১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

খালিদীর মুখের দিকে তাকিয়ে মনে হল, তিনি এখনও জীবন্ত: মঈন খান

“খালিদী শুধু সংবাদ পরিবেশনের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার বিশ্লেষণও গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে বিবেচিত হবে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Oct 2026, 06:54 PM

Updated : 10 Oct 2026, 07:01 PM

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্রয়াণ এখনও ‘অবিশ্বাস্য’ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানের কাছে।

শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েও তার মনে হয়েছে, খালিদী বোধহয় এখনও ‘জীবন্ত’।

শনিবার দুপুরে বনানীর ওল্ড ডিওএইচএসের খেলার মাঠে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রয়াত প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জানাজার আগে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, তার বন্ধু, স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। সেই কাতারে শামিল হল মঈন খান।

তিনি বলেন, “কিছু বলব সে কারণে আসিনি এবং সেটা করাও খুব কঠিন।”

খালিদীর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সূত্র ধরেই তাদের পরিচয় হয়েছিল। পরে সেই সম্পর্ক ‘রূপ নেয় বন্ধুত্বে’।

বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় তৌফিক ইমরোজ খালিদীর অবদানের কথা তুলে ধরে মঈন খান বলেন, প্রচলিত ছাপা সংবাদপত্রের বাইরে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংবাদ পরিবেশনের যে নতুন ধারা তৈরি হয়েছে, তার পথিকৃৎ ছিলেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী।

তার হাত ধরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম দেশের মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেন মঈন খান। এমনকি বহুল প্রচারিত ছাপা সংবাদপত্রও একইভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে কী না, তা নিয়ে সন্দিহান তিনি।

মঈন খান বলেন, “খালিদী শুধু সংবাদ পরিবেশনের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার বিশ্লেষণও গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে বিবেচিত হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে মঈন খান বলেন, “তার মৃত্যুর সংবাদটি যখন পেয়েছি আমি অবাক হয়ে গিয়েছি এবং আমি আজকে পর্যন্ত বিশ্বাস করতে পারিনি, তার মুখের দিকে যখন একটু আগে তাকিয়েছি আমার মনে হচ্ছে তিনি জীবন্ত হয়ে আমার সামনে উপস্থিত হয়েছে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য।

ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে থাকা তৌফিক ইমরোজ খালিদী গত ১ অক্টোবর রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেইন্ট বার্থোলমিউ’স হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তার মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরদিন স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এরপর ৮ অক্টোবর জোহরের নামাজের পর পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেইন মসজিদে খালিদীর জানাজা হয়। সেখানে সাবেক সহকর্মী এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মরদেহ ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

এরপর কফিন নেওয়া হয় তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্রিয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের অফিস প্রাঙ্গণে। সেখানে মরদেহ রাখা হয় দুপুর ১২টা থেকে ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত।

এরপর সাংবাদিক খালিদীর মরদেহ নেওয়া হয় তার বাসায়। সেখানে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা শেষবার তাকে দেখেন।

এরপর শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মরদেহ নেওয়া হয় ওল্ড ডিওএইচএস খেলার মাঠে। সেখানে জানাজার পর বিকাল ৫টার দিকে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত হন তিনি।