সাংবাদিকের বাসায় চুরি, পুলিশ ও ডিবির পর এবার তদন্তে পিবিআই
“পুলিশ এক নারীর কাছ থেকে মোবাইল উদ্ধার করলেও তিনি কার কাছ থেকে মোবাইলটা পেয়েছেন, তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।”
ঢাকার একজন সাংবাদিকের বাসায় চুরির মামলা তদন্তে থানা পুলিশ, পুলিশের গোয়েন্দা শাখা-ডিবির পর এবার দায়িত্ব পেল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই।
বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন।
আগামী ২৯ অক্টোরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকনুজ্জামান।
অনলাইন নিউজ পোর্টাল রাইজিংবিডি ডটকমের বিশেষ প্রতিবেদক মোহাম্মদ নঈমুদ্দীনের ডিআইটি এক্সটেনশন রোডের বাসায় ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর ভোররাতে চুরির হয়।
চোরেরা তার বাসা থেকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও নগদ টাকাসহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায়।
পরদিন পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক আপ্যায়ন সম্পাদক নঈমুদ্দীন।
মামলার তদন্তে গিয়ে পল্টন মডেল থানা পুলিশ চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থানার গাছুয়া গ্রামের এক নারীর কাছ থেকে মোবাইল উদ্ধার করে। তবে চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার কিংবা তাদের পরিচয় উদঘাটন করতে পারেনি। ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন পল্টন মডেল থানার এসআই বিমান তরফদার।
বাদী নারাজি দিলে আদালত তা মঞ্জুর করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা-ডিবিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্তভার পান ডিবির মতিঝিল জোনাল টিমের এসআই আমিনুর রহমান।
আসামি গ্রেপ্তার করতে না পারায় তিনিও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
এবারও আদালতে নারাজি দেন সাংবাদিক নঈমুদ্দিন। সেখানে তদন্ত কর্মকর্তার অবহেলা আছে বলে দাবি করা হয়।
বাদীপক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শহীদুল আলম রিজভী শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত অভিযোগের বিষয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক নঈমুদ্দীন বলেন, “পল্টন মডেল থানার ঠিক বিপরীত পাশে চুরির ঘটনা ঘটে। কিন্তু তারা অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে পারলো না। থানা পুলিশ এক নারীর কাছ থেকে মোবাইল উদ্ধার করলেও তিনি কার কাছ থেকে মোবাইলটা পেয়েছেন, তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
“এরপর ডিবি মামলার তদন্তভার পায়। তারা আমার সাথে যোগাযোগ না করেই আদালতে প্রতিবেদন দিয়ে দিল।”
