Published : 23 Jul 2026, 04:55 PM
দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের বরফ গলানোর প্রক্রিয়ায় এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়া দিল্লিতে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন হবে। ১১ সদস্য দেশের এই সম্মেলনে বাইরের বিভিন্ন দেশকে বিশেষ অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানাতে পারে আয়োজক দেশ।
এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামকে প্রশ্ন করেছিলেন সাংবাদিকরা।
জবাবে তিনি বলেন, “আমন্ত্রণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসেছে, আমরা সেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠিয়েছি।”
এমন এক সময়ে এই আমন্ত্রণ এল, যখন টানাপড়েন কাটিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টার কথা বলছে দুই দেশ।
২০২৪ সালের অগাস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হয়।
এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ শুরু হয় দুই তরফেই।
ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পরপরই তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে দিল্লি যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ওই সময় ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তার হাতে ওই আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন।
তবে ভূরাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে তারেক রহমান সরকারপ্রধান হিসাবে তার প্রথম সফরের জন্য চীন বা ভারতকে বাদ দিয়ে মালয়েশিয়ায় যান।
তবে কুয়ালালামপুরের সঙ্গে বেইজিংকেও সফরসূচিতে রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। জুন মাসে সেই সফর থেকে তিনি ফেরার পরপরই সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়।
এর মধ্যে চলতি জুলাই মাসে দিল্লিতে বিমসটেক জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামছুল ইসলাম।
সম্পর্কে বরফ গলানোর উদ্যোগের মধ্যে প্রবীণ রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকা মিশনের প্রধান করে পাঠিয়েছে দিল্লি। ভারতে বাংলাদেশ মিশন প্রধান পদেও আসন্ন পরিবর্তনের খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ঢাকা ও দিল্লির দূরত্ব ঘোচানোর ‘কূটনীতিতে’ দীনেশ ত্রিবেদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা নিতে পারবেন বলে মনে করছে দিল্লি।
সম্পর্ক স্বাভাবিক করার অংশ হিসাবে ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরনের ভিসাও চালু করেছে ভারত।