Published : 14 Jul 2026, 12:06 AM
স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিনবছর বাড়ানোর পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে বাংলাদেশ।
সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালে এই উত্তরণের কথা থাকলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এই মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
সোমবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘের সংস্থা অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উচ্চ পর্যায়ের সভার সাধারণ বিতর্কে এলডিসি দেশগুলোর পক্ষে এ আহ্বান জানান তিনি।
প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, "বর্তমানে ১৪টি এলডিসির দেশ উত্তরণ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে এবং তাদের জন্য অব্যাহত আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।
"নজিরবিহীন রাজনৈতিক, সামষ্টিক অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং বাহ্যিক বিপর্যয়ের কারণে, বাংলাদেশ ও নেপাল তাদের প্রস্তুতিমূলক মেয়াদ ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিন বছর বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়েছে।"
এই অতিরিক্ত সময়কে একটি 'কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা' হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, "জটিল অভ্যন্তরীণ এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা উত্তরণগামী এলডিসিগুলোর জন্য, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি, মসৃণ উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো জোরদার করতে এই অতিরিক্ত সময় অপরিহার্য।"
এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের প্রক্রিয়া তিন বছর পেছাতে সরকারের করা আবেদনে জাতিসংঘের সাড়া মেলার তথ্য আগেই দিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়।
গত ২ জুন জাতিসংঘের ‘কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি’ (সিডিপি) এর ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার কথা তুলে ধরে মন্ত্রণালয় বলেছিল, এলডিসি হতে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সিডিপি ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেছে।
এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৮ সালে। চূড়ান্তভাবে উত্তরণের জন্য প্রস্তুতির সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে। কিন্তু কোভিড মহামারীর কারণে অতিরিক্ত সময় পাওয়া যায় দুই বছর। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু পরে সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়।
বাংলাদেশ একটি স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ইউরোপের রপ্তানি বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়ে এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলে সেই সুবিধা থাকার কথা নয়।
এলডিসি থেকে কোন দেশ বের হবে, সে বিষয়ে পর্যালোচনা করে সুপারিশ করে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) অধীন গঠিত সিডিপি।