Published : 08 May 2024, 12:42 PM
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে সকালটা কেটেছে কোনো ধরনের গোলযোগ ছাড়াই। তবে ভোটার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে কম।
বুধবার সকাল ৮টা থেকে দেশের ১৩৯ উপজেলায় ভোট শুরু হয়; চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এরমধ্যে ২২টিতে ইভিএমে ভোট হচ্ছে; বাকিগুলোয় ব্যালট পেপারে।
কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন থেকে ভোটের পরিস্থিতি তদারকি করছে আইন শৃঙ্খলা মনিটরিং সেল।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, সার্বিকভাবে প্রথম দুই ঘণ্টায় গড়ে ১০% এর কম ভোট পড়ার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। কেন্দ্রভিত্তিক তথ্য সব জায়গা থেকে ইসির অ্যাপে আপলোড দেওয়া হয়নি। ইভিএমের তথ্য দ্রুত পাওয়ায় একটা ধারণা মিলছে।
নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বেলা ১১টার দিকে বলেন, “সবখানে শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে। কোথাও কোনো গোলযোগ বা তেমন কোনো অনিয়মের তথ্য আমাদের কাছে এখনও আসেনি। ভোটার উপস্থিতি কম। প্রথম দুই ঘণ্টায় (সকাল ৮টা থেকে ১০ টা) কোথাও ৭%, কোথাও ৮% আবার কোথাও ৩% কেন্দ্রভিত্তিক ভোটার উপস্থিতির তথ্য পেয়েছি।”
কিছু প্রতিবেদন এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “ভোট শুরুর আগে বিধি ভঙ্গের কারণে সুনামগঞ্জের শাল্লায় প্রিসাইডিং অফিসারসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়। এছাড়া পাবনার সুজা নগর, কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় আটক করা হয়েছে কয়েকজনকে। আর ব্যালট পেপার কেন্দ্রে দিয়ে ফেরার পথে ময়মনসিংহের ঈম্বরগঞ্জের ইউএনও এর গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।”

• বুধবার সকাল ৮টায় নির্ধারিত সময়েই ১৩৯ উপজেলার প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কেন্দ্রে ভোট শুরু হয়েছে, যা একটানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে।
• এই ধাপে ভোটার আছেন ৩ কোটি ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ১০২ জন। মোট ১ হাজার ৬১৯ জন প্রার্থীর মধ্যে থেকে তারা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন।
• ১৩৯ উপজেলার মধ্যে ২২টিতে ইভিএমে ও বাকিগুলোতে প্রচলিত ব্যালট পেপারে ভোট চলছে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ করে চার মাসের মাথায় দেশজুড়ে উপজেলার এ ভোট হচ্ছে। এ নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করার জন্য 'সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে' জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ভোটে প্রভাব বিস্তার রোধে 'সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে'।
আওয়ামী লীগ নির্বাচন ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ দেখানোর কৌশলে উপজেলায় দলীয় মনোনয়ন বা প্রতীক দেয়নি। ফলে এ নির্বাচনে নৌকার কোনো প্রার্থী নেই, যদিও প্রার্থীদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের নেতা, তারা ভোট করছেন স্বতন্ত্র হিসেবে। বিএনপি এ নির্বাচনও বর্জন করছে।
সবশেষ ২০১৯ সালের পঞ্চম উপজেলা ভোটে গড়ে ৪১% এর বেশি ভোট পড়ে। ২০১৪ সালে চতুর্থ উপজেলা ভোটে ৬১% এবং তৃতীয় উপজেলা ভোটে ২০০৯ সালে ৬৭.৬৯% ভোট পড়ে।
১৯৮৫ সালে উপজেলা পরিষদ চালু হওয়ার পর ১৯৯০ ও ২০০৯ সালে একদিনেই ভোট হয়েছিল। ২০১৪ সালে চতুর্থ উপজেলা নির্বাচন ছয়টি ধাপে ও ২০১৯ সালে পাঁচ ধাপে পঞ্চম উপজেলা পরিষদের ভোট হয়।