তৌফিক ইমরোজ খালিদী দেশে ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে
বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস খেলার মাঠে হবে জানাজা।
বাংলাদেশের সংবাদ সেবাকে ডিজিটাল দুনিয়ায় পৌঁছে দেওয়ার পুরোধা, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রয়াত প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে কফিন গ্রহণ করেন তার ভাতিজা তারাফ তাজিজ খালিদী ও ভাগনি-জামাই আকিফ আহমেদ। এসময় সেখানে প্রয়াতের সহকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ১০টা ৫৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর কফিন ঢাকায় পৌঁছায়।
সেখান থেকে কফিন নেওয়া হবে প্রয়াতের বাসায়। সেখানে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা শেষবার তাকে দেখবেন।
এরপর দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত তার মরদেহ রাখা হবে বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস খেলার মাঠে। বন্ধু, স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ীসহ সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিরা সেখানে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। বেলা ৩টায় সেখানেই তার জানাজা হবে।
পরে বিকাল ৫টায় মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত হবেন সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদী।
ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে থাকা তৌফিক ইমরোজ খালিদী গত ১ অক্টোবর রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেইন্ট বার্থোলমিউ’স হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তার মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরদিন স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর ৮ অক্টোবর জোহরের নামাজের পর পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেইন মসজিদে খালিদীর জানাজা হয়। সেখানে সাবেক সহকর্মী এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার ছেলে, বাংলাদেশ নিউজ টোয়েন্টিফোর আওয়ার্স লিমিটেডের পরিচালক রাদ শারার খালিদী সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, “পেশাগত জীবনে আব্বার কিছু আদর্শ ছিল, যেগুলোর সঙ্গে তিনি কখনও আপস করতে চাননি। তিনি বিশ্বাস করতেন সাংবাদিকতা হওয়া উচিত সৎ, নির্ভীক এবং স্বাধীন। তার কাছে সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা ছিল না, এটা ছিল দায়িত্ব এবং প্যাশনের জায়গা।”
বাংলাদেশের আধুনিক সংবাদসেবার ইতিহাসে অনেক প্রথমের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নেতৃত্বেই দুই দশক আগে রচিত হয়েছিল এক ইতিহাস।
শুরুটা হয়েছিল ২০০৫ সালের প্রথমার্ধে। অন্যান্য বার্তা সংস্থার মত ‘বিডিনিউজ’ তখন সংবাদ মাধ্যমগুলোর জন্য খবর সরবরাহ করত। দেশের অন্য সংবাদ সংস্থাগুলো টেলিপ্রিন্টারে খবর সরবরাহ করলেও বিডিনিউজ এ কাজটি শুরু করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে।
২০০৬ সালে বার্তা সংস্থাটির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা বদলের পর এর খোল-নলচে বদলে যায়। ওই বছর জুলাই মাস সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নেতৃত্বে নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ সংবাদমাধ্যমকে দেশের প্রথম ডটকম কোম্পানির রূপ দেয়।
২৩ অক্টোবর নতুন আঙ্গিকে শুরু হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ২৪ ঘণ্টার পথচলা; বাংলাদেশে ডিজিটাল সংবাদ যুগের সূচনা তখনই।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সাংবাদিকতায় নাম লেখান ১৯৮৯ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতোকত্তোর শেষ করে তিনি যোগ দেন সানডে এক্সপ্রেস পত্রিকায়।
তিন দশকের বর্ণাঢ্য পেশাজীবনে তিনি দেশে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাংবাদিক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত তিনি লন্ডনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে কাজ করেন।
এর আগে তিনি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার এবং দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন।
