Published : 31 Mar 2026, 09:50 PM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মুঘল আমলের মুসা খান মসজিদ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর; আর এ কাজে অর্থায়ন করছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার কার্জন হল এলাকার ওই মসজিদ প্রাঙ্গণে সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় আধুনিক ও উপযোগী সংরক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করে মসজিদের পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করা হবে, এক্ষেত্রে মুঘল স্থাপত্যের মূল বৈশিষ্ট্য ও উপকরণ অক্ষুণ্ণ রাখা হবে।
একইসঙ্গে মসজিদটির ফটোরিয়ালিস্টিক থ্রিডি মডেলসহ বিস্তারিত স্থাপত্য নথিপত্র প্রস্তুত করা হবে এ প্রকল্পের আওতায়।
পরিবেশগত ভারসাম্য ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হেরিটেজ ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (এইচআইএ) প্রণয়নের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি ও সাইটের পরিবেশ উন্নয়ন করা হবে বলে জানিয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কার্জন হল প্রাঙ্গণে অবস্থিত মুসা খান মসজিদটি মুঘল আমলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য নিদর্শন, যা অষ্টাদশ শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
“এটি একটি উঁচু প্ল্যাটফর্মের উপর নির্মিত তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ, যা বাংলার মুঘল স্থাপত্যের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য বহন করে।”
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বলেছে, “ঐতিহাসিকভাবে মসজিদটি বারো ভূঁইয়া নেতা ঈসা খানের পুত্র মুসা খানের সাথে সম্পৃক্ত বলে জানা যায়। মসজিদের নিচে অবস্থিত ভল্টেড চেম্বারসমূহ এর স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে, যা মসজিদটি মাদ্রাসা হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিত প্রদান করে।”
মুসা খান মসজিদ ১৯৯৫ সালের ৬ জুলাই ‘সংরক্ষিত পুরাকীর্তি’ হিসেবে গেজেটভুক্ত করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। এছাড়া ‘মুঘল মস্ক অব বাংলাদেশ’ শিরোনামে একাধিক মুঘল মসজিদের সঙ্গে এটিকে ইউনেস্কোর ‘সম্ভাব্য তালিকায়’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
মুসা খান মসজিদের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “এই প্রকল্প বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অবিচল বন্ধুত্বের প্রকাশ ঘটাচ্ছে এবং এটি ঐতিহ্য সংরক্ষণে আমাদের দুদেশের অভিন্ন প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। আমাদের কয়েক হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরই অংশ এই মসজিদ।”

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, “অ্যাম্বাসেডর্স ফান্ডে এটি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ প্রকল্প। প্রত্নতত্ত্ব ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকল্প আমরা করেছি।”
অনুদানের অধীনে লালবাগ কেল্লা সংরক্ষণ এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার কথা তিনি বলেন।
এই ধরনের প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, “বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয় এই অনুদান। বাংলাদেশি প্রকল্পগুলো বারংবার অসাধারণ হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।