জামায়াতের কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞার আবেদনের শুনানি ১২ নভেম্বর

জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শুনানির নতুন তারিখ ধার্য করে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Nov 2023, 07:32 AM
Updated : 6 Nov 2023, 07:32 AM

জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন নিয়ে চলমান মামলার নিষ্পত্তির আগে, দলটির সভা-সমাবেশসহ সব রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ১২ নভেম্বর দিন ঠিক করেছে আপিল বিভাগ। 

সোমবার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ নতুন এই তারিখ ঠিক করে দেয়। 

আবেদনের পক্ষে শুনানি করেছেন আইনজীবী তানিয়া আমীর ও আহসানুল করীম। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান। 

জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী জিয়াউর রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নতুন তারিখ রাখে।

তানিয়া আমীর সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের আদালত অবমাননার ও নিষেধাজ্ঞার আবেদন ছিল। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে মুলতবির একটি আবেদন আছে। উনাদের আইনজীবীর ব্যক্তিগত সমস্যা। 

“আদালত বলেছেন, পুরো হাই কোর্টের রায় দেখতে আমাদের সিপি (লিভ টু আপিল) শুনতে হবে। ১২ তারিখ মূল মামলাটাই শুনে ফেলি।” 

আগামী ১২ নভেম্বর মামলাটি কার্যতালিকার শীর্ষে থাকবে বলে জানান এই আইনজীবী।

জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন নিয়ে চলা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া, পর্যন্ত দলটির মিছিল-সমাবেশসহ সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয় গত ২৬ জুন। 

আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে মাওলানা সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীর পক্ষে এ আবেদন করেন ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর।

এ ছাড়া মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সমাবেশ করে রেজিস্ট্রেশন দাবি করায় আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে পৃথক আবেদন করেন মাওলানা রেজাউল হক চাঁদপুরী। এ আবেদনর আইনজীবীও ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর।  

তরীকত ফেডারেশনের নেতা রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ কয়েকজনের আবেদনে এক দশক আগে নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করেছিল হাই কোর্ট। হাই কোর্টের দেওয়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামায়াত। সেই আবেদন আপিল বিভাগে বিচারাধীন। 

হাই কোর্টের রায়ে নিবন্ধন বাতিলে পর থেকে জামায়াত দলীয় পরিচয়-প্রতীক নিয়ে কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। তবে তারা সভা-সমাবেশের মত রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করেছে। 

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দলের আমির শফিকুর রহমানসহ ও ওলামায়ে কেরামের মুক্তি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিতেসে গত ১০ জুন রাজধানীতে এক দশক পর সমাবেশ করে জামায়াতে ইসলামী। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাবেশ শেষ করা, বিশৃঙ্খলা না করা এবং মিলনায়তনের বাইরে না যাওয়ার শর্তে তাদের সেদিন অনুমতি দিয়েছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ।

এরপর ১ অগাস্ট ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ায় বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী। 

গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ এবং আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ কর্মসূচির দিনই সমাবেশের ঘোষণা দেয় জামায়াত। পুলিশ বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে অনুমতি দিলেও ওই দিন সমাবেশ করার জন্য নিবন্ধনহীন জামায়াতকে অনুমতি দেয়নি । কিন্তু অনুমতি না পেলেও ঢাকায় ২৮ অক্টোবর সমাবেশ করে ছাড়ে জামায়াত ইসলামী। 

ওইদিন মতিঝিলের শাপলা চত্বরে যেতে না পারলেও কাছাকাছি আরামবাগ মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে দুটি পিকআপ ভ্যান যুক্ত করে সমাবেশ মঞ্চ প্রস্তুত করে জামায়াত। 

সেদিন বিএনপির সমাবেশ পণ্ড হলেও জামায়াতের সমাবেশে দলের ভারপ্রাপ্ত আমির মুজিবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এটিএম মাসুম, নায়েবে আমির সামছুল ইসলাম, সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ, আব্দুল হালিম, মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল উপস্থিত ছিলেন।  

জামায়াতের মহানগর উত্তরের সভাপতি আব্দুর রহমান মুসা এবং দক্ষিণের সভাপতি নুরুল ইসলাম বুলবুলও সমাবেশে অংশ নেন। 

রায় এক দশক আগে

একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষনেতারা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শুরু হওয়া যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত হন।

এক দশক আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় আসার পর মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে দলটির অধিকাংশ শীর্ষনেতাকে ফাঁসিতে ঝোলান হয়।

তার মধ্যে জামায়াতকে ইসির নিবন্ধন দেওয়াকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যান তরীকত ফেডারেশনের তৎকালীন মহাসচিব রেজাউল হক চাঁদপুরী, জাকের পার্টির মহাসচিব মুন্সি আবদুল লতিফসহ ২৫ জন।

সেই আবেদনে ২০১৩ সালের অগাস্টে হাই কোর্টের বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে নিবন্ধন দেওয়া অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়।

পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর ২০১৮ সালে নির্বাচন কমিশন জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করে।

নিবন্ধন বাতিলের পর জামায়াত সংসদ নির্বাচনে তাদের জোটসঙ্গী বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নিয়েছিল।

দীর্ঘ সময় বিএনপির সঙ্গে থাকা জামায়াত এখন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সঙ্গে জোটে না থাকলেও বিএনপির হরতাল অবরোধের সঙ্গে মিল রেখে একই কর্মসূচি দিয়ে আসছে।

পুরনো খবর

Also Read: জামায়াতের সভা নিষিদ্ধের আবেদন, আপিল বিভাগে শুনানি বৃহস্পতিবার

Also Read: এক দশক পর ঢাকায় জামায়াতের সমাবেশ, সরকার ও বিরোধীদের নিয়ে ঐক্যের ডাক

Also Read: জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের গেজেট এলো ৫ বছর পর 

Also Read: অভিমানে দূরে জামায়াত, নেই যুগপৎ আন্দোলনে

Also Read: জামায়াতের মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন

Also Read: হঠাৎ কৌতূহলের কেন্দ্রে জামায়াত