খরচের বোঝায় যোগ হল বাড়তি বাস ভাড়া, বাড়ল ১৬-২২%

জ্বালানি তেলের দাম অনেক বাড়ার পর এতটা অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা কীভাবে সামলাবেন তা নিয়ে সাধারণ মানুষ-ব্যবসায়ী সবার মধ্যেই শঙ্কা কাজ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 August 2022, 07:55 PM
Updated : 6 August 2022, 07:55 PM

এক লাফে জ্বালানি তেলের অনেক মূল্য বাড়ানোর প্রথম প্রভাব পড়ল বাস ভাড়ায়; পর্যায়ক্রমে গণপরিবহনের অন্য মাধ্যম আর পণ্যবাহী বাহনে বাড়ানোর বিষয়টি কার্যকর হলে অনেক কিছুতেই ‘বাড়তি’ অর্থ গুনতে হবে। সংসার সামলানোর চাপকে তা করে তুলবে আরও কঠিন।

বেশ কয়েক মাস থেকে নিত্যপণ্যসহ প্রায় সবখানেই উচ্চ মূল্য দিয়ে আসা মানুষজনকে শিগগিরই এই ‘নতুন দরের’ মুখোমুখি হতে হবে, যা শুরু হল বর্ধিত বাস ভাড়া দিয়ে।

যদিও আগের চেয়ে সবকিছু কতটা বাড়বে সেই দুশ্চিন্তা শুক্রবার থেকে ভাবনা আর উদ্বেগ তৈরি করেছে সাধারণের মাঝে।

কোভিড মহামারীর ধাক্কা সামলানোর মধ্যেই ইউক্রেইন যুদ্ধের প্রভাবে আট মাসের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বাড়ানোর পথে হাঁটতে হয় সরকারকে। হঠাৎ এক লাফে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসে চার ধরনের জ্বালানি তেলে।

এর প্রভাব কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা বুঝতে যদিও কেটে যাবে আরও কয়েকদিন। তবে সীমিত আয়ের মানুষের চিন্তায় দাম বাড়ানোর ঘোষণার পর থেকেই শঙ্কার ছায়া পড়তে শুরু করেছে। বাস ভাড়া বাড়ানোর মাধ্যমে বাড়তি ব্যয়ের বোঝা টানা শুরু হল।

শনিবার দিনভরই প্রতিক্রিয়া এসেছে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, ভোক্তা সংগঠন ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভও হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনবরত এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সরকারের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতি তুলে ধরে দাম বাড়ানোর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীসহ সরকারে থাকা আওয়ামী লীগের নেতারা এর বিকল্প ছিল না বলে যুক্তি তুলে ধরে এর সমর্থনে বক্তব্য রেখেছেন।

এসব নিয়ে নানামুখী আলোচনার মধ্যেই রাতে বাস ভাড়া ১৬ থেকে ২২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা আসে।

আট মাস আগে ২৭ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর চাপ সামলে ওঠার মধ্যেই আবারও গণপরিবহনে একটা বাড়তি ভাড়ার ধাক্কার মুখে পড়তে হচ্ছে সবাইকে।

স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দৈনন্দিন যাতায়াতে এতটা অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা কীভাবে সামলাবেন তা নিয়ে কারও কারও মধ্যে ভীতিও কাজ করছে।

এমন ঘনঘটায় অসহায়ত্বের কথা বললেন মিরপুরের উত্তর পীরের বাগের বাসিন্দা জহির উদ্দিন।

তার কথায়, “স্ত্রী ও দুই বাচ্চা নিয়ে আমার সংসার। ছোট একটি দোকান চালিয়ে সংসার চালাতাম। কিন্তু দুই বছর ধরে জীবন ধারণের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় একটি বীমা কোম্পানিতেও মাঠের কাজ করি।

“এই দুই কাজ করেও দুই বাচ্চার পড়াশোনার খরচ মিটিয়ে ঠিকমতো দুই বেলা খেতে-পরতে হিমশিম খাচ্ছি। এরমধ্যে যদি নতুন করে ব্যয় বাড়ে, তাহলে মনে হয় আর ঢাকায় থাকতে পারব না!”

দীর্ঘশ্বাস ফেলে জহির জানালেন, গ্রামে গিয়েও কিছু করার মতো তার অবলম্বন নেই।

সরকারের মধ্যে আলোচনা থাকলেও সাধারণের জন্য হঠাৎ করেই শুক্রবার রাতে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে অনেক বাড়ানোর ঘোষণা আসে, যা বরাবরের মত মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হয়।

বাস-ট্রাকের জ্বালানি ডিজেলের দাম ৪২.৫% বাড়িয়ে করা হয় প্রতি লিটার ১১৪ টাকা। ছোট গাড়ি ও মোটর বাইকের জ্বালানি পেট্রোলের দাম ৫১.১৬% বেড়ে প্রতি লিটার ১৩০ টাকা, অকটেনের দাম ৫১.৬৮% বেড়ে প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা করা হয়।

Also Read: ডিজেল ও কেরোসিনের দাম এক ধাক্কায় ৪২.৫%; অকটেন ও পেট্রোলে ৫১% বাড়ল

রাতের এ ঘোষণার পর গত নভেম্বরে ডিজেলের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ানোর পরের কয়েক দিনের বিশৃংখলা এড়াতে শনিবারই ভাড়া বাড়ানো নিয়ে বৈঠক হয়। এতে যথারীতি দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসে, যা রোববার থেকে কার্যকর হবে।

দূরপাল্লা এবং নগরী ও শহরে সরকার নতুন ভাড়া ঠিক করে দিলেও তা কীভাবে মানা হবে সেই সংশয় নিয়েই শুরু হবে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের যাত্রা।

অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নেওয়া হয়েছে বেশি, যা নিয়ে দিনভর শোরগোল বেঁধেছে জায়গায় জায়গায়।

কর্মস্থলে যাওয়া-আসার বেলায় সড়কে ও বাস টার্মিনালগুলোতে এ নিয়ে কী হয় তা ভাবাচ্ছে অনেককে। কেননা জ্বালানি তেলের দাম রাতের বেলা একবারে এতটা বাড়ানো নিয়ে হৈ চৈ আর প্রশ্ন তোলার মধ্যে শনিবার দিনের শুরুটাই হয়েছে ভোগান্তি নিয়ে।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানেই গণপরিবহন কমিয়ে দেওয়ায় ছুটির দিনেও যাত্রাপথে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে অনেককে। রাস্তায় নেমে বাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। অনেক জায়গাতেই বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও এসেছে।

বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে রাতে ভাড়া নিয়ে সুরাহা হলেও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সামনের দিনগুলোতে এ ধাক্কা কোথায় গিয়ে শেষ হবে সেই ভাবনা ফুরাচ্ছে না সবার।

নগরীতে বেড়েছে প্রতি কিমি ৩৫ পয়সা; দূরপাল্লায় ৪০ পয়সা

শুক্রবার রাতে একবারেই বাস-ট্রাকের জ্বালানি ডিজেলের দাম ৪২.৫% বেড়ে ৮০ টাকা থেকে করা হয় প্রতি লিটার ১১৪ টাকা। আট মাস আগে ২০২১ সালের নভেম্বরে বাড়ানো হয়েছিল ১৫ টাকা; ২৩ শতাংশ।

Also Read: বাস ভাড়া বাড়ল ২৭%

নতুন দর বাড়ানোর ঘোষণার পর বাসের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি অনুমিতই ছিল। আগেরবার এ নিয়ে ধর্মঘট বা বাস না চালানোর শোরগোলে অনেক জল ঘোলা হয়েছিল। এবার পরদিনই সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাস মালিকরা।

দীর্ঘ বৈঠক শেষে শনিবার রাতে বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে দূর পাল্লায় ৪০ পয়সা এবং নগরে ৩৫ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়।

পরিবহন মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।

দূর পাল্লায় আগের ভাড়া প্রতি কি.মি. ১ টাকা ৮০ পয়সার জায়গায় ৪০ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ২০ পয়সা করা হয়েছে; বেড়েছে ২২ শতাংশ।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১৬ শতাংশ বাড়িয়ে নতুন ভাড়া করা হয়েছে ২ টাকা ৫০ পয়সা। আগে ভাড়া ছিল ২ টাকা ১৫ পয়সা। প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বেড়েছে ৩৫ পয়সা।

ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর এবং নরসিংদী জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ- ডিটিসিএ এলাকায় ২ টাকা ০৫ পয়সা থেকে ভাড়া বাড়িয়ে করা হয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সা।

সভা শেষে ভাড়ার এ নতুন হার জানিয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার জানান, রোববার থেকে নতুন ভাড়া কার্যকর হবে।

ডিজেলচালিত বাসের ক্ষেত্রে এই ভাড়া প্রযোজ্য উল্লেখ করে বাসে সর্বনিম্ন ১০ টাকা এবং মিনিবাসে আগের ভাড়া ৮ টাকা বহাল রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ গত বছর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর দূরপাল্লার বাসের ভাড়া ২৭ শতাংশ এবং ঢাকায় ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়।

তখন দূরপাল্লার বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১ টাকা ৮০ পয়সা করা হয়। মহানগরীতে বিভিন্ন রুটের বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে করা হয় ২ টাকা ১৫ পয়সা।

মিনিবাসের ক্ষেত্রে ১ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৫ পয়সা করা হয়েছিল তখন।

এবার আরেক দফা ভাড়া বাড়াতে শনিবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ঢাকার বনানীতে বিআরটিএ প্রধান কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন পরিবহন মালিকরা। দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টার বৈঠক শেষে নতুন ভাড়ার হার ঘোষণা করা হয়।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক, পরিবহন শ্রমিক নেতারা। পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বেগ বেশি সাধারণের

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তা সরাসরি প্রভাব ফেলে অনেক কিছুতে। পরিবহনের ব্যয় বাড়ার ফলে পরোক্ষ প্রভাব পড়ে নিত্যপণ্যসহ বহু খাতে। যে কারণে সাধারণের মধ্যে ভয়টাও বেশি।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ে আগে থেকেই সংসার সামলাতে হিমশিম খাওয়া মানুষকে এবারের নজিরবিহীন দাম বাড়ানোর চাপ মোকাবিলা করে মাসিক খরচের নতুন হিসাব সাজাতে হবে।

এ কারণে দাম বাড়ানোর পর ক্ষুব্ধ অনেকেই জীবন-জীবিকা নিয়ে চরম উদ্বেগের কথা বলছেন, সেই সঙ্গে ঢাকায় টিকতে পারা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাও বলছেন অসহায় কণ্ঠে। আর ঢাকা ছেড়েইবা সহায়-সম্বলহীনরা কী করবেন, তার কূল-কিনারা ভেবে পাচ্ছেন না।

সরকার যা খুশি তাই করছে মন্তব্য করে বাগেরহাট শহরের বাসিন্দা ইব্রাহিম শেখ বলেন, জ্বালানি তেলের সাথে সবকিছুর সম্পর্ক জড়িত। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সবকিছুর দাম আবার নতুন করে বেড়ে যাবে।

“গরিব খেটে খাওয়া মানুষের বেঁচে থাকা আরও কঠিন হয়ে গেল। এখন মরে যাওয়া ছাড়া কোনো পথ দেখছি না।”

পণ্যের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে জ্বালানি তেল যে সরাসরি প্রভাব ফেলে, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে ডাইং কারখানায় রাসায়নিক সরবরাহকারী এক কোম্পানির কর্মকর্তা নাজমুল আহসান পারভেজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দেশে বিশেষ করে সকল ধরনের খাদ্য পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে এখন আমরা অনেক চাপে আছি। এর মধ্যে আবার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে নিশ্চিতভাবে নতুন করে বাড়বে সকল ধরনের পণ্যের দাম।”

তার মতে, “চাহিদা অনুযায়ী খেতে না পারলে এবার আঘাত আসবে আমার পুষ্টিতে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সাইফুল কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন পাঠাও, উবারের খরচ বেড়ে যাবে, বাসভাড়া বেড়ে যাবে। যাদের নিজেদের গাড়ি আছে, তারাও হিমশিম খাবে। যারা গণপরিবহনে যাতায়াত করে তারাও হিমশিম খাবে।

"এভাবে কি বাঁচা সম্ভব? একের পর এক জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলছে। মানুষ বাঁচবে কী করে?”

প্রশ্ন ব্যবসায়ীদেরও

দাম বাড়ালেও অতিরিক্ত কেন বাড়ানো হল সে প্রশ্ন তুলে হঠাৎ করে ‘এত বেশি’ মূল্য বৃদ্ধিকে সমর্থন করেন না বলে জানিয়েছেন দেশের প্রধান ব্যবসায়ী নেতারা।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করলেও কেন দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হল সেই প্রশ্নও তুলেছেন তারা।

এ বিষয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসীম উদ্দিন বলেন, “সরকার যখন কোনো পণ্য সরবরাহ করে সেই পণ্য বিক্রিতে লোকসান হলে দাম বাড়ানো সমর্থন করা উচিত। আমরাও সমর্থন করি।

“কিন্তু যখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে, তখন এত বেশি মূল্য বৃদ্ধি আমরা সমর্থন করছি না।”

তিনি বলেন, “দেশের মানুষ যখন মূল্যস্ফীতির চাপে তখন এভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ওপর এত মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।”

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ানো হয়েছে মানলাম। কিন্তু একবারে কি আপনি ১০০ শতাংশ বাড়িয়ে দিবেন?”

তিনি বলেন, “আমরা ব্যবসায়ীরা এটা সমর্থন করছি না। কারণ আমার পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয় কার্যক্রমে এটা ধরি নাই। যার কারণে আমরা হিমশিম খেয়ে যাব।”

প্রধান রপ্তানিখাত পোশাক শিল্প মালিকরাও এত বেশি হারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিকে নজিরবিহীন বলছেন।

বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কোনো ধরনের আলাপ, আলোচনা ছাড়া এভাবে নজিরবিহীন পরিমাণে তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় এখন আমরা চোখে অন্ধকার দেখছি।

বর্ধিত দাম প্রত্যাহার চায় যাত্রী কল্যাণ সমিতি

দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা মন্তব্য করে এই দুঃসময়ে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

শনিবার বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।

সমাবেশে সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম একলাফে প্রায় ৫০ শতাংশের কাছাকাছি বাড়ানোর ফলে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। পরিবহন ব্যয় দ্বিগুণ বেড়ে যাবে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য সাধারণ মানুষের সামর্থ্যরে বাইরে চলে যাবে।

তার অভিযোগ, সরকার বাসের ভাড়া বাড়িয়ে দিলেও নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী আদায় হচ্ছে কি না তা তদারকি করা বা বর্ধিত ভাড়া আদায় বন্ধে তেমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে না।

এমন প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ‘অযৌক্তিক ও গণবিরোধী’ দাবি করে তিনি অনতিবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার চান।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক