Published : 16 May 2026, 01:38 AM
আগামী বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে এগিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী, যা নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা খাতের লোকজনের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কারো কারো ভাষ্য, পরীক্ষা এগিয়ে আনায় প্রস্তুতিতে ঘাটতি থেকে যাবে।
আবার ‘হুট করে’ নেওয়া এ সিদ্ধান্তের ফলে পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা দেখছেন কোনো কোনো মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।
কেউ আবার বলছেন, পরীক্ষা এগিয়ে আনা যেতে পারে, কিন্তু সেটা ২০২৭ সালে না করে ২০২৮ সাল থেকে করলে ভালো হত।
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদও জানিয়েছেন কেউ কেউ। তাদের ভাষ্য, পরীক্ষা এগিয়ে আসায় শিক্ষার্থীরা ‘সেশন জট’ থেকে মুক্তি পাবে। এছাড়া প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য ২৪ মাস সময়কে ‘যথেষ্ট’ মনে করছেন তারা।
২০২৭ সালে যারা এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষা দেবে, তাদের ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করতে হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রণীত নতুন শিক্ষাক্রমে। এরপর নবম শ্রেণিতে উঠে তাদের ফিরতে হয় ২০১০ সালের শিক্ষাক্রমে। আবার অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নবম শ্রেণিতে দুই-তিন মাস দেরিতে বই পাওয়ার অভিযোগও আছে তাদের।
আগামী বছরের এসএসসি ৭ জানুয়ারি থেকে এবং এইচএসসি ৬ জুন থেকে শুরু হবে বলে বৃহস্পতিবার বিকালে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
কোনো কোনো শিক্ষার্থী ২০ বছর বয়সে এইচএসসি ও সমমান সম্পন্ন করছেন মন্তব্য করে তাদের সময় রক্ষায় এ উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, "আমরা ক্রমান্বয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জীবন থেকে দুই বছর যেন নষ্ট না হয় সেই দিকে এগোচ্ছি। এটা তো আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এটাতো বোর্ড নিতে পারে না, মন্ত্রণালয় নেবে।"
এর আগে বুধবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সম্মেলনে কক্ষে এক সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ অংশীজনরা জানুয়ারিতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা এবং জুনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু নেওয়ার প্রস্তাব তোলেন।

আগামী বছরের দুই পরীক্ষার প্রস্তাবিত সূচিও প্রকাশ করা হয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে। এসএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত; আর ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হবে ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। এইচএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হবে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে।
একসময় ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি ও সমমান ও এপ্রিলে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজনের রেওয়াজ থাকলেও কোভিড মহামারী ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষাপঞ্জি ওলট-পালট হয়ে যায়। এ বছরের এসএসসি পরীক্ষা হয়েছে এপ্রিলে; জুলাইয়ে হবে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা।
পরীক্ষার্থী-অভিভাবকদের উৎকণ্ঠা
ঢাকার একটি স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ে ফারিহা হোসেন জাহীন, সে জানুয়ারিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তে শঙ্কিত হওয়ার কথা বলেছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জাহীন বলে, "গত কয়েক বছর ধরে এপ্রিলে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। তাই আমরাও ভেবেছিলাম আমাদের পরীক্ষাও এপ্রিলে হবে। কিন্তু হুট করে এ সিদ্ধান্ত। আমরা অন্যদের চেয়ে প্রস্তুতির জন্য তিন মাস সময় কম পাচ্ছি।"
এই শিক্ষার্থীর ভাষ্য, "আমরা ক্লাস সিক্স থেকে ক্লাস এইট পর্যন্ত নতুন শিক্ষাক্রমে পড়েছি। তারপর নাইন থেকে আবার পুরনো শিক্ষাক্রমে। এদিকে পরীক্ষা এগিয়ে আনা হল। আমরাই হই গিনিপিগ। এর থেকে যারা এখন ক্লাস নাইনে, তাদের পরীক্ষা এগিয়ে আনা হলে তারা এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে পারত।"
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বছরের শুরুতে বই বিতরণের কথা থাকলেও ২০২৫ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ের বই ছাপার কাজ শেষ হয় ২৪ মার্চ।
তাই ওই বছর নবম শ্রেণির বই পেতে এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল বলে জানাল আরেক এসএসসি পরীক্ষার্থী মাহিন শাহরিয়ার।
সে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলে, "সবার প্রস্তুতি নিয়ে একটা পরিকল্পনা থাকে। আমরা এমনিতেই নবম শ্রেণিতে বই পেয়েছি তিন মাস দেরিতে। তারপর যখন প্ল্যান ছিল জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারিতে রিভিশন দেব, তখন পরীক্ষা এগিয়ে এল। এখন সিলেবাস শেষ করা নিয়েই হিমশিম খেতে হবে।"
নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যক্রম শেষ করতে দুই শিক্ষাবর্ষ বা ২৪ মাস সময় থাকে। কিন্তু বছরের পর বছর শিক্ষার্থীরা এ পাঠ্যক্রম শেষ করতে ২৬ থেকে ২৭ মাস সময় পাচ্ছে।
তাই ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা প্রস্তুতি নেওয়ার যথাযথ সময় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মনে করছে মাহিন।

ঢাকার গৃহিণী তানুজা আকবরের মেয়ে ২০২৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় বসবে। তাই পরীক্ষা এগিয়ে আনার খবরে উদ্বিগ্ন এই অভিভাবক।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "ওরা ক্লাস নাইনে এপ্রিল মাসে বই পেয়েছে। এখন বাচ্চারা অলরেডি চার মাস পিছিয়ে আছে। ফেব্রুয়ারি মাসে রোজায় স্কুল ছুটি ছিল, এখন এসএসসি পরীক্ষার জন্য ক্লাস বন্ধ। এরপর কোরবানির ঈদ। বাচ্চারা সিলেবাস শেষ করবে কখন, আর রিভিশন দেবে কখন?
"তার ওপর এসব বাচ্চা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নতুন শিক্ষাক্রমে পড়াশোনা করেছে, যেখানে পড়ার কোনো চাপ ছিল না। নবম শ্রেণিতে পুরনো শিক্ষাক্রমে ফিরে গিয়ে পড়ার চাপে তাদের অবস্থা বেগতিক। অনেকে শেষ সময় রিভিশন দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু হুট করে পরীক্ষা এগিয়ে আনা হল।"
হুট করে সরকারের নেওয়া এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে আদালতে দ্বারস্থ হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
২৪ মাস যথেষ্ট?
নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যক্রম দুই শিক্ষাবর্ষ বা ২৪ মাসে শেষ করার মত করে প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এই সময়টা 'যথেষ্ট' বলে মনে করেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "১ জানুয়ারির ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। তাই শিক্ষার্থীরা কম সময় পাবে, এটা বলার সুযোগ নেই। তাদের ২৪ মাস সময় ডিসেম্বরে শেষ হবে, সে হিসাবে জানুয়ারিতে পরীক্ষা আয়োজন করা হবে।
"মন্ত্রণালয় বুধবার সশরীরে ও ভার্চুয়ালি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছ থেকে মতামত নিয়েছে। তারা জানুয়ারি মাসে এসএসসি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তাব তুলে ধরেছে। সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত এসেছে।"
২০২৫ সালে বই ছাপার কাজ মার্চে শেষ হলেও সব শিক্ষার্থীকে সে পর্যন্ত বইয়ের অপেক্ষায় থাকতে হয়নি বলে এহসানুল কবিরের ভাষ্য।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের মূল্যবান সময় রক্ষার জন্যই সরকার পরীক্ষা এগেয়ে এনেছে।
তবে সার্বিক পরিস্থিতি যাচাইয়ের জন্য এখনও সময় আছে মন্তব্য করে বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, "এখন যদি পরীক্ষার্থীরা বলে যে এটা ঠিক হয় নাই, তাহলে ঠিক হয় নাই। কিছুদিন পরেই এটা বোঝা যাবে। আপাতত তারা প্রস্তুতি নিক। আর আপাতত শিক্ষা বোর্ডগুলো পরীক্ষার প্রস্তাবিত সময়সূচি প্রকাশ করেছে। এটি চূড়ান্ত সূচি না।”


এইচএসসিও কি জানুয়ারিতে আসবে?
শিক্ষার্থীদের সময় রক্ষা করতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা এগিয়ে জানুয়ারিতে এসেছে। ক্রমান্বয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা বছরের শেষে নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথাও শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন।
তবে অধ্যাপক এহসানুল কবির বলছেন, এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতেই থাকবে; এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে এগিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, "প্রক্রিয়াগত কারণেই এসএসসি ও এইচএসসির মধ্যে কিছুটা সময় প্রয়োজন। কারণ এসএসসি দেওয়া শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশের পর তারা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় শুরু করতে পারেন। তাই এই দুই পরীক্ষার মধ্যে দুই মাস ব্যবধান রাখতে হবে।
"মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন, অপচয় হওয়া সময় যতটা সম্ভব কমিয়ে আনবেন। তাই আগামী বছরগুলোতে এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা এগিয়ে আসতে পারে। তবে তা জানুয়ারিতে আসবে না।"
বছরের শুরুতে দুটো পরীক্ষা আয়োজনে শিক্ষা বোর্ডগুলোকে বেগ পেতে হবে না বলে মনে করছেন খন্দোকার এহসানুল। প্রয়োজনে বোর্ডগুলোর সক্ষমতা কিছুটা বাড়ানো যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন তিনি।
'গিনিপিগ' না বানানোর অনুরোধ
হঠাৎ করে পরীক্ষা এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত ২০ লাখ পরীক্ষার্থীর মানসিক স্ব্যাস্থে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কাউন্সেলিং সাইকোজিস্ট’ ফজিলাতুন নেসা শাপলা।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "সেশন জট কমানোর উদ্যোগটা ভালো; তবে আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষায় যারা বসতে যাচ্ছে, তাদের জন্য হুট করে সময়সূচি পরিবর্তনের এই পরিকল্পনা বড় ধরনের মানসিক ধাক্কা হিসেবে কাজ করতে পারে।
"আমরা একবার এই শিক্ষার্থীদের কম চাপের জন্য নতুন শিক্ষাক্রমে তিন বছর পড়ালাম। তারপর হঠাৎ ওই শিক্ষাক্রম বাতিল করে আগের পরীক্ষানির্ভর শিক্ষাক্রমে ফেরালাম। তারপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ক্লাস নাইনের বইও তারা পেল দেরিতে। আবারও হুট করে তাদের পরীক্ষা তিন মাস এগিয়ে আনলাম। কৈশোরের মত সংবেদনশীল সময়ে এ ধরনের চাপ অনেকের পক্ষে সামলানো কঠিন হবে।"
এমন সিদ্ধান্ত শিশুদের মধ্যে 'অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ' সৃষ্টি করতে পারে মন্তব্য করে তিনি শিক্ষার্থীদের 'গিনিপিগ না বানাতে' সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
ফজিলাতুন নেসা শাপলা বলেন, "এংজাইটি থেকে ভয় সৃষ্টি হয়, আর ভয় থেকেই বাচ্চারা হাল ছেড়ে দেয়। এ সিদ্ধান্ত সময় নিয়ে নেওয়া যেত। এক বছর পর থেকে পরীক্ষা এগোনোর কথা বলা হলে বাচ্চারা চাপ সামলানোর সময় পেত।
"এখন এ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সারাজীবন দাবি করে যাবে, তারা এসএসসিতে ঠিকমত সময় পায়নি। তাদের মধ্যে অসাদুপায় অবলম্বন বা নকল করার প্রবণতাও বাড়তে পারে।"

পরীক্ষা এগিয়ে আনার উদ্যোগকে সাধুবাদ
পরীক্ষা এগিয়ে আনার বিষয়টিকে ‘ভালো সিদ্ধান্ত’ বলছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "এসএসসি থেকে এইচএসসি ফল প্রকাশ, তারপরে এইচএসসি পরীক্ষা ফল প্রকাশ এবং ভর্তি, এর মধ্যে বেশ কিছুটা সময় শিক্ষার্থীর জীবন থেকে চলে যাচ্ছে। পরীক্ষা এগিয়ে আনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের খরচ অনেকটা কমে আসবে। তারা খানিকটা আগেভাগেই কর্মজীবন শুরু করতে পারবে। পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় একটা জাগরণ আসবে।"
অন্য যে কোনো উদ্যোগের মত পরীক্ষা এগিয়ে আনার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ থাকলেও এর ফলে শিক্ষার্থীরাই লাভবান হবে বলে মনে করছেন এ শিক্ষক।
তিনি বলেন, "প্রথমবারের পরীক্ষার্থীরা এসএসসি এগিয়ে আনায় আপত্তি তুলতে পারে। তবে আস্তে আস্তে পরবর্তী ব্যাচ থেকে শিক্ষার্থীরা নতুন সময়ে পরীক্ষার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে।"
শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের সময় বাঁচাতে পরীক্ষা এগিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ঢাকা মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার, যিনি একসময় বিভিন্ন কলেজে পড়িয়েছেন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "নবম দশম শ্রেণির সিলেবাস ২৪ মাসে শেষ হওয়ার কথা। সে হিসেবে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়। তাই জানুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা কম সময় পাচ্ছেন- এমন দাবি করার সুযোগ নেই। এ উদ্যোগের ফলে সেশন জট কমে যাবে।"
শিক্ষাজীবন থেকে কিছুটা সময় রক্ষা পেলে তা কর্মজীবনে এই পরীক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক হবে বলে মনে করছেন সাবেক এই অধ্যাপক।
তার ভাষ্য, “এপ্রিল থেকে জুনে পরীক্ষা হয়। এই সময়টায় প্রাকৃতিক বিপর্যয় হয়, ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টি হয়। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে পরীক্ষা আয়োজন সহজ হবে। এটা গ্র্যাজুয়ালি যদি ওখানটায় নিয়ে আসতে পারে, এটা পরবর্তী সময়ে একটা প্রশংসনীয় উদ্যোগ হবে।”
পুরনো খবর