Published : 18 Jul 2026, 08:24 PM
বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাসে কী কী সাফল্য এসেছে, সংবাদ সম্মেলন করে তার বিস্তারিত তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
এই সময়ে সরকার ‘বহুমাত্রিক অভূতপূর্ব সাফল্য’ অর্জন করেছে দাবি করে শনিবার তিনি বলেন, “পাঁচ মাসে আমরা দেখেছি প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে দৃশ্যমান সাফল্য এসেছে। এই সফলতা আমরা মোটা দাগে পাঁচটি বৃহৎ অর্জনে বিভক্ত করতে পারি।
“সেগুলো হচ্ছে- জনগণের আস্থা, ভালোবাসা ও সমর্থন, ইশতেহারের আলোকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থরক্ষা, স্বল্প সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের সফলতা, জনগণের স্বাধীনতা ও দেশের সার্বভৌমত্বের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ও গণমানুষের প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্র নায়কোচিত নেতৃত্ব।
“একইসঙ্গে একটি মানবিক, বৈষম্যহীন, নিরাপদ, মেধাভিত্তিক, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথকে সুগম করেছে। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার মূলত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকেও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।”
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার, পাচারের অর্থ ফেরত আনা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় সাশ্রয়ী ও দুর্নীতিমুক্ত পর্যালোচনা নিশ্চিত করে সরকার সুশাসনের দৃঢ় বার্তা দিয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি।
মুখপাত্র বলেন, “সাম্প্রতিক বন্যা দুর্গতদের পুনর্বাসন, বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতের বিনির্মাণ চলছে। পাঁচ মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ে অর্জিত সাফল্যকে ভিত্তি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন এবং সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনগণের প্রতি সরকার পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কবরী হলে সংবাদ সম্মেলনে সরকারের যেসব পদক্ষেপ সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়-
> শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ১৯ দিনে এবং মেহেরপুরের শিশু ধর্ষণ মামলার রায় ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করা।
> নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির পর মাত্র এক মাসে ১০টি রায় ঘোষণা।
> সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘হত্যাকারী’ মোজাফফর হোসেনকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার। এটি গোয়েন্দা সংস্থার একটি অভূতপূর্ব সাফল্য।
> আলোচিত তনু হত্যা মামলার আসামি এবং শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিকে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গ্রেপ্তার এবং দেশে প্রত্যর্পনের উদ্যোগ নেওয়া।
> পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার।
> জুলাই-অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদে ‘জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি আইন’ পাস। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান সম্পৃক্ত করে সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’ পাস এবং অপশক্তি আওয়ামী লীগের রাজনীতির ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।
> দণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ।
> বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রিপেইড মিটারে ধার্যকৃত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার।
> গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবা জোরদার। উপজেলা হাসপাতালগুলো ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণ। উপজেলা হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ সুবিধাসহ জরুরি বিভাগ, ইনডোর ও আউটডোর সেবা এবং আধুনিক প্যাথোলজি সুবিধা সার্বক্ষণিক চালু। প্রতিটি ইউনিয়নে প্রাথমিক হেলথকেয়ার ইউনিট গঠন এবং ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা হেলথ স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালু।
> সংসদীয় কার্যক্রমের প্রথম ২৫ কার্যদিবসের মধ্যে জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার সংশ্লিষ্ট ৯৪টি বিল পাস।
> পরিবেশ সুরক্ষায় দেশ জুড়ে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি। ঢাকা দূষণমুক্ত করতে প্রাথমিকভাবে ২৫০টি পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক বাস চালুর ঘোষণা। সড়কে এআই ক্যামেরা। চট্টগ্রাম বন্দরে স্বয়ংক্রিয় কার্গো রিলিজ ব্যবস্থা চালু এবং ঢাকার যানজট নিরসনে চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল মহানগরের বাইরে নেওয়ার নির্দেশ।
> অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ফলে মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেয়ে এখন ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং রিজার্ভ বর্তমানে ৩৬ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারে রূপান্তর।
> ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্রীড়াসহ সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন। ২০২৬-২৭ সালকে নজরুল বর্ষ ঘোষণা, সরকারি অনুষ্ঠানে ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে প্রাথমিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্টার্ট-আপ ও আইডিয়া কম্পিটিশন। শিক্ষার্থীদের সকল পর্যায়ের বৃত্তির সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি।
‘জাঁকজমক জীবন পরিহার করেছেন প্রধানমন্ত্রী’
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, “জাঁকজমক জীবন পরিহার করে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র পরিচালনায় যে অভিনব, জনকল্যাণমুখী ও সংবেদনশীল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা দেশের মানুষের মধ্যে গভীর আস্থা তৈরি করেছে।
“তার প্রটোকলহীন সাধারণ জীবনযাপন প্রমাণ করছে তিনি এ দেশে প্রতিটি শ্রেণি-পেশা, ধর্ম-বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠী সকলের প্রতিনিধি, তিনি জনতার প্রধানমন্ত্রী।”
তিনি বলেন, “একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রা শুরু করে মাত্র পাঁচ মাসে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করা কেবল তখনই সম্ভব, যখন সরকারের পেছনে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন ও আস্থা থাকে। তারেক রহমান সবসময় বিশ্বাস করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
“বিগত ১৫০ দিনে সরকার কেবল সমস্যার সমাধানই করিনি, বরং একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশের মজবুত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও এই অবারিত উদ্যম, দেশপ্রেম এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে চাই। এজন্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন।
উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপ্ট রাইটার মাহফুজুর রহমান, উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা, সাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক ও আশরোফা ইমদাদ, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার পামির সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।