Published : 19 Oct 2025, 08:12 PM
মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ভাতা এবং সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে সোমবার ঢাকায় কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীরা।
তারা বলেছেন, একইসঙ্গে শিক্ষকদের ‘আমরণ অনশন’ কর্মসূচি চলবে।
রোববার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অষ্টম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি থেকে আন্দোলনরত শিক্ষক সংগঠনগুলোর মোর্চা এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, “বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। তিনি আমাদের বলেছেন, অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আমাদের দাবি নিয়ে কথা বলবেন। আর আগামী ২২ অক্টোবর তিনি শিক্ষকদের মাঝে উপস্থিত হবেন বলে জানিয়েছেন।
“ডিএমপি কমিশনার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিছুটা সময় চেয়েছেন। আমরা সোমবার জাতীয় শহীদ মিনারে লক্ষ লক্ষ শিক্ষকদের উপস্থিতিতে শিক্ষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।”
আমরণ অনশন কর্মসূচিও চলবে আর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করবেন বলেও এই শিক্ষক নেতা বলেছেন।
এদিন সন্ধ্যায় শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম শিক্ষকদের দাবি মেনে নিতে সরকারকে অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, “আমি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে অনুরোধ জানাবো শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আপনারা মেনে নিন। অন্তর্বর্তী সরকারকে অনুরোধ করবো আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের সঙ্গে বসে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুন।”

শিক্ষকদের ওপর পুলিশের ‘হামলার’ প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকারের জন্য গত আট দিন শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন। যেভাবে ফ্যাসিস্ট হাসিনা আন্দোলন দমাতেন একইভাবে শিক্ষকদের দমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।”
আট দিন ধরে শিক্ষকরা আন্দোলন করার পরও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে দাবি করে ডাকসুর ভিপি বলেন, “আমরা হতাশ হচ্ছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষক, শিক্ষা উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা ও জ্বালানি উপদেষ্টা শিক্ষক। অন্তর্বর্তী সরকারে আমরা যাদের দেখতে পাই তারা সবাই শিক্ষক। শিক্ষক হয়ে শিক্ষকদের বঞ্চনা ও ন্যায্য অধিকার আপনারা অনুধাবন করতে পারছেন না।
“আপনাদের ভোগ বিলাস করতে পাঠাই নাই। আপনারা যদি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে না নেন তাহলে খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের যে পরিণতি হয়েছিল আপনাদের একই পরিণতি হবে।
“আমরা সারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থী সমাজ শিক্ষকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি।”
শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৪০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ভাতা দেওয়া শিক্ষা প্রশাসনের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন সাদিক কায়েম।
মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ভাতা, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চিকিৎসাভাতা ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা করা এবং এমপিওভুক্ত কর্মচারীদের উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করার দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের ব্যানারে ১২ অক্টোবর থেকে আন্দোলন করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
বৃহস্পতিবার তারা সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিও যুক্ত করেন এবং ‘আমরণ অনশন’ কর্মসূচি দেন।
সেদিন সরকারের তরফে শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৫ শতাংশ বা ন্যূনতম ২ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষকরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
রোববার বিকাল পৌনে ৪টায় আন্দোলনরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা থালা-বাটি হাতে ‘ভুখা মিছিল’ নিয়ে শিক্ষা ভবনের দিকে আসার চেষ্টা করলে হাইকোর্টের মাজার গেইটে তাদের আটকে দেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। বিকাল পৌনে ৫টায় তারা শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচিতে ফিরে যান।
আন্দোলনের মধ্যেই এদিন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৫ শতাংশ অথবা সর্বনিম্ম ২ হাজার টাকা করে সরকার। তবে শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ভাতার দাবিতে অনড়। তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে শিক্ষকদের ওপর ‘পুলিশি হামলার’ প্রতিবাদে ১৩ অক্টোবর থেকে সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাগাতার কর্মবিরতিও শুরু করেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।
রোববার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি ‘মার্চ টু যমুনা’ ফের ঘোষণা করলেও তা আয়োজন করেননি শিক্ষকরা। এর আগে বৃহস্পতিবার এই কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন তারা।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা প্রথম দফায় ৫০০ টাকা বাড়িয়েছিল সরকার; তবে গত ৫ অক্টোবর এই ঘোষণা প্রকাশ্যে এলে শিক্ষকরা তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনের ডাক দেন।
এরপর গত ৬ অক্টোবর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা অন্তত ২ হাজার বা ৩ হাজার টাকা করার প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন পান। তারা মূল বেতনের সঙ্গে মাসে ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। আর ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া ভাতা পেতেন, যা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আগে বছরে ২৫ শতাংশ হারে বছরে দুইটি উৎসব ভাতা পেলেও গত মে মাসে বাড়ানোর পর তারা ও এমপিওভুক্ত কর্মচারীরা মূল বেতনের ৫০ শাতাংশ হারে উৎসব ভাতা পাচ্ছেন।