Published : 12 Jun 2026, 05:35 PM
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার একটি গ্রামে বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে নির্মাণ করা হচ্ছে ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির ১৬ ফুট উচ্চতার একটি ভাস্কর্য।
সেখানে নেইমারের প্রতিকৃতি ও ৩৬০ ফুট দীর্ঘ ব্রাজিলের পতাকাও টানানো হয়েছে।
উপজেলার বহুগ্রামে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উদ্যোগে ২২ মে থেকে ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভাস্কর্যটির বর্তমানে রং-তুলির কাজ চলছে।
সমর্থকদের আশা, ১৭ জুন আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগেই এর নির্মাণকাজ শেষ হবে।
ব্রাজিল সমর্থকেরাও নেইমারের বড় আকৃতির প্রতিকৃতি তৈরি করেছেন। পাশাপাশি বহুগ্রাম বাজারজুড়ে টানানো হয়েছে ৩৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ব্রাজিলের পতাকা।
শুধু আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিল নয়, বিশ্বকাপ উপলক্ষে গ্রামটিতে টানানো হয়েছে জার্মানি ও স্পেনের পতাকাও।
বড় পর্দায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে বিশ্বকাপের সব ম্যাচ গ্রামে সরাসরি দেখানোরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান ভাস্কর্য নির্মাণ ও বিশ্বকাপ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সজীব বিশ্বাস।
তিনি বলেন, “আমরা চাই, মেসির ভাস্কর্যের সামনে বসেই বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করতে। দর্শকদের জন্য আপ্যায়ন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।”
আর্জেটিনার সমর্থক প্রভাষ দাস, অলক বিশ্বাস, বাদল মণ্ডল বলেন, তাদের গ্রাম এরই মধ্যে ‘মেসির গ্রাম’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এটি মেসির শেষ বিশ্বকাপ। তাই তার জন্য এমন কিছু করেছেন, যেটা বাংলাদেশের কেউ করেনি। তাকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতেই এ ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে। এতে প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
ব্রাজিল সমর্থক সুধাংশু মজুমদার বলেন, “ব্রাজিলকে সমর্থন জানাতে আমরা ৩৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের পতাকা টানিয়েছি। এটি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে এটি দেখছে।”
ফুটবলপ্রেমী কল্লোল বিশ্বাস বলেন, “ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে। আমরা একসঙ্গে বসে খেলা দেখব, কোনো বিশৃঙ্খলা হবে না।”
স্থানীয় চা-দোকানি বিন্দু বাড়ৈ বলেন, “বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে এখানে চায়ের আড্ডা বসছে। দোকানে ভালো কেনাবেচা হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা নিহার মুখার্জী বলেন, “বিশ্বকাপকে ঘিরে দলীয় সমর্থন এবং মিলনমেলার পরিবেশ বহুগ্রামকে একটি উৎসবমুখর কেন্দ্রে পরিণত করেছে।”