জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ: নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
দুদক বলছে, সব মিলিয়ে নুরুল ইসলামের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ১৮ কোটি ৯৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
ঘোষিত আয়ের বাইরে প্রায় ১৯ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ সোমবার সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, গুলশান আবাসিক এলাকায় একটি বাড়ির আংশিক মালিকানা এবং পূর্বাচল নতুন শহর আবাসিক প্রকল্পে সাতটি প্লটসহ নুরুল ইসলামের স্থাবর সম্পদের দাম দাঁড়ায় ২৩ কোটি ৪০ লাখ ৮৮ হাজার ৪৯৯ টাকা।
এ ছাড়া ডাচ-বাংলা ব্যাংকে ৮ কোটি ৩০ লাখ ৫১ হাজার ৪৫০ টাকার শেয়ার এবং নোমান গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ২৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকার শেয়ারসহ অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৩৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
অর্থাৎ স্থাবর ও অস্থাবর মিলে তার মোট সম্পদ হয় ৬২ কোটি ২১ লাখ টাকার।
২০২৪-২৫ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার দায়দেনা মাত্র ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ফলে দায়দেনা বাদে নেট সম্পদ দাঁড়ায় ৬২ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
২০১৬-১৭ করবর্ষে তার প্রদর্শিত নেট সম্পদ ছিল ৪৫ কোটি ১ লাখ টাকা। ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত মোট আয় বিবেচনা করে ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত তার মোট গ্রহণযোগ্য আয় দাঁড়ায় ৬৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।
একই সময়ে পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ২৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা এবং সঞ্চয় ও বৈধ উৎস থেকে আয় হয় ৪৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।
দুদক বলছে, সব মিলিয়ে নুরুল ইসলামের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ১৮ কোটি ৯৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
এজাহারে বলা হয়েছে, “এসব সম্পদ অসাধু উপায়ে অর্জন করে নিজ ভোগদখলে রেখে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এছাড়া ওই অবৈধ সম্পদ অর্জনে অন্যদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তে উদঘাটিত হতে পারে।”
এ বিষয়ে নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলামের বক্তব্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানতে পারেনি।
