় বলে জানিয়েছেন আরিফুর।